2,497 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (-1 পয়েন্ট)
কুরআনের আলোক সঠিক অর্থটি জানতে চাই।এবং কুরঅানের কোথায় এ সম্পর্কিত কথা উল্লেখ আছে?

2 উত্তর

2 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (4,426 পয়েন্ট)
বাইয়াত এটি আরবী শব্দ; যার অর্থ হলো- আনুগত্যের চুক্তি, আনুগত্যের শপথ, আনু্ষ্ঠানিক আনুগত্য। ইত্যাদি।
1 টি পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (355 পয়েন্ট)
বাইয়াত শব্দটি আরবি- শব্দ থেকে
গথিত। ‘বাইয়’ অর্থ বেচা-কেনা,লেন-
দেন, বিক্রি করা-খরিদ করা। এ শব্দটি
বিক্রয় ও খরিদ উভয় অর্থেই ব্যবহার
করা হয়। তবে এর আসল অর্থ বিক্রয়য়।
জিনিস দিয়ে দাম নেয়ার নাম আরবি
এভাবেই আরবি অর্থ বিক্রি ও আরবি
অর্থ ক্রয়য়। যেহেতু বিক্রয় ছাড়া ক্রয়
হতে পারেনা, এবং ক্রয় ছাড়া বিক্রয়
হতে পারে না সেহেতু এ দু’টো শব্দই
উভয় অর্থেই বাইয়াত ব্যবহার করা হয়ে
থাকে। অবশ্য বিক্রয়ের কাজটাকেই
বাইয়াত বলা হয়। আরবি শব্দের মূল অর্থ
বিক্রয় বটে, কিন্তু এর গৌণ (secondary)
অর্থ হলো চুক্তি,শপথ, অংগীকার।
বেচা-কেনার ব্যাপারে ক্রেতার ও
বিক্রেতার মধ্যে যেসব শর্ত(terms) ঠিক
করা হয় তা মেনে নেয়ার চুক্তির
ভিত্তিতেই লেন-দেন হয়ে থাকে।
এভাবেই বাইয়াত শব্দটি
চুক্তি,শপথ,অঙ্গীকার শ্রদ্ধা প্রদর্শন
আনুগত্য স্বীকার ইত্যাদি অর্থে ব্যবহার
করা হয়।
আরবি শব্দের ক্রিয়া-বাচক শব্দ হলো
আরবি এর অর্থ শুধু বিক্রয় শব্দেই
সীমাবদ্ধ নয়। এর অর্থ হয় চুক্তি করা,
সম্মান প্রদর্শন করা, নেতৃত্ব মেনে
নেয়া, আনুগত্যের শপথ করা, বিক্রয়ের
জন্য পেশ করা, চুক্তি চূড়ান্ত করা এবং
ব্যবসায় লেন-দেন করা ইত্যাদি।
বিখ্যাত আরবি-ইংরেজি অভিধান
আরবি যার সংকলক MILTON COWAN,
তাতে আরবি অর্থ লিখা হয়েছেঃ
To sell, to make a contract, to pay
homage, to acknowledge as sovereign or
leader, to pledge allegiance, to offer for
sale, to agree on the term of a sell, to
buy, to purchase etc.
এ অভিধানে আরবি অর্থ লিখা হয়েছে-
agreement, arrangement, business deal,
commercial transaction, bargain, sale,
purchase, homage etc.
কুরআনে এ পরিভাষার
ব্যবহার
কুরআন মজীদে বাইয় শব্দটি বেচা-
কেনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রুজি
রোজগারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন রকম
কাজে লেগে থাকার অর্থে কয়েকটি
সূরায় ব্যবহার করা হয়েছে।
আরবি
‘জুমআর দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা
হয় তখন আল্লাহ্র যিকরের দিকে
দৌড়াও এবং বেচা-কেনা বাদ দাও।’
সূরা জুমআঃ৯ আয়াত)
আরবি
সেসব লোক যাদেরকে ব্যবসা,বেচা
কেনা ও কাজ কারবার ইত্যাদি কোন
কিছুই আল্লাহ্র যিকর থেকে গাফেল
করে দেয় না।
সূরা নুরঃ ৩৭
এ দুটো আয়াতে জীবিকা অর্জনের সব
রকম ব্যাবস্থাকেই বাইয় শব্দ দ্বারা
প্রকাশ করা হয়েছে।
সূরা তাওবা,সুরা ফাতহ, সূরা মুমতাহিনায়
বাইয় শব্দটি রুপকভাবে বিক্রয় অর্থেই
ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এখানে
বিক্রয় মানে নিজের সত্তা ও জান-
মালকে কোন মহান উদ্দেশ্য আল্লাহ্ ও
