1,299 জন দেখেছেন
"পুরকৌশল" বিভাগে করেছেন (6,503 পয়েন্ট)
বঙ্গবন্ধু সেতু যদি সরলরেখার মত করে বানানো হত তাহলে অনেক কম রড, সিমেন্ট, বালি ও অন্যান্য সামগ্রীর প্রয়োজন হত। ফলে কম খরচ পড়ত। কিন্তু তা সত্তেও এটি বাঁকা করে নির্মাণ করা হয়েছে। এর কারণ কি? এটি সোজা করে বানালে কি কি সমস্যা হতে পারত?

4 উত্তর

+1 টি পছন্দ
করেছেন (163 পয়েন্ট)
বঙ্গবন্ধু সেতু যদি সরলরেখার মত করে বানানো হত তাহলে অনেক কম রড, সিমেন্ট, বালি ও অন্যান্য সামগ্রীর প্রয়োজন হত। ফলে কম খরচ পড়ত। কিন্তু তা সত্তেও এটি বাঁকা করে নির্মাণ করা হয়েছে।

আর্কিটেক্টদের মতে, সেতু বাঁকা হওয়ার কার নিম্মরূপঃ-

১/ নদীর দুই পাড়ের রাস্তার সাথে সংযুক্ত হওয়ার প্রশ্নে সেতু বাঁকা হয়।

২/ সেতুটির দূরত্ব কমানোর সবার্থে বাঁকা হয়।

৩/ মাটির গুনগত মান ভালো রাখার প্রশ্নে সেতু বাঁকা হয়।

৪/ নদীর স্রোতের গতি প্রকৃতি বিবেচনায় সেতু বাঁকা হয়। এছাড়া সেতুর দুই প্রান্তের তুলনায় মধ্যবর্তী স্থান উচু হয়, নৌপথে নৌ চলাচলের সুবিদার্থে।

বঙ্গবন্ধু সেতু বাঁকা করে নির্মান করে বানানোর কারন হল, ভারসাম্য রক্ষা করা। ভারসাম্য রক্ষা করতে এটি বাঁকা করে নির্মান করা হয়েছে। লম্বা সেতু হলে ভারসাম্য রক্ষা করতেও অনেক খুঁটির দরকার হত। সরলরেখা বরাবর সেতু করতে গেলে খুটির পরিমান হ্রাস পেত। কারণ সেতুটি সরলরেখায় হলে তার  দৈর্ঘ্য আরো কম হতো। 

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো :

১. সেতুটিকে স্রোতের বিপরীতে অধিক চাপ (স্রোতের) সহনশীল  এবং 

২. বড় মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল করে গড়ে তোলার জন্য। 

 

৩. দু’পাড়ের একই স্থানে সেতুটির সাথে মূল সড়কের সংযোগ-রাস্তা তৈরির জন্য উপযুক্ত গঠনবিশিষ্ট মাটি পাওয়া যায়নি।

৪. উভয়পাড়ে মূলসড়ক (যে সড়কের সাথে সেতু সংযুক্ত হবে) একই সরলরেখায় নয়।

এছাড়া সেতু বাকানোর আরো কিছু কারণ রয়েছে :

কাঠামোতে ৩ ধরনের লোড কাজ করে,

১ কাঠামোর নিজস্বলোড,

২ যানবাহনের ওজন,

৩ ইনভায়রমেন্টাল(পারিপাশ্বিক লোড)।

ক) এখানে যানবাহন পারহওয়ার সময় ব্রিজের ওপর এক প্রকার কম্পনজনিত লোড ও বেগের গতি জনিত কম্পন উৎপন্ন হয়।

সেতুটি যদি সোজা হতো তাহলে আনেক আগেই সেটি ভেঙ্গে যেতো।

খ) সেতুটির মোমেন্ট ঠিক   রাখার জন্য, ও অধিক পরিমাণে শিয়ার প্রতিরোধ করার জন্য মাধখানে ধনুকের ন্যায় বাকানো হয়।

