88 জন দেখেছেন
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (1,271 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (22 পয়েন্ট)
সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, জন্মের কয়েক মাস পর থেকে বাচ্চারা ভাষা শেখা শুরু করে। বিজ্ঞানীরা এ ধারনাটিকে আরও পাকাপোক্ত করেন এটি বলে যে আমরা ভাষার খুঁটিনাটিগুলো শেখা শুরু করতে থাকি জন্মের ছয় মাস পর থেকে। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, সদ্যজাত বাচ্চাদেরও ক্ষমতা আছে তাদের মাতৃভাষা এবং বিদেশি একটি ভাষা আলাদা করে বোঝার। এ থেকে বোঝা যায় তারা এই পার্থক্যটি জেনে যায় অনেক আগেই, এমনকি জন্মেরও আগে। এছাড়া অন্যান্য গবেষণাগুলো থেকে দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় মায়ের কানে আসা শব্দগুলো একটু করে শিখতে থাকে অনাগত শিশুরা। এমনকি তাদের কান্নার সুরেও থাকে মাতৃভাষার প্রভাব!

প্যাসিফিক লুথেরান ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ৭ থেকে ৭৫ ঘণ্টা বয়সী ৪০ টি নবজাতক শিশুদের ওপর এ গবেষণা চালান। আমেরিকার টাকোমা এবং সুইডেনের স্টকহোম উভয় স্থানেই এ গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। নবজাতকরা যেহেতু কথা বলতে অক্ষম তাই এ গবেষণার ফলাফল নির্ধারণের জন্য খুব অদ্ভুত একটি নির্দেশক ব্যবহার করেন গবেষকরা। কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত একটি প্যাসিফায়ার কতক্ষণ মুখে নিয়ে চুষছিল তারা তা পরিমাপ করা হয়। প্রথমে বাচ্চাগুলোকে দুইটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। এরপর তাদেরকে শোনানো হয় স্বরবর্ণ। গ্রুপের অর্ধেক শিশুকে শোনানো হয় নিজ মাতৃভাষার স্বরবর্ণ এবং বাকি অর্ধেককে শোনানো হয় বিদেশি ভাষার স্বরবর্ণ। বিদেশি ভাষা শোনার সময়ে খুব দ্রুত প্যাসিফায়ার চুষতে থাকে বাচ্চারা। গবেষকদের মতে এর মানে হল, কয়েক ঘণ্টা বয়সেই তারা নতুন কিছু শিখতে প্রস্তুত।

গবেষকরা বলেন, কথার মাঝে স্বরবর্ণগুলো আমরা বলি সবচেয়ে জোরালোভাবে আর তাই গর্ভ থেকে এটি শুনে শেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এ সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায় যদি মা নিজে অথবা মায়ের কাছাকাছি কেউ কথা বলে। তারা আরও বলেন গর্ভাবস্থার শেষ ১০ সপ্তাহ থেকে বাচ্চারা এসব শব্দ শেখা শুরু করে।

এই গবেষণার মত একই লক্ষ্য নিয়ে কিন্তু ভিন্ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে একটি পরীক্ষা চালান ফিনিশিয় গবেষকরা। গর্ভাবস্থার ২৯ সপ্তাহ পর কিছু বানোয়াট শব্দ শোনানো হয় মা’কে। জন্মের পর এসব শব্দ তারা চিনতে পারে বলে জানা গেছে। ইউনিভার্সিটি অফ হেলসিঙ্কির গবেষক এইনো পারটানেন এবং তার গবেষক দল এই পরীক্ষাটি পরিচালনা করেন কয়েকজন ফিনিশিয় মায়ের ওপর। চার মিনিট লম্বা কয়েকটি গান সম্বলিত সিডি শুনতে দেওয়া হয় তাদেরকে যাতে সঙ্গীতের মাঝে মাঝে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় একটি বানোয়াট শব্দ- “টাটাটা”, কখনো কখনো এই শব্দটি পাল্টে সেখানে বসিয়ে দেওয়া হয় আরেকটি শব্দ- “টাটোটা”। কখনোবা আবার “টাটাটা” শব্দটির মাঝের অক্ষরটির মাত্রা বাড়িয়ে-কমিয়ে দেওয়া হয়। গর্ভবতী এই মা-দেরকে বলা হয় সপ্তাহে পাঁচ থেকে সাতবার এই সিডি শুনতে যাতে এই বানোয়াট শব্দগুলো শোনা যায় কয়েকশোবার।

এই গবেষণার ভিত্তি হলো মিসম্যাচ রেসপন্স নামের একটি ঘটনা। আমাদের মস্তিষ্ক যখন কোনও অসঙ্গতি খুঁজে পায় তখন চট করে স্নায়বিক কার্যকলাপ বেড়ে যায়। যেমন, টাটাটা এর বদলে বাচ্চারা যখন টাটোটা শোনে, অথবা শব্দের মাত্রা পরিবর্তিত হয়, তখন মিসম্যাচ রেসপন্সের কারণে এই একই ঘটনা দেখা যায়। জন্মের পর পরই বাচ্চাদের মাথায় ইলেক্ট্রোড লাগিয়ে স্নায়বিক সক্রিয়তা পরিমাপ করা হয় এবং সে সময়ে টাটাটা অথবা টাটোটা শব্দগুলো তাদেরকে শোনানো হয়। এর ফলে তাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুতে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় এবং বোঝা যায় যে তারা গর্ভের ভেতরে থাকা অবস্থাতেও মন দিয়ে সবকিছু শুনছিল।

কি উপকার হল এই গবেষণাগুলো থেকে? ধরুন আপনার বাচ্চাকে আপনি খুব তাড়াতাড়ি বিদেশি কোনও ভাষায় পারদর্শী করে তুলতে চান। সে ক্ষেত্রে মায়ের উচিত হবে সেই ভাষা শেখা এবং গর্ভাবস্থায় তার চর্চা করা। এহেন ভালো প্রভাবের পাশাপাশি খারাপ প্রভাবও আছে বই কি! আজেবাজে কথা শুনতে পেলে সেটাও শিখে যাবার সম্ভাবনা আছে যে! তাই গর্ভবতী মায়ের আশেপাশে মুখ সামলে চলুন!

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
16 মে 2013 "নবী-রাসূল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন bissoy (1,170 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
08 ডিসেম্বর 2017 "কৃষি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rb 000 (1 পয়েন্ট )

210,757 টি প্রশ্ন

269,131 টি উত্তর

68,798 টি মন্তব্য

101,468 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...