7,171 জন দেখেছেন
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (1,170 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (6,525 পয়েন্ট)

#9 মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কসনকে কথ্য ভাষায় হার্ট এ্যাটাক বলা হয়। প্রতি মিনিটে প্রায় ৭২ বার স্পন্দনের মাধ্যমে হৃদযন্ত্র সারাদেহে পাম্পের মত রক্ত সরবরাহ করে। এই হৃদযন্ত্র হঠাৎ ঠিকমত কাজ না করলে সেটা সারা দেহের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে।

 

হৃদযন্ত্রের পেশীর দূর্বলতা কিংবা কিংবা কোলস্টেরল জমে ধমনীর রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টির ফলে হৃদযন্ত্রে রক্তাল্পতা জনিত কারণে অক্সিজেনের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে হার্ট এ্যাটাক হয়। হার্ট এ্যাটাকের সময় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। অবশ্য অনেক সময় রোগী বুকে ব্যাথা অনুভব করেন এবং সেটা কিছু সময় পর সেরে যায়। এটি অ্যাঞ্জিনা পেক্টোরিস নামে পরিচিত।

 

কারণ

স্যাচুরেটেড বা সম্পৃক্ত চর্বি হৃদপিন্ডের ধমনীতে জমে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এটি। তখন রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

 

যাদের ঝুঁকি বেশি:

মধ্য বয়সী,
রক্তে কোলস্টেরলের পরিমাণ বেশি আছে এমন ব্যক্তি,
ডায়বেটিস রোগী,
ধূমপায়ী,
অতিরিক্ত ওজন আছে এমন ব্যক্তি,
উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন ব্যক্তি,
পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস,
চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তি।
 

হার্ট এ্যাটাকের লক্ষণ

বুকে প্রচন্ড ব্যথা, বুকে চাপ, যন্ত্রণা, ভারী লাগা। সাধারণত বুকের সামনের দিকের মধ্যভাগের হাড়ের পিছনে ব্যথা শুরু হয়। ব্যাথা থেকে তীব্রতর হতে থাকে এবং অধিক ওজন বোধ করে।
Angised (glyceryl trinitrate)বড়ি জীহবার নীচে রাখলেও ব্যাথা কমে না।
বিস্তারঃ ব্যথা বুক থেকে গলার বাম দিকে, বাম বাহু ও হাত পর্যন্ত বিস্তৃত হতে থাকে।
বমি বা বমির ভাবহাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা,
মাথা ঝিমঝিম করা,
প্রচুর ঘাম,
দম বন্ধ হয়ে আসা, শ্বাস কষ্ট,
ভয়, উদ্ধেগ, আকুল মুখচ্ছবি,
ক্ষীণ ও দ্রুত পালস (নাড়ির গতি),
মৃত্যুর ভয়,
নিম্ন গতি ও রক্তচাপ ইত্যাদি
১৫/২০ ভাগ ক্ষেত্রে হার্ট এ্যাটাক নীরব বা বেদনাহীন বিশেষতঃ প্রবীণ ব্যক্তিদের বেলায়।
 

করণীয়:
হার্ট এ্যাটাক হয়েছে মনে হলে বা বুকে ব্যাথা অনুভব করলে প্রথমেই জিভের নিচে Angised  বা অন্য কোন glyceryl trinitrate ট্যাবলেট কিংবা স্প্রে নিতে হবে। পরিস্থিতি গুরুতর মনে হলে ৩০০ মিলিগ্রামের অ্যাসপিরিন বড়ি পানিতে গুলে কিংবা চিবিয়ে খেতে হবে। অ্যাসপিরিন রক্তকে তরল করে, জমাট বাঁধতে দেয় না। অ্যাসপিরিন কিভাবে কখন খেতে হবে সেটা আগেই চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।

এরপর যত দ্রত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। হৃদরোগের চিকিৎসা দেয়া হয় এমন হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করা উচিত। ঢাকায় ল্যাব এইড হাসপাতাল, ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালে হৃদরোগীদের জন্য জরুরি বিভাগ আছে।

হাসপাতালে পোঁছার পূর্ব পর্যন্ত রোগী যাতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিরোধ:

ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে, সিগারেটের নিকোটিন রক্তনালীকে সংকুচিত করে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে,
দুশ্চিন্তা পরিহার করতে হবে
ওজন, ডায়বেটিস এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে,
হাঁটাহাঁটির অভ্যাস রাখতে হবে, ব্যায়্যাম করতে হবে,
সম্পৃক্ত চর্বি; যেমন গরুর মাংস, মাখন, ঘি ইত্যাদি পরিহার করতে হবে,
অসম্পৃক্ত চর্বি যেমন সয়াবিন তেল, মাছ, মাছের তেল, ইত্যাদি ভালো,
মদ্যপান এবং কফি পান পরিহার করতে হবে,
লবণ খাওয়া কমাতে হবে,
আঁশ সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে,
নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে, চিকিৎসক না বললে ওষুধ বাদ দেয়া যাবে না।
 

হার্ট এ্যাটক হলেই মৃত্যু অবধারিত নয়, সময় মত ব্যবস্থা নিলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। এরপর নিয়ম মেনে জীবনযাপন করলে পুনরায় হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি এড়ানো যায়।


মোঃ আরিফুল ইসলাম বিস্ময় ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা। খানিকটা অস্তিত্বের তাগিদে আর দেশের জন্য বাংলা ভাষায় কিছু করার উদ্যোগেই ২০১৩ সালে তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে বিস্ময় ডট কম। পেশাগত ভাবে প্রোগ্রামার।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
09 মার্চ 2014 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন hasanrpi (1,177 পয়েন্ট)
1 উত্তর
1 উত্তর

229,752 টি প্রশ্ন

294,614 টি উত্তর

81,498 টি মন্তব্য

115,274 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
  1. মোঃ খোকন মিয়া

    810 পয়েন্টস

  2. আল আমিন ভাই

    780 পয়েন্টস

  3. Porimol ray

    760 পয়েন্টস

  4. Sabirul Islam

    748 পয়েন্টস

  5. Samiul islam Sagor

    742 পয়েন্টস

* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...