307 জন দেখেছেন
"সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (1,167 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (1,167 পয়েন্ট)
আখতার হামিদ খান
15 মে 2015 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (64 পয়েন্ট) অধ্যক্ষ আখতার হামিদ খান কোথায় অধ্যাপনা করতেন?
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (430 পয়েন্ট)
আখতার হামিদ খান

মন্তব্যবের উত্তরঃ
আখতার হামিদ খান তার কর্মজীবনে কৃষকদের দুর্দশা অবলোকন করেছিলেন। তিনি ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুলাই ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বেরিলীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ইংরেজিতে সাহিত্যে এমএ, পরবর্তীতে আইসিএস পাশ করে বৃটিশ ভারতের শীর্ষ  প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ লাভ করেন। কর্মজীবনে সর্বপ্রথম আইসিএস প্রবেশনার ম্যাজিস্ট্রেট পদে কুমিল্লা কালেক্টরেট-এ যোগদান করেন। পরবর্তীতে এসডিএম হয়ে পটুয়াখালী, তমলুক, নওগাঁ এবং নেত্রকোণা মহকুমায় দক্ষতার সাথে চাকুরী করেন। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বৃটিশ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে চাকুরী ছেড়ে দেন। চাকুরী থেকে পদত্যাগ করার পর গরীব জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা, দুঃখ ইত্যাদি নেতিবাচক বিষয়গুলি সম্পর্কে  বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য নিম্ন আয়ের  লোকদের পেশা গ্রহণ করেন, যা একটি বিরল ঘটনা। তালা মিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রী, গাভীপালন, কৃষিকাজ করেন এবং  দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনের দুঃখ দুর্দশাগুলি নিজের জীবনে ধারণ করে বুঝতে চেষ্টা করেন, যা আর কোন দ্বিতীয় ব্যক্তির জীবনে আজো খুঁজে পাওয়া যায় না। দরিদ্র মানুষের প্রতি সবারই কম বেশী সহানুভূতি ও দয়া থাকে। কিন্তু একজন আইসিএস অফিসার হয়ে নিম্ন আয়ের পেশা গ্রহণ করে দরিদ্রের দুঃখ বুঝার জন্য যে ভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন তার কোন দ্বিতীয় নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। ‘সমারসেট মঅম’  যা দেখেছিলেন তা তার ভ্রমণ কাহিনীতে লিখে গেছেন। এর বেশী আর কিছু করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু আখতার হামিদ খান শুধু গরীব মানুষের জীবনের দুঃখ কষ্ট দেখেই ক্ষান্ত ছিলেন না। তিনি এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভিতরে সুপ্ত শক্তি সম্ভাবনা ও সৃষ্টিশীলতার অস্তিত্বকেও অবলোকন করেছিলেন। তিনি সঠিক ভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই সৃষ্টিশীলতা বা শক্তি সম্ভাবনাকে যদি জাগিয়ে দিয়ে বিকশিত করা যায় তাহলে তারাই হবে এক অজেয় শক্তির অধিকারী এবং তারাই হবে তাদের ভাগ্য নিয়ন্তা। পরবর্তীতে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে কলেজের প্রথম মুসলিম অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তদানীন্তন পাকিস্তান সরকারের অনুরোধে ১৯৫৪-৫৫ সাল পর্যন্ত  টঝ –অওউ পরিচালিত  ঠ-অওউ চৎড়মৎধসসব এর পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে পুনরায় কলেজের অধ্যক্ষ পদে ফিরে আসেন।

এ কলেজে শিক্ষকতা করতে এসে তিনি পুনরায় দরিদ্র কৃষক সন্তানদের আর্থিক দৈন্যতার বিষয়টির মুখোমুখি হলেন। তিনি বুঝলেন যে, দরিদ্র ছাত্রদের দরিদ্র পিতার আর্থিক দৈন্যতা দূর করতে না পারলে ছাত্রদের আর্থিক দৈন্যতা ঘুচবে না। অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময় পেলেই একটি সাইকেল নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন এবং একটা কিছু লক্ষ্য করতেন। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে কুমিল্লার কোটবাড়ীতে চঅজউ বর্তমানে ইঅজউ এর প্রথম পরিচালক পদে যোগদান করেন। কুমিল্লা কোতয়ালী থানার একশত বর্গমাইল এলাকার মধ্যে তিনশত গ্রামকে গবেষণাগার এলাকা নির্ধারণ করে তিনি কাজ শুরু করেন। তার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আসেন। এসাথে ডেনমার্ক এবং জার্মানির সমবায় পদ্ধতি সম্পর্কেও গবেষণা করে আসেন। সর্বপ্রথম চারটি উপাদান যথা ঃ

ঞযধহধ ঞৎধরহরহম ধহফ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ঈবহঃৎব. (২) জঁৎধষ ডড়ৎশং চৎড়মৎধসসব. (৩) ঞযধহধ ওৎৎরমধঃরড়হ চৎড়মৎধসসব. (৪) ঞযধহধ ঈবহঃৎধষ ঈড়-ড়ঢ়বৎধঃরাব অংংড়পরধঃরড়হ দিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক, ফোর্ড  ফাউন্ডেশন অর্থ সাহায্য দিয়েছিল। ১৯৬২ সালের মধ্যেই এই গবেষণা কর্মের বিস্ময়কর সফলতা অর্জিত হয়। এই সফলতার পুরস্কার স্বরূপ ফিলিপাইনের ম্যাগসাস ফাউন্ডেশন  তাঁকে ম্যাগসাস পুরস্কারে ভূষিত করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি তাঁকে ডক্টর অব ল  ডিগ্রিতে ভূষিত করে। পরবর্তীতে এই চারটি উপাদানের সাথে পরিবার পরিকল্পনা  এবং বয়স্ক শিক্ষা চালু করা হয় এবং এই কর্মসূচির নাম হলো ‘কুমিল্লা মডেল’ বা ‘কুমিল্লা এ্যাপ্রোচ’।  এই সফলতা অর্জন করার পর তিনি তদানীন্তন কুমিল্লা জেলার বিশটি থানাকে নিয়ে  ঈড়সরষষধ উরংঃৎরপঃ ওহঃরমৎধঃবফ জঁৎধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ চৎড়মৎধসসব (ঈউওজউচ) চালু করেন। পাঁচ বছর পর এই কর্মসূচিটিও  বিস্ময়কর সফলতা অর্জন করে এবং  বিশ্বব্যাংক এর সুপারিশে তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার ওহঃবমৎধঃবঃফ জঁৎধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ চৎড়মৎধসসব চালু করেন। এই কর্মসূচির প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন জনাব মোকাম্মেল হক সিএসপি। বাংলাদেশ আমলে বাংলাদেশ রুরাল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা বিআরডিবি গঠন করে এই কর্মসূচি চালু করা হয় যা আজো বিদ্যমান আছে। আজ এ কথা দিবালোকের মত সত্য যে, বর্তমান উপজেলা কমপ্লেক্স, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, যুব উন্নয়ন বিভাগ, মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিএডিসি, ঈমাম প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, যান্ত্রিক চাষাবাদ ইত্যাদি কুমিল্লা মডেলের ধারণা হতে সৃষ্টি হয়েছে। আজ অনেক এনজিও, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি, সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত চালূ করেছে। আধুনিক গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখছে। এগুলি সবই হচ্ছে কুমিল্লা মডেল এর ধারণা হতে উৎপন্ন।

এ দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে তিনি যে ভিত্তি রচনা করে গেছেন তা বিভিন্ন পর্র্যায়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কার্যকরী হচ্ছে। কুমিল্লা মডেলের ঈড়হপবঢ়ঃ  বা ধারণা হতে উৎসারিত এবং ইঅজউ এর গবেষণালব্ধ ঝসধষষ ঋধৎসবৎ’ং উবা. ঋড়ঁহফধঃরড়হ (ঝঋউঋ)  এবং ঈড়সঢ়ৎবযবহংরাব ঠরষষধমব উবা. চৎড়মৎধসসব (ঈঠউচ) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পর্যায়ক্রমে সমগ্র বাংলাদেশে চালু করার কার্যক্রম যথারীতি শুরু হয়ে গেছে। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা যে, ঝঋউঋ এবং ঈঠউচ-কে যদি আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা পরিহার করে খান সাহেবের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায় তাহলে বাংলাদেশ অচিরেই দরিদ্রমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

