বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
1,581 জন দেখেছেন
"পশুপাখি" বিভাগে করেছেন (10,983 পয়েন্ট)

4 উত্তর

+1 টি পছন্দ
করেছেন (677 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর

বেশিরভাগ অলংকার তৈরি হয় মাটিতে থাকা দামি ধাতু এবং দুর্লভ রত্ন দিয়ে। কিন্তু মুক্তো এর ব্যাতিক্রম। কারণ মুক্তো আসে জীবন্ত প্রাণী ঝিনুক বা অয়েস্টারের শরীরের ভেতর থেকে। জৈবিক প্রক্রিয়ায় ঝিনুকের দেহের ভেতরে তৈরি হয় মুক্তো। কিভাবে? আসুন সেই প্রক্রিয়া দেখে নেওয়া যাক।

মানুষ সুন্দর সুন্দর অলংকার বানাতে পারবে সেই উদ্দেশ্যে নিশ্চয়ই মুক্তো তৈরি করে না ঝিনুক! এর পেছনে রয়েছে তাদের নিজেদের টিকে থাকার তাগিদ। বাইরে থেকে আসা ক্ষতিকর পদার্থ থেকে নিজের শরীরকে বাঁচাতেই মুক্তো তৈরি করে ঝিনুক। অয়েস্টার ছাড়াও ক্ল্যাম এবং মাসেল নামের ঝিনুক তৈরি করতে পারে মুক্তো। মিঠাপানি এবং লোনাপানি উভয় পরিবেশেই ঝিনুক থেকে তৈরি হয় মুক্তো। কিন্তু মুক্তো তৈরির প্রক্রিয়া জানার জন্য আগে আপনাকে জানতে হবে ঝিনুকের শরীরের গঠন।

ঝিনুক হলো বাইভালভ জাতীয় প্রাণী, অর্থাৎ এদের খোলসের দুইটি ভাগ আছে। এই দুইটি অংশ একসাথে আটকে
রাখে এক ধরণের ইলাস্টিক লিগামেন্ট।

image

এই লিগামেন্ট সাধারণত খোলসের দুইটি অংশ খোলা রাখে যাতে ঝিনুক খেতে পারে। খোলসের ভেতরে ঝিনুকের শরীরের অংশগুলো হলোঃ
- মুখ (পাল্পস)
- পাকস্থলী
- হৃদপিণ্ড
- পরিপাকতন্ত্র
- ফুলকা
- মলদ্বার
- অ্যাবডাক্টর মাসল
- ম্যান্টল

একটা ঝিনুকের শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম অংশের বৃদ্ধি ঘটার সাথে সাথে এর খোলসেরও বৃদ্ধি ঘটতে হয়। ম্যান্টল হলো একটি অঙ্গ যা ঝিনুকের খাবারের খনিজ ব্যবহার করে খোলসের বৃদ্ধি ঘটায়। Nacre নামের এক ধরণের পদার্থ নিঃসৃত হয় ম্যান্টল থেকে যা খোলসের ভেতরের দিকে প্রলেপ হিসেবে লেগে থাকে।

প্রাকৃতিকভাবে মুক্তো তৈরির প্রক্রিয়া কখন শুরু হয়?
যখন ম্যান্টল এবং খোলসের মাঝে কোনও অযাচিত জড় পদার্থ (নুড়ি পাথর, বালি, কাঁচ, মাটির টুকরো) ঢুকে পড়ে। আমাদের ত্বকে যখন কাঁটা ফুটে যায় তখন আমাদের যেমন ব্যথা এবং অস্বস্তি হয়, এমন পদার্থ ঢুকে পড়ার ফলে তেমনি কষ্ট হয় ঝিনুকের। তখন ঝিনুক এই অস্বস্তি থেকে বাঁচার জন্য মসৃণ পদার্থ দিয়ে ঢেকে ফেলার চেষ্টা করে এই জড় পদার্থটিকে যাতে তার শরীরের নরম অংশে কোনও ক্ষত সৃষ্টি না হয়। ম্যান্টল থেকে নিঃসৃত হয় nacre এবং তা দিয়েই ঢেকে যায় এই জড় পদার্থ। ফলশ্রুতিতে nacre এর একের পর এক প্রলেপ পড়ে সৃষ্টি হয় মসৃণ একটি মুক্তো।

image

মূলত বালুকণার ওপরে nacre এর প্রলেপে তৈরি হয় মুক্তো। আমরা অলংকার হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করি সেসব মুক্তো সাধারণত সুন্দর গোল আকৃতির হয়। কিন্তু সব মুক্তো এত সুন্দর আকৃতির হয় না। বেঢপ আকৃতির মুক্তোও তৈরি হয় অনেক ক্ষেত্রেই যাদের বলে Baroque মুক্তো। সাদা, কালো, ছাই, লাল, নীল এবং সবুজ রঙের হতে পারে মুক্তো। পৃথিবীর অনেক স্থানেই এদেরকে পাওয়া যায় কিন্তু কালো মুক্তো পাওয়া যায় শুধুমাত্র দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে।

