বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
998 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (10,983 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (10,983 পয়েন্ট)
এক- মনে রাখবে সালাম দেয়ার উপকারিতা অনেক। তার মধ্যে একটি উপকার, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এর সুন্নত পালন করা।

দুই- যারা বলেন, প্রথমে সালাম দেয়া ওয়াজিব, তাদের কথা অনুযায়ী হারাম থেকে রেহাই পাওয়া। যদিও বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য মত হল, সালাম দেয়া ওয়াজিব না হওয়া।

তিন-  কৃপণতা থেকে মুক্ত হওয়া।

হাদিসে বর্ণিত, কৃপণ জান্নাতে আদনে প্রবেশ করবে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
أي داء أدوى من البخل، والبخيل بغيض إلى الله، بغيض إلى الناس، بعيد من الجنة، حبيب إلى الشيطان، قريب إلى النيران، والجنة دار الأسخياء .
“কৃপণতার চেয়ে আর কোন ব্যাধি এত বেশি মারাত্মক? কৃপণ আল্লাহর নিকট ঘৃণিত, মানুষের নিকট ঘৃণিত, জান্নাত হতে বিতাড়িত, শয়তানের বন্ধু এবং জাহান্নামের নিকটে অবস্থানকারী। আর জান্নাত হল, দানশীলদের ঠিকানা” ।

চার- যে সব কারণগুলো মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে, সালাম একটি অন্যতম কারণ।

যেমন- আব্দুল্লাহ ইবন সালামের হাদিসে বর্ণিত। এ ছাড়াও সালাম জান্নাতে প্রবেশকে ওয়াজিব করে। যেমন-আবু সারাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ এর হাদিস; তিনি বলেন,
يا رسول الله أخبرني بشيء يوجب الجنة، قال: «طيب الكلام، وبذل السلام، وإطعام الطعام»
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ কে জিজ্ঞাস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! তুমি আমাকে এমন আমল বাতলেয়ে দাও, যা জান্নাতে প্রবেশকে ওয়াজিব করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বললেন, “মিষ্টি কথা, সালামের প্রসার এবং মানুষকে খানা খাওয়ানো। বর্ণনায় তাবরানী, ইবনে হিব্বান স্বীয় সহীহতে এবং হাকেম তার সহীহতে।

পাঁচ- সালামের প্রসার করা, মাগফিরাত ও ক্ষমা লাভ করার কারণ।

আল্লামা তাবরানী আবু সারহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বিশুদ্ধ সনদে হাদিস বর্ণনা করে বলেন,
"قلت يا رسول الله دلني على عمل يدخلني الجنة، قال: «إن من موجبات المغفرة بذل السلام وحسن الكلام».
“আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন আমল বাতলেয়ে দাও, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বললেন, ক্ষমা লাভের কারণ হল, সালামের প্রসার ও সুন্দর কথা”।

ছয়. সালাম মুসলিম ভাইদের মধ্যে পরস্পর মহব্বত সৃষ্টি করে। যেমন উপরে উল্লেখিত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ এর হাদিস ও অন্যান্য হাদিসে বিষয়টি বর্ণিত( )। আর একটি কথা মনে রাখবে মহব্বতের শান অধিক মহান, তার মর্তবা অনেক বড়। আর ঊর্ধ্ব জগত ও নিম্ন জগতের ভিত্তিই হল, মহব্বত।
সমগ্র জগতের উত্থান-পতন, নড়-চড়, সবই মহব্বত থেকেই সৃষ্ট। এ কারণেই মহব্বতের গুরুত্ব সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস অনেক। এ ছাড়াও মহব্বত ঈমানের ঝাণ্ডা হওয়াটা তার গুরুত্ব বুঝার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ্ তা‘আলাই ইহসানের অভিভাবক।

সাত- সালাম দেয়া দ্বারা অপর মুসলিম ভাইয়ের অধিকার আদায় করা হয়।

যেমন- সহীহ মুসলিমে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
«حق المسلم على المسلم ست، قيل وما هن يا رسول الله؟ قال: إذا لقيته فسلم عليه، وإذا دعاك فأجبه، وإذا استنصحك فانصح له، وإذا عطس فحمد الله فشمته، وإذا مرض فعده، وإذا مات فاتبعه».
“একজন মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের হক ছয়টি। জিজ্ঞাসা করা হল হে আল্লাহর রাসূল! সে গুলো কি? তিনি বললেন, তোমার সাথে সাক্ষাৎ হলে, সালাম দেবে। তোমাকে দাওয়াত দিলে, তাতে শরিক হবে, উপদেশ চাইলে,  উপদেশ দেবে। হাঁচি দিয়ে আলহামদু লিল্লাহ বললে, তার উত্তর দেবে। অসুস্থ হলে, তাকে দেখতে যাবে এবং মারা গেলে, তার জানাযায় শরিক হবে”।

