বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
628 জন দেখেছেন
"কৃষি ও বনাঞ্চল" বিভাগে করেছেন (1,480 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (485 পয়েন্ট)
রেশম কীট
রেশম নামক এক ধরনের মথের
লার্ভার লালাগ্রন্থি থেকে
নিসৃত রস থেকে উৎপন্ন হয় রেশম
তন্তু বা Silk Fibre. রেশম মথ
আর্থোপোডা পর্বের অন্তর্গত
ইনসেপ্টা শ্রেণীর
লেপিডটেরা পর্বের একটি পতঙ্গ
। এই পতঙ্গ কে কীট বা ওয়ার্ম ও
বলা হয় । অর্থাৎ রেশম পতঙ্গের
ইংরেজী নাম Silk Worm . রেশম
কীট বা Silk Worm কে দেখতে
অনেকটা কৃমির মত দেখা
গেলেও পূর্ণবয়স্ক হলে এদেরকে
প্রজাপতির মত দেখা যায় । রেশম
কীট এর বিভিন্ন প্রজাতি
পাওয়া যায় । তবে সব প্রজাতির
রেশম মথ বা কীট একই রকমের রেশম
তন্তু বা Silk Fibre তৈরী করতে
পারেনা । বিভিন্ন প্রজাতির মথ
থেকে বিভিন্ন মানের রেশম
তন্তু বা Silk Fibre তৈরী করা হয় ।
রেশম তন্তু বা Silk Fibre উৎপন্ন করতে
বাংলাদেশে যে রেশম কীট
ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার
বৈজ্ঞানিক নাম Bombyx Mori
( বোম্বেক্স মৌরি ) ।
রেশম কীট বা রেশম পোকার
জীবন চক্র চারটি পর্যায়ে ঘটে
থাকে ।এগুলো হলঃ
ডিম ;
শুককীট;
মুককীট
এবং পূর্ণাঙ্গ পোকা ।
প্রথম পর্যায় :
স্ত্রী পোকা পাতা বা
কাগজের উপর ডিম পাড়ে । এরা
একসাথে প্রায় ৪০০-৫০০ ডিম
পাড়ে । ডিম  ‍গুলো দেখতে
ফ্যাকাসে হলুদের মত । ডিমগুলো
দেখতে অনেকটা ইংরেজী C এর
মত । ডিমগুলো ৭৮ – ৮৫ ডিগ্রী
তাপমাত্রায় উত্তপ্ত হতে খাকে
। ১০-১৪ দিন পর ডিম থেকে শূককীট
উৎপন্ন হয় ।
দ্বিতীয় পর্যায়ঃ
শূককীট বড় হলে বাদামী লাল
রঙের দেখায়। শূককীট চতুর্থবার
খোলস বদলানোর পর মূককীটে
পরিণত হতে শুরু করে। এ সময় এদের
খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। শূককীট,
মূককীটকে যে বাঁশের ডালায়
গালা হয় তার নাম চন্দ্রকী।
চন্দ্রকীতে অনেক গুলি কুঠুরি
থাকে।
তৃতীয় পর্যায়ঃ
শূককীট দেহের ভিতরে একটি
লম্বা রেশম গ্রন্থি থাকে।
গ্রন্থিতে থাকে এক প্রকার রস।
নালী দিয়ে এ রস মুখের বাইরে
আসে। নালীর নাম স্পিনারেট
(Spinneret)। বাতাসের সংস্পর্শে
রস শক্ত হয়ে যায়। মূককীট মিনিটে
৬৫ বার মুখ ঘুরিয়ে রস দিয়ে
দেহের চারপাশে আবরণ তৈরি
করে। এই রসকে সাধারণ কথায়
মুখের লালা বলে। আবরণসহ
মূককীটকে গুটি বলে। গুটির
ইংরেজি নাম কুকুন (Cocoon)। গুটির
মধ্যে মুককীটের অদ্ভুত রূপান্তর
ঘটে। এই পরিবর্তনকে
মেটামরফসিস (Metamorphosis)
বলে। মূককীট পরিবর্তিত হয়ে সুন্দর
মথের রূপ ধারণ করে। মথই রেশম
পোকার পূর্ণাঙ্গ অবস্থা।
চতুর্থ পর্যায়ঃ
মথ হবার আগেই গুটিকে বাষ্প বা
গরম জলে রাখতে হয় । না হলে মথ
গুটি কেটে বেরিয়ে যায়। গুটি
কেটে গেলে সুতা নষ্ট হয়ে যায়।
গুটি গরম পানিতে পড়লে এর
সুতোর জট খুলে যায়। একটি
গুটিতে ৪০০ – ৫০০ গজ সুতা থাকে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
31 মার্চ 2014 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন salehahmed (labib) (19,040 পয়েন্ট)
1 উত্তর
03 ফেব্রুয়ারি 2014 "প্রাণীবিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Zunaid Hasan (1,557 পয়েন্ট)
1 উত্তর
14 জানুয়ারি 2014 "কৃষি ও বনাঞ্চল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Ferdausi (10,983 পয়েন্ট)

342,054 টি প্রশ্ন

435,185 টি উত্তর

136,074 টি মন্তব্য

184,461 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...