কৃত্রিম মুক্তো তৈরি হয় প্রায় একই উপায়ে কিন্তু এক্ষেত্রে মুক্তো চাষিদের কিছুটা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়। তারা খোলস খুলে ম্যান্টলের মাঝে ছুরি দিয়ে কেটে চিড় তৈরি করে। এরপর তার ভেতরে কোনও জড় পদার্থ ভরে দেওয়া হয়। ফলে তার ওপরে nacre এর প্রলেপ পড়ে মুক্তো তৈরি হয়। মানের দিক দিয়ে কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক মুক্তো প্রায় একই। কিন্তু কৃত্রিম মুক্তোর দাম কম কারণ এগুলো প্রাকৃতিক মুক্তোর চাইতে সহজলভ্য।

0 টি পছন্দ
করেছেন (1,383 পয়েন্ট)
কোনো জলজ জীব বা কোনো বালুকণা হঠাৎ করে ঝিনুকের মধ্যে ঢুকে গেলে ঝিনুক তখন ওই ছোট্ট জীব বা বালুকণাটির চারপাশে একটি থলের মতো অংশ তৈরি করে। সেই সঙ্গে ঝিনুকটির নিজস্ব কিছু রাসায়নিক পদার্থ সেখানে জমা হতে থাকে। থলেটিও দিনে দিনে বেড়ে ওঠে। এভাবেই জমাট বেঁধে এক সময় তৈরি হয় মুক্তা।

মুক্তা কিন্তু চাষও করা হচ্ছে। ঝিনুক চাষ করে তার মধ্যে ছোট্ট কোনো এক ক্ষুদ্র কণা ঢুকিয়ে দেয়া হয়। আবার সেই ঝিনুককে রাখা হয় পানিতে। পরে সময় মতো ঝিনুক উঠিয়ে এনে মুক্তা বের করে আনা হয়।
0 টি পছন্দ
করেছেন (6,198 পয়েন্ট)
পূনঃপ্রদর্শিত করেছেন
ঝিনুকের মুক্তা তৈরির পদ্ধতি
যখন ঝিনিকের খোলসের মাঝে কোন জড় পদার্থ নুড়ি পাথর, বালি, মাটির টুকরো ঢুকে পড়ে। তখন ঝিনুক এই অস্বস্তি থেকে বাঁচার জন্য মসৃণ পদার্থ দিয়ে ঢেকে ফেলার চেষ্টা করে এই জড় পদার্থটিকে যাতে তার শরীরের নরম অংশে কোনও ক্ষত সৃষ্টি না হয়। ম্যান্টল থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থ হয় এবং তা দিয়েই ঢেকে যায় এই জড় পদার্থ। ফলশ্রুতিতে এর একের পর এক প্রলেপ পড়ে সৃষ্টি হয় মসৃণ একটি মুক্তো। মূলত বালুকণার ওপরে এর প্রলেপে তৈরি হয় মুক্তো।
0 টি পছন্দ
করেছেন (3,792 পয়েন্ট)

ঝিনুক যেভাবে মুক্তা তৈরি করে

ঝিনুকের অভ্যন্তরে যখন প্রাকৃতিকভাবে বাহ্যিক উত্তেজক পদার্থ (হতে পারে খোলসের ভগ্নাংশ, হাড়ের টুকরা, আঁইশ, এমনকি পরজীবী) আটকে যায়, তখন মুক্তা তৈরী হয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশে বিশেষ প্রজাতির ঝিনুকই কেবল মুক্তা তৈরী করতে পারে৷

যখন এই বাহ্যিক উত্তেজক পদার্থ ভেতরে আটকে গেলো, তখন ঝিনুক নিজেকে প্রতিরক্ষা করতে গিয়ে বাহ্যিক বস্তুটির চারপাশে ন্যাকারের আস্তরণ তৈরী করে এবং ধীরে ধীরে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর এই আস্তরণ বাড়তে থাকে। ফলে বাহ্যিক উত্তেজক ন্যাকার আস্তরণের মধ্যে থেকে যায়। এই উত্তেজক পদার্থটিকে তখন বলা হয় নিউক্লিয়াস। এই প্রক্রিয়া পরবর্তী বেশ কয়েক বছর ধরে চলে। গঠিত মুক্তার আকৃতি নির্ভর করে নিউক্লিয়াসের আকার-আকৃতি উপর।

সুতরাং বছরের পর বছর এই ন্যাকার আস্তরণে আবৃত হওয়া উত্তেজকই একসময় হয়ে ওঠে মূল্যবান রত্ন। তবে প্রায় দশ হাজার ঝিনুকের মধ্যে প্রায় একটি ঝিনুক মুক্তা তৈরী করতে পারে। আবার সেই মুক্তাটি থেকে সঠিক জেমস্টোন না-ও পাওয়া যাতে পারে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
25 জুন 2018 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন দানিয়েল রোজারিও (878 পয়েন্ট)
1 উত্তর
02 ফেব্রুয়ারি "খাদ্য ও পানীয়" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Polok100 (58 পয়েন্ট)
1 উত্তর
13 নভেম্বর 2018 "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন ইফরা (14 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
04 জুন 2018 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Emon Gazi (20 পয়েন্ট)

358,830 টি প্রশ্ন

453,898 টি উত্তর

142,169 টি মন্তব্য

189,982 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...