রাসুলের নিকট সমর্পণ করার চুক্তিতে
আবদ্ধ হওয়া বা ওয়াদা করা।
আরবি
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মুমিনদের জান ও মাল
বেহেশতের বদলে কিনে নিয়েছেন। তার
আল্লাহ্র পথে লড়াই করে,(দুশমনকে)
মারে এবং নিজেরাও নিহত হয়।
তাওরাত,ইঞ্জিল, ও কুরআনে তাদের
জন্ন(বেহসত দেয়ার এ ওয়াদা) আল্লাহ্র
দায়িত্ব একটা পাকা ওয়াদা, আল্লাহ্র
চেয়ে বেশী ওয়াদা পূরণকারী আর কে
আছে? সুতরাং তোমরা যে বাইয়াত
করেছ সে বিসয়ে তোমরা সন্তুষ্ট থাক।
এটাই সবচেয়ে বড় কামিয়াবি।’ সূরা
তাবা ১১১
আরবি
‘হে রাসুল! যেসব লোক আপনার নিকট
বাইয়াত হচ্ছিল। তাদের হাতের উপর
আল্লাহ্র কুদরতের হাত ছিল। সূরা ফাতহ
১৮
আরবি
‘হে নবী! আপনার নিকট যদি মেয়েরা এ
কথার উপর বাইয়াত হবার জন্য আসে যে
তারা আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরিক
করবেনা, চুরি করবেনা,যিনা করবেনা,
তাদের সন্তান হত্যা করবেনা, নিজেরা
কোন অপবাদ রচনা করে আনবে না ও
ন্যায্য ব্যাপারে আপনার অবাধ্য হবে
না, তা হলে আপনি তাদের বাইয়াত
কবুল করুন। নিশ্চয় আল্লাহ্ অতি
ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’ সূরা মুমতাহিনা
১২
এ কয়টি আয়াতে বাইয়াত শব্দটি
নির্দিষ্ট অর্থে ইসলামী পরিভাষা
হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সূরা
তওবাতে জান ও মাল আল্লাহ্র নিকট
সমর্পণ করার অর্থে, সূরা ফাতহে
রাসুলের নির্দেশে মৃত্যুবরণ করার অর্থে
এবং সূরা মুমাতাহিনায় আল্লাহ্ ও
রাসুলের সাথে নাফরমানি না করার
ওয়াদার অর্থে বাইয়াত কথাটি ব্যবহৃত
হয়েছে। আল্লাহ্ ও রাসুলের পূর্ণ
আনুগত্যের শপথই এসব বাইয়াতের আসল
উদ্দেশ্য।
সূরা তাওবাতে বাইয়াতে মানে
মুমিনদের জান ও মালকে আল্লাহ্র
মরজি মতো কাজে লাগাবার এবং
নিজেদের খেয়াল এবং খুশি মতো
ব্যবহার না করার ওয়াদা। সূরা ফাতহে
বাইয়াত মানে রাসুল সাঃ এর নির্দেশে
জীবন দেয়ার শপথ করা।হুদাইবিয়ার
সন্ধির পূর্বে হযরত ওসমান রাঃ কে
মক্কাবাসীরা হত্যা করেছে বলে গুজব
শুনে কুরাইশদের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র
অবস্থায়ও উপস্থিত সকল সাহাবা যুদ্ধ
করতে প্রস্তুত বলে ঐ শপথ করেছিলেন।
আর সূরা মুমতাহিনাতে আল্লাহ্ ও
রাসুলের অবাধ্য না হওয়ার ওয়াদাই
বায়াতের উদ্দেশ্য। সুতরাং এসব কয়টি
আয়াতেই বাইয়াতের সারমর্ম হল
মুমিনের জান মাল,ইচ্ছা- বাসনা,রথাত
পূর্ব সত্তাকে আল্লাহ্র মর্জির নিকট
সমর্পণ করা। এটাই ইসলাম কবুলের
মর্মকথা। ইসলাম শব্দের অর্থও
আত্নশমর্পন। বাইয়াতের মাধ্যমে
আত্নশমর্পনের বাহ্যিকরূপ প্রকাশ পায়।
করেছেন (8,576 পয়েন্ট)
পূনঃপ্রদর্শিত করেছেন
আপনার উত্তরের সূত্রটা দিবেন?
টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
30 জুন 2015 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোঃ মাহবুব-আল-রশীদ (-1 পয়েন্ট)
1 উত্তর
1 উত্তর
02 জুলাই 2015 "পবিত্র কুরআন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোঃ মাহবুব-আল-রশীদ (-1 পয়েন্ট)

282,929 টি প্রশ্ন

367,227 টি উত্তর

110,581 টি মন্তব্য

152,582 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...