২০১৪ সালের ১৫ জুলাই এই কিংবদন্তী পুরুষের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হলো। এখনো জন্মশত বার্ষিকীর অনুষ্ঠান বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে। তাঁর এই অবদানের কথা, সৃষ্টিশীলতার কথা সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তাঁকে খণ্ডিত করার কোন অবকাশ নেই এবং এক কথায় তিনি এক অখণ্ড স্বত্ত্বা। আমাদের স্কুল কলেজের পাঠ্য পুস্তকে তাঁর জীবন, কর্ম ও অবদান পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাসস্থানসহ (যা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ সড়কে অবস্থিত) সকল স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ অক্টোবর এই কর্মবীর ইন্তেকাল করেন।

তিনি মৃত্যুকে জয় করে মৃত্যুঞ্জয়ী। বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক লর্ড  বার্ট্রান্ড  রাসেল বলেছেন,  অ ঃবধপযবৎ বভভবপঃং ঃযব বঃবৎহরঃু. ঘড় নড়ফু শহড়ংি যিবৎব রঃং রহভষঁবহপব বহফং. অর্থাৎ একজন শিক্ষকের শিক্ষা অনন্তকালকে প্রভাবিত করে কেউ বলতে পারেনা এর শেষ কোথায়। ড. আখতার হামিদ খান তদ্রুপ একজন শিক্ষক যিনি কুমিল্লা মডেল উদ্ভাবন করে বাংলাদেশ ও তৃতীয় বিশ্বের অনেক দরিদ্র রাষ্ট্রের গরীব জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসনে পথনির্দেশ করে গেছেন। তাঁর এই কুমিল্লা মডেলের ধারণাকে তৃতীয় বিশ্বে বিস্তৃত করার জন্য ঈওজউঅচ (ঈবহঃবৎ ড়হ ওহঃবমৎধঃবফ জঁৎধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ভড়ৎ অংরধ ধহফ ঃযব চধপরভরপ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং গবেষণা ধারাবাহিক ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

তাঁর উদ্ভাবিত কুমিল্লা মডেল কুমিল্লাকে সারা বিশ্বে পরিচিত করেছে। কুমিল্লার অদূওে কোটবাড়ী পাহাড়ের নৈসর্গিক শোভা এবং এর মধ্যে খান সাহেবের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একাডেমীর নির্মাণশৈলী যে কোন পর্যটককে আর্কষণ করে। অডিটরিয়াম লনে প্রতিষ্ঠিত তার ম্যুরালটি যে কোন দর্শনার্থীকেই আকর্ষণ করে এবং তাঁকে জানতে উৎসুক করে। তাঁর জীবন ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন লেখকের বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ লেখায় সমৃদ্ধ স্মারকগ্রন্থ পাঠককে তাঁর সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে যথেষ্ট সাহায্য করবে। অষ্টম শতাব্দীতে পাল বংশীয় বৌদ্ধ রাজাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় শালবন বিহার তখন থেকেই কুমিল্লাকে বিশ্ববিদ্যালয় শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তারই পাশে খান সাহেবের পরামর্শ অনুসারে প্রতিষ্ঠিত বার্ড কুমিল্লার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আরো সমৃদ্ধতর করেছে। এজন্যও তিনি কুমিল্লাবাসীর অন্তরে আরো বেশি সম্মানজনক অবস্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল  ইসলামের একটি কবিতা স্মর্তব্য। ওরে নিপিড়ীত, ওরে ভয়ে ভীত, আয়রে আয়/ দুঃখ জয়ের নবীন মন্ত্র সমবায় সমবায়। সমবায় আইন হয়েছিল ১৯০৪ সালে। কিন্তু জনসাধারণের মধ্যে তা এমন কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। খান সাহেব উদ্ভাবিত দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সমবায় পদ্ধতি সমবায় আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সমবায় সমিতির মাধ্যমে সঞ্চয় করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিঃসন্দেহ ভাবে বলা যায়-কবির উল্লেখিত সেই ‘নবীন মন্ত্রই’ হলো খান সাহেব উদ্ভাবিত কুমিল্লা মডেল

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
1 উত্তর
28 মার্চ 2014 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন salehahmed (labib) (10,662 পয়েন্ট)
1 উত্তর
21 ফেব্রুয়ারি 2014 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোহাম্মাদ শুভ (8,468 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর
18 ফেব্রুয়ারি 2017 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন sahriar fahmid (9 পয়েন্ট)

270,339 টি প্রশ্ন

353,314 টি উত্তর

104,731 টি মন্তব্য

143,307 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...