আট- আল্লাহর নিকট উত্তম ব্যক্তি হওয়া।

প্রমাণ: ইমাম আবু-দাউদ ও ইমাম তিরমিযী উভয় আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে হাদিস বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
«إن أولى الناس بالله من بدأهم بالسلام» ولفظ الترمذي: "قيل يا رسول الله الرجلان يلتقيان أيهما يبدأ بالسلام؟ قال: أولاهما بالله تعالى.
“আল্লাহর নিকট সর্বাধিক উত্তম ব্যক্তি, যে মানুষকে আগে সালাম দেয়”।

তিরমিযীর শব্দ নিম্নরূপ:
জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! দুইজন লোক পরস্পর পরস্পরের সাথে সাক্ষাৎ হলে কে আগে সালাম দেবে?  রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বললেন, “তাদের দুজনের মধ্যে যে আল্লাহর নিকট অধিক উত্তম”।

নয়- ফযিলত গ্রহণ করা।

প্রমাণ: ইমাম বাযযায ও ইবনে হিব্বান স্বীয় সহীহ কিতাবে জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে হাদিস বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এরশাদ করে বলেন,
«يسلم الراكب على الماشي، والماشي على القاعد، والماشيان أيهما بدأ فهو أفضل».
“আরোহী ব্যক্তি পায়ে হাটা ব্যক্তিকে সালাম দেবে, আর পায়ে হাটা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে সালাম দেবে। আর উভয় ব্যক্তি যখন পায়ে হাটা হবে, তখন যে প্রথমে সালাম দেবে সেই উত্তম”।

আল্লামা তাবরানী কবীর গ্রন্থে এবং স্বীয় কিতাব আওসাতে সহীহ সনদে আগার হতে এবং তিনি মুযাইনা গোত্রের আগার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
«كان رسول الله  أمر لي بجريب من تمر عند رجل من الأنصار فمطلني به، فكلمت فيه رسول الله ، فقال: أغد يا أبا بكر فخذ له من تمره، فوعدني أبو بكر المسجد إذا صلينا الصبح، فوجدته حيث وعدني فانطلقنا، فكلما رأى أبا بكر رجل من بعيد سلم عليه، فقال أبو بكر رضي الله عنه أما ترى ما يصيب القوم عليك من الفضل لا يسبقك إلى السلام أحد، فكنا إذا طلع الرجل من بعيد بادرناه، بالسلام قبل أن يسلم علينا».
“রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ আমাকে একজন আনসারী লোক থেকে এক থলে খেজুর গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সে খেজুর দেয়ার ক্ষেত্রে আমার সাথে টালবাহানা করে। বিষয়টি আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’কে অবহিত করি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’কে ডেকে বললেন, হে আবু বকর! তুমি প্রত্যুষে তার কাছে যাও এবং তার জন্য খেজুর সংগ্রহ কর। তারপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ আমাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন ফজরের সালাতের পর মসজিদে উপস্থিত থাকার। পরদিন আমি তাকে সেখানেই পেলাম, যেখানে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আমি তার সাথে হাটতে হাটতে দেখলাম, যখন তিনি কোনো লোককে অনেক দূর থেকে দেখতেন, তখনি তাকে সালাম দিতেন। আমাকে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ বললেন, তুমি কি দেখছ না? লোকেরা কিভাবে তোমার উপর ফযিলত লাভ করে ফেলছে, কেউ যেন তোমাকে আগে সালাম দিতে না পারে, সে দিকে লক্ষ রাখবে। তারপর থেকে যখন কোনো লোককে অনেক দূর থেকে দেখতাম, তখন তাকে আমরা অনেক দূর থেকে তার সালাম দেয়ার পূর্বেই সালাম দিয়ে দিতাম”।

দশ- আল্লাহর সালাম নামটি প্রচার করার ফযিলত লাভ এবং তা প্রচার করার মাধ্যমে বিশেষ মর্তবা অর্জন করা:

 আল্লামা বাযযার ও তাবরানী উভয়ে শক্তিশালী সনদে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
«السلام اسم من أسماء الله تعالى وضعه في الأرض فأفشوه بينكم، فإن الرجل المسلم إذا مر بقوم فسلم عليهم فردوا عليه كان له عليهم فضل درجة بتذكيره إياهم السلام، فإن لم يردوا عليه رد عليه من هو خير منهم».
“সালাম আল্লাহ্ তা‘আলার নামসমূহ হতে একটি অন্যতম নাম। আল্লাহ্ তা‘আলা যমিনে এ নামটিকে ছেড়ে দিয়েছেন; তোমরা তোমাদের মধ্যে নামটির প্রসার ঘটাও। যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে অতিক্রম করবে এবং তাদের সালাম দেবে, তাহলে তোমরা তার সালামের উত্তর দাও। তার জন্য ঐ সব লোকদের উপর একটি মর্তবা অবশ্যই থাকবে। কারণ, সে লোকদের সালামটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। যদি তারা তার সালামের উত্তর না দেয়, তার সালামের উত্তর এমন একজন দেবে,  যে তাদের চেয়ে অধিক উত্তম”।  

এগার: বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত নেকীসমূহ লাভে ধন্য হওয়া:

আবু-দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী