বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
539 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (748 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (1,135 পয়েন্ট)
ক্রিসমাস ডে অথবা অন্য কোন ওদের ধর্মীয় পর্ব ও খুশিতে কাফেরদের মুবারকবাদ দেওয়া সর্ববাদী সম্মতিক্রমে অবৈধ। যেমন ইবনুল কাইয়েম রাহিমাহুল্লাহ তার গ্রন্থ ‘আহকা-মু আহলিয জিম্মাহ’ তে নকল করেছেন।  তিনি বলেন,  ‘বিশিষ্ট কুফুরের প্রতীক ও নিদর্শনের ক্ষেত্রে মুবারকবাদ পেশ করা যথা সম্মতি ক্রমে হারাম। যেমন ওদের ঈদ অথবা ব্রত উপলক্ষে মুবারকবাদ দিয়ে বলা, ‘তোমার জন্য ঈদ মুবারক হোক’, অথবা ‘এই খুশিতে শুভাশিস গ্রহণ কর’ ইত্যাদি। এ কাজে যদি ও সম্ভাষণ দাতা কুফুর থেকে বেঁচে যায়, তবুও তা হারামের অন্তর্ভুক্ত। আর এটা ওদের ক্রুশ কে সিজদা করার উপলক্ষ্যে মুবারকবাদ দেওয়ার অনুরূপ। বরং এটা আল্লাহর নিকট গোনাহ গযবের দিক থেকে মদ্য পান, খুন, ব্যাভিচার ইত্যাদির উপর মুবারকবাদ দেওয়ার চেয়ে অধিক বড় ও বেশী। বহু মানুষই যাদের নিকট দ্বীনের কোন কদর নেই, তারা উক্ত পাপে পতিত হয়ে থাকে। কৃতকর্মের কুফলকে জানতে পারে না। উপরন্ত কোন মানুষকে পাপ, বিদআত অথবা কুফুরের উপর মুবারকবাদ জানিয়ে থাকে, যখন সে নিশ্চিত ভাবে আল্লাহর ক্রোধে ও অসন্তোষটির শিকার হয়ে যায়। (ইবনুল কাইয়েমের উক্তি সমাপ্ত)

কাফেরদের ধর্মীয় ঈদ পর্বে তাদেরকে মুবারকবাদ দেওয়া এই লক্ষ্যেই হারাম, যা ইবনুল কাইয়েম উল্লেখ করেছেন। যেহেতু তাতে কুফরি প্রতীকের উপর কাফেরদের প্রতিষ্ঠিত থাকাকে স্বীকার ও সমর্থন করা হয় এবং তাদের জন্য তাতে সম্মতি প্রকাশ করা হয়। যদিও সে এই কুফরি নিজের জন্য পছন্দ করে না, কিন্তু তবুও মুসলিমের জন্য কুফরির প্রতীকে সম্মতি প্রকাশ অথবা তার উপর কাউকে মুবারকবাদ জানানো বৈধ নয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা ওতে সম্মত নন। যেমন তিনি বলেন,

“তোমরা কাফের জলে জেনে রাখ, আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাঁর  দাসদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না। যদি তোমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও, তাহলে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন।” (সুরা জুমার ৭ আয়াত)

তিনি আর বলেন,

“আজ আমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ অসম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন রূপে মনোনীত করলাম।” (সূরা মাইদাহ ৩ আয়াত)

সুতরাং কুফুরির উপর ওদেরকে শুভাশিস ও সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপন হারাম --- চাহে তারা ঐ ব্যক্তির কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী বা সঙ্গী হোক, চাহে না হোক।

যখন ওরা ওদের ঈদ উপলক্ষ্যে আমাদেরকে মুবারকবাদ জানায়, তখনও  আমরা তাদেরকে প্রত্যুত্তরে অভিবাদন জানাতে পারি না। যেহেতু তা আমাদের ঈদ নয়। আল্লাহ তায়ালা এমন ঈদ পছন্দ করেন না। কারণ, তা ওদের ধর্মে অভিনব রচিত কর্ম। অথবা বিধিসম্মত কিন্তু তা দ্বীন ইসলাম দ্বারা রহিত হওয়ে গেছে, যা দ্বীন সহ মুহাম্মদ (সঃ) কে আল্লাহ তায়ালা সমগ্র সৃষ্টির প্রতি প্রেরণ করেছেন। যে দ্বীন সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,

“যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম চাইলে তা কখনো তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরলোকে ক্ষতিগ্রস্ত দের দলভুক্ত হবে।” (আ-লে ইমরানঃ ৮৫)

এই উপলক্ষে মুসলিমদের জন্য তাদের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করাও হারাম। যেহেতু দাওয়াত গ্রহণ মুবারকবাদ জ্ঞাপন অপেক্ষা নিকৃষ্টতর। কারণ এতে ওদের ঈদে অংশগ্রহণ করা হয়ে যায়।

তদনুরূপ মুসলমানদের জন্য এই উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করে, পরস্পরকে উপঢৌকন প্রদান করে, মিষ্টান্ন বিতরণ করে, বিভিন্ন প্রকার খাদ্য বণ্ঠন করে অথবা কর্মক্ষেত্রে ছুটি ঘোষণা করে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা বৈধ নয়। কারণ নবী (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুরূপ অবলম্বন করে, সে তাদেরই দলভুক্ত।” (আবু দাউদ)

সায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর গ্রন্থ ‘ইকতিযা-উস সিরাত্বিল মুস্তাকিম, মুখা- লাফাতু আসহা -বিল জাহিম’ এ বলেন, ‘তাদের কিছু ঈদ পর্বে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনে, তারা যে বাতিল অবিচলিত, তাতে তাদের অন্তর খুশিতে ভরে উঠার কারণ হবে এবং সম্ভভতঃ এই অনুরুপ্য তাদের সুযোগের সৎব্যবহার করতে ও দুর্বলদেরকে অধীনস্থ করতে সহায়তা করবে।’

যে ব্যক্তি উপর্যুক্ত কিছু করে ফেলেছে সে গোনাহগার হবে। চাহে সে তা শিষ্টাচারিতা, বন্ধুত্ব, চক্ষুলজ্জা বা অন্য কিছুর খাতিরে করুক না কেন। যেহেতু এমন করা আল্লাহর দ্বীনে তোষামোদ করা, কাফেরদের আত্মা মনকে সবল করে তোলা এবং তাদের ধর্ম নিয়ে গর্ব করার উপকরণের অন্তর্ভুক্ত। (ইবনে উসাইমিন)

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
30 ডিসেম্বর 2013 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আরিফুল (15,856 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
08 মার্চ 2016 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Attik islam rubi (11 পয়েন্ট)

320,708 টি প্রশ্ন

410,705 টি উত্তর

127,137 টি মন্তব্য

176,833 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...