বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
501 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (10,983 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (10,983 পয়েন্ট)
হে মুসলিম ভাই! যে সব ইসলামী শিষ্টাচারসমূহ পালনের উপর আল্লাহ্ তা‘আলা তার বান্দাদের অধিক ও বড় ধরনের প্রতিদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা থেকে একটি হল, মুসাফাহ করা। মুসাফাহা দ্বারা আল্লাহ তা’আল তার বান্দাদের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এরশাদ করেন-
«إن المؤمن إذا لقي المؤمن فسلم عليه وأخذ بيده فصافحه تناثرت خطاياهما كما يتناثر ورق الشجر».
“যখন কোন মুমিন বান্দা তার অপর মুমিন ভাইয়ে সাথে সাক্ষাত হওয়ার পর তাকে সালাম দেয় এবং তার হাত ধরে তার সাথে মুসাফাহা করে, তখন তার গুনাহগুলো এমন ভাবে ঝরে পড়ে যেমনি-ভাবে গাছের পাতাসমূহ ঝরে পড়ে” ।

মুসাফাহার বিধানটি সর্ব প্রথম ইয়ামনের অধিবাসীরাই চালু করেন।
প্রমাণ: রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
«قد أقبل عليكم أهل اليمن» وهم أول من جاء بالمصافحة
 “ইয়ামনের অধিবাসীদের আগমন ঘটেছে।” তারাই সর্বপ্রথম মুসাফাহার বিধান চালু করছে” ।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ কে জিজ্ঞাসা করা হল,
أكانت المصافحة في أصحاب رسول الله ؟ فقال: «نعم».
“রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এর সাহাবীদের মধ্যে মুসাফাহার বিধান ছিল? তিনি বললেন, হ্যা ছিল”  ।
হে মুসলিম ভাই! তোমরা মুসাফাহার সুন্নতটিকে গুরুত্ব সহকারে আমল করতে চেষ্টা করবে। কারণ, অধিকাংশ মানুষ বর্তমানে এ সুন্নত হতে বিমুখ। তুমি তোমার মুসলিম ভাইদের সাথে সাক্ষাত হলে মুসাফাহা কর। আর মুসাফাহা করার সময় তুমি হাসি-খুশি ও হাস্যোজ্জ্বল থাকবে। কারণ, হাসি মুখ ও খুশি থাকা তোমার অন্তরে তার প্রতি যে মহব্বত ও ভালোবাসা আছে তা প্রকাশ করে। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ তোমার অপর ভাইয়ের সাথে হাসি মুখে সাক্ষাত করাকে সদকা বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন,
«ابتسامتك في وجه أخيك صدقة»
“তোমার ভাইয়ের সাথে মুচকি হাসি দিয়ে সাক্ষাৎ করা, সদকা” ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ আরও বলেন,
«وأكمل المؤمنين إيمانًا أحسنهم خلقًا»
“ঈমানের দিক দিয়ে পরিপূর্ণ মুমিন সে ব্যক্তি, যে চরিত্রের দিক দিয়ে সুন্দর” ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এরশাদ করেন,
«وإذا أتى أخوك من سفر فعانقه»
“যখন তোমার কোন ভাই সফর থেকে ফিরে আসে তখন তুমি তার সাথে কোলাকুলি কর” ।
তোমরা চুমু দেয়ার অভ্যাস পরিহার কর। কারণ, মুখ দিয়ে মুখে চুমু দেয়া একমাত্র স্বামীর জন্য তার স্ত্রীকে ছাড়া আর কারও জন্য জায়েয নেই। তবে বাচ্চাদেরকে আদর করে তাদের মুখে চুমু দেয়া তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করার জন্য জায়েয আছে। প্রমাণ:
«أن النبي  قبل أحد أبناء علي رضي الله عنه وعنده رجل قال أتقبلون صبيانكم يا رسول الله قال: نعم، قال: الرجل إن عندي عشرة من الولد لم أقبل أحدًا منهم فقال  أو أملك لك من الله شيئًا أن نزع الرحمة من قلبك».
 রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ এর সন্তানদের এক লোকের সামনে চুমু দেন। এ দৃশ্য দেখে লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বাচ্চাদের চুমু দেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন লোকটি বলল, আমার দশটি বাচ্চা আছে, আমি তাদের কাউকে কোন দিনও আদর করে চুমু দেই নি। তার কথা শোনে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বললেন, “আল্লাহ যদি তোমার অন্তর থেকে দয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে থাকেন, তবে আমি কিছুই করতে পারব না।”
হে মুসলিম ভাইয়েরা! তোমরা শুধু মুসাফাহা করবে আর কিছু নয়। কারণ, মুসাফাহা করাই সুন্নত। তোমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঈদের সময়ে তোমাদের ভাইদের সাথে মুসাফাহা করবে। আর যখন দেখবে তোমার কোন ভাই সফর থেকে ফিরে আসছে, তখন তার সাথে মু‘আনাকা-কোলাকুলি করবে।
পুরুষের জন্য সে সব নারীদের সাথে মুসাফাহা করা হারাম, যাদের সাথে দেখা দেয়া হারাম। যেমন, ফুফাতো বোন, খালাতো বোন, মামাতো বোন ইত্যাদি। এ বিষয়টি মা‘কাল ইব্‌ন ইয়াসার ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা এর হাদিসে আলোচনা করা হয়েছে। হাদিসটি ইমাম বুখারি ও ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেন-  
قالت عائشة رضي الله عنها "ولا والله ما مست يد رسول الله  يد امرأة قط غير أنه يبايعهن بالكلام" وقالت رضي الله عنها ما أخذ رسول الله  يد امرأة قط إلا بما أمره الله تعالى وما مست كف رسول الله  كف امرأة قط وكان يقول لهن إذا أخذ عليهن «قد بايعتكن كلامًا» رواه البخاري ومسلم.
“আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, না, আল্লাহর কসম করে বলছি, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ কোনো দিন কোনো মেয়ে লোকের হাত স্পর্শ করেন নি। তবে তিনি মহিলাদের কথা দ্বারা বাইয়াত করতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা’ আরও বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ কখনো কোনো মেয়ে লোকের হাত স্পর্শ করেন নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এর কবজি কখনো কোনো মেয়ে লোকের কবজির সাথে লাগে নি। তিনি যখন মহিলাদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিতেন তখন বলতেন, আমি তোমাদের কথা দ্বারা বাইয়াত করে নিলাম”। বর্ণনায় বুখারি ও মুসলিম।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
«أني لا أصافح النساء إنما قولي لامرأة واحدة كقولي لمائة امرأة»
আমি নারীদের সাথে মুসাফাহা করব না, একজন নারীকে আমি যে কথা বলব, একশ নারীর জন্যও সে কথাই থাকবে। বর্ণনায় আহমদ, হাদিসটি বিশুদ্ধ।
মহান আল্লাহ যিনি আরশের অধিপতি তার নিকট আমাদের প্রার্থনা তিনি যেন, আমাদেরকে ও তোমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে যারা কথা শ্রবণ করে এবং সুন্দর কথার অনুসরণ করে। নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা মহামান্য পরম করুণাময় ও দয়ালু।
 নোট: এ পুস্তিকাটিতে যে সব বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে, সবই কুরআন ও হাদিস থেকে নেয়া হয়ে। কুরআনও হাদিসের বাহিলে কোন কিছু বলা হয়নি ।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
31 অগাস্ট 2014 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Ferdausi (10,983 পয়েন্ট)
1 উত্তর
27 জুন 2015 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন sirazul islam (493 পয়েন্ট)

360,001 টি প্রশ্ন

455,177 টি উত্তর

142,533 টি মন্তব্য

190,335 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...