এর ফলে বন্যার সময় পানির অধিক চাপেও পিলার গুলো সেতুর কাঠামোতে ধরে   রাখতে সক্ষম হয়।

গ) পানির নিচে মাটির চাপ সব জায়গাতে সমান থাকেনা, সেই দিকটা বিবেচনা করা হয়।

ঘ) যদি কখনো সেতুর কোন অংশ ভেঙ্গেযায় তাহলে সেটা দুর থেকে দেখা যাবে. এর ফলে অনেক বড় দুরঘটনা 

থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

ঙ) যান বাহনের লোডগুলো সঠিক ভাবে প্রতিটা পিলারে আরোপিত হয়।

চ) এখানে সৌন্দয্য বড় কথা না, এবং সেতুকে বেশিদিন টিকে থাকতে হলে সেতু বাকা করতে হবে।  আর সেই জন্য রড় সিমেন্ট বেলি লাগলেও কোন কিছু করার নেই।

এছাড়াও গাড়ি চালকদের একটি যুক্তি আছে, যেটি একেবারে ফেলে দেবার মতো নয়, তা হলো সেতু টা সোজা হলে সিরাজগঞ্জের ঐ দিক থেকে সূর্যের (সূর্যাস্ত)  আলো আসবে বিকাল বেলা আর তা চালকদের চোখে সরাসরিভাবে পড়বে ফলে দূর্ঘটনা ঘটবে। সকাল বেলা টাঙ্গাইলের এ দিক থেকে সূর্যের (সূর্যোদয়)  আলো পড়বে চালকদের চোখে সরাসরিভাবে ফলে দূর্ঘটনা ঘটবে। তাই বাকাঁ করে বানানো হয়েছে।

তাই মূলত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধু সেতু বাঁকা করে নির্মাণ করা হয়েছে। 
0 টি পছন্দ
করেছেন (43 পয়েন্ট)
বঙ্গবন্ধু সেতু বাঁকা করে নির্মান করে বানানোর কারন হল, ভারসাম্য রক্ষা করা। ভারসাম্য রক্ষা করতে এটি বাঁকা করে নির্মান করা হয়েছে। লম্বা সেতু হলে ভারসাম্য রক্ষা করতেও অনেক খুঁটির দরকার হত।

তাই সৌন্দর্য ও ভারসাম্য রক্ষা  দুটোই মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধু সেতু বাঁকা করে নির্মাণ করা হয়েছে।
করেছেন (4,079 পয়েন্ট)
সরলরেখা বরাবর সেতু করতে গেলে খুটির পরিমান হ্রাস পেত। কারণ সেতুটি সরলরেখায় হলে তার  দৈর্ঘ্য আরো কম হতো। সৌন্দর্য কোনো ফ্যাক্ট নয় যেখানে সরকারকে আর্থিক ঋণ করে সেতু গুলো করতে হয়, আর বৈপরিত্যক্রমে এক সরলরেখায় সেতুগুলোকে করতে তুলনামূলক কম খরচ হয়। পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাই মূল।
0 টি পছন্দ
করেছেন (4,079 পয়েন্ট)
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো

১. সেতুটিকে স্রোতের বিপরীতে অধিক চাপ (স্রোতের) সহনশীল  এবং

২. বড় মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল করে গড়ে তোলার জন্য।

 

এছাড়াও সাধারণ সেন্সে আরও কিছু কারণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যেমন জোর সম্ভাবনা রয়েছে যে

১. দু’পাড়ের একই স্থানে সেতুটির সাথে মূল সড়কের সংযোগ-রাস্তা তৈরির জন্য উপযুক্ত গঠনবিশিষ্ট মাটি পাওয়া যায়নি।

২. উভয়পাড়ে মূলসড়ক (যে সড়কের সাথে সেতু সংযুক্ত হবে) একই সরলরেখায় নয়।
0 টি পছন্দ
করেছেন (130 পয়েন্ট)
এই সেতু বাকানোর প্রধান কারণ হলো........

