বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
3,821 জন দেখেছেন
"ব্যবসা" বিভাগে করেছেন (59 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (59 পয়েন্ট)
বৈধভাবে যেকোনো ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিবন্ধন সনদ বা ট্রেড লাইসেন্স করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে—যেমন ব্যাংকঋণ নিতে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খুলতে কিংবা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবসায়ীর দেশের বাইরে যেতে হলেও ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণত সিটি করপোরেশন এবং মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা বা জেলা পরিষদ এই লাইসেন্স প্রদান করে থাকে। এটি বিশেষভাবে শুধু লাইসেন্সধারী ব্যক্তির নামে প্রদান করা হয় এবং কোনো অবস্থাতেই তা হস্তান্তরযোগ্য নয়। তা ছাড়া ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহারযোগ্য নয়। তবে অনেকেই জানেন না কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়।

যদি ঢাকায় থাকেন তাহলে ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) তার নাগরিকদের সেবা দেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনকে কতগুলো অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঁচটি অঞ্চল রয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য প্রথমে আপনাকে আপনার প্রতিষ্ঠানের অঞ্চল নির্দিষ্ট করতে হবে। অর্থাৎ আপনার প্রতিষ্ঠানটি যে জোনের অন্তর্ভুক্ত ওই অঞ্চলের অফিস থেকেই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।
ট্রেড লাইসেন্সের জন্য সিটি করপোরেশনের দুই ধরনের ফরম রয়েছে। আপনি যে ধরনের ব্যবসা করছেন বা করতে ইচ্ছুক, তার ওপর ভিত্তি করে ফরম নেবেন। ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ছবিসহ জমা দিয়ে মূল ট্রেড লাইসেন্স বই সংগ্রহ করতে হবে। মনে রাখবেন, সিটি করপোরেশনের দ্বারা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তদন্ত হতে পারে এবং এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাইসেন্স ফি পরিশোধের মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়া হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্থানটি নিজের হলে সিটি করপোরেশনের হালনাগাদ করের রসিদ এবং ভাড়ায় হলে ভাড়ার চুক্তিপত্র বা রসিদ আবেদনপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া আবেদনপত্রের সঙ্গে তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি লিমিটেড হলে মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলস ও সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন দিতে হবে। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান, কারখানা বা কোম্পানির পার্শ্ববর্তী অবস্থান বা স্থাপনার নকশাসহ ওই স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামাও দাখিল করতে হবে। এসব ছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হয়। যেমন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওপরের সব দলিলের সঙ্গে পরিবেশ-সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র, প্রতিষ্ঠানের অবস্থান চিহ্নিত মানচিত্র, অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত হাসপাতালের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন, ছাপাখানা ও আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে ডেপুটি কমিশনারের অনুমতি, রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মানবসম্পদ রপ্তানি ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স, অস্ত্র ও গোলাবারুদের জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স, ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশনের অনুমতিপত্র, সিএনজি স্টেশন বা দাহ্যপদার্থের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তর বা ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। লাইসেন্স সংগ্রহ করার সময় সাইনবোর্ড ফি দিতে হবে। সব ধরনের ব্যবসার জন্য এই ফির পরিমাণ লাইসেন্স ফির ৩০ শতাংশ।

লাইসেন্স নবায়ন
লাইসেন্স নবায়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। একটি লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এ জন্য আগের ট্রেড লাইসন্স নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক কর কর্মকর্তা নবায়নকৃত লাইসেন্স প্রদান করবেন। লাইসেন্স নবায়ন ফি নতুন লাইসেন্স ফির সমান। এই ফি আগের মতোই ফরমে উল্লিখিত ব্যাংকে জমা দিতে হবে। মনে রাখবেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নবায়ন না করা হলে সিটি করপোরেশন নবায়ন ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করতে পারে।

কত টাকা ও কত দিন লাগেঃ
লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরনের ওপর নির্ভর করে কমবেশি হতে পারে। এই ফি সংশ্লিষ্ট অফিসে রসিদের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। আদর্শ কর তফসিল অনুযায়ী লাইসেন্স ফি সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। একটি লাইসেন্স পেতে তিন থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে। তবে মনে রাখবেন, লাইসেন্স সংগ্রহ করতে গিয়ে দালালদের হয়রানির শিকার হওয়া একটি নিয়মিত ঘটনা। তাই সাবধানতা অবলম্বনের বিকল্প নেই।

অনলাইন সুবিধাঃ
ঢাকা সিটি করপোরেশন অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করার সুযোগ চালু করেছে। অনলাইনের মাধ্যমে যে কেউ নতুন লাইসেন্স বা নবায়ন করার জন্য আবেদন করতে পারবে। এটি একটি দ্রুত প্রক্রিয়া এবং ঝামেলামুক্ত। এ ছাড়া যে কেউ বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যুকৃত লাইসেন্স সম্পর্কে এখানে খোঁজ নিতে পারে। www.dhakacity.org/E-governance/TradeLicence/index.php এই ঠিকানায় গিয়ে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। তবে অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা রয়েছে।

লাইসেন্স বাতিলঃ
মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে, লাইসেন্সে উল্লিখিত শর্তাবলি ও সিটি করপোরেশনের আইন ও বিধি মেনে না চললে লাইসেন্স বাতিল হতে পারে এবং লাইসেন্স গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে গ্রহীতাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।

(সংগৃহিত)
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
16 জানুয়ারি 2015 "ব্যবসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন shohan (4,190 পয়েন্ট)
1 উত্তর
21 সেপ্টেম্বর 2014 "ব্যবসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Kiron Khan (59 পয়েন্ট)

294,103 টি প্রশ্ন

380,721 টি উত্তর

115,103 টি মন্তব্য

161,518 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...