কাঠামোতে ৩ধরনের লোড কাজ করে,

১ কাঠামোর নিজস্বলোড,

২ যানবাহনের ওজন,

৩ ইনভায়রমেন্টাল(পারিপাশ্বিক লোড)।

ক) এখানে যানবাহন পারহওয়ার সময় ব্রিজের ওপর এক প্রকার কম্পনজনিত লোড ও বেগের গতি জনিত কম্পন উৎপন্ন হয়।

সেতুটি যদি সোজা হতো তাহলে আনেক আগেই সেটি ভেঙ্গেযেতো।

খ) সেতুটির মোমেন্ট ঠিক   রাখার জন্য, ও অধিক পরিমাণে শিয়ার প্রতিরোধ করার জন্য মাধখানে ধনুকের ন্যায় বাকানো হয়।

এর ফলে বন্যার সময় পানির অধিক চাপেও পিলার গুলো সেতুর কাঠামোতে ধরে   রাখতে সক্ষম হয়।

গ) পানির নিচে মাটির চাপ সব জায়গাতে সমান থাকেনা, সেই দিকটা বিবেচনা করা হয়।

ঘ) যদি কখনো সেতুর কোন অংশ ভেঙ্গেযায় তাহলে সেটা দুর থেকে দেখা যাবে. এর ফলে অনেক বড় দুরঘটনা

থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

ঙ) যান বাহনের লোডগুলো সঠিক ভাবে প্রতিটা পিলারে আরোপিত হয়।

চ) এখানে সৌন্দয্য বড় কথা না, এবং সেতুকে বেশিদিন টিকে থাকতে হলে সেতু বাকা করতে হবে।  আর সেই জন্য রড় সিমেন্ট বেলি লাগলেও কোন কিছু করার নেই।
করেছেন (4,079 পয়েন্ট)
লোডের প্রকারভেদ এবং “চ” পয়েন্টের সাথে একমত পোষণ করছি।
অত্যন্ত দুঃখের সাথে বাকিগুলোর সাথে দ্বি-মত পোষণ করছি।
করেছেন (130 পয়েন্ট)
দ্বিমত  পেষণের কারণ  গুলো যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করলে ভালো হতো।
তাই আমি বলচে চাই আপনি প্রতিটা পযেন্টের দ্বিমত পেষণের জন্য আপনার সঠিক
যুক্তি পেষ করুন।
করেছেন (4,079 পয়েন্ট)
ক পয়েন্টে উল্লেখিত কম্পনজনিত লোড বলে কিছু নেই।
খ. সেতুটি ঝুলন্ত, পার্টি কুলারি ভাবে নমনীয় কিছু নয় যে তাতে মোমেন্টাম থাকবে। আর সেতু গুলো সম্পূর্ণ ধনুকের ন্যায় বাকানো নয়। যদি তা হয় তবে সম্পূর্ণ সেতুটিই পানির তোড়ে ভেসে চলে যেত যে কারণে ভূ-সংযোগস্থলে তা কিছুটা উপবৃত্তের মতো চ্যাপটা হয়।
গ. পানির নিচে মাটির চাপ!!! মাটির চাপ বলে কিছু আছে; জানা নেই। কোথ্থেকে উল্লেখ করলেন জানাবেন আশা করি। আর যদি এখানে মাটির গঠনের কথা বলে থাকেন তবে কথা হলো সব নদীতেই নদীর কমপক্ষে ১৩০-২৫০ ফুট গভীরে পাইলিং করা হয়। আর ঐ গভীরতায় সব স্থানের মাটির গঠন-বিন্যাস একই থাকে।

বাকিগুলো সমন্ধে কিছু পরে ব্যাখ্যা করছি।
টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর
15 সেপ্টেম্বর 2017 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 উত্তর
23 জানুয়ারি 2015 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন ornima (248 পয়েন্ট)
1 উত্তর
10 ফেব্রুয়ারি 2014 "রাষ্ট্রবিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোহাম্মাদ শুভ (8,465 পয়েন্ট)

289,188 টি প্রশ্ন

374,719 টি উত্তর

113,345 টি মন্তব্য

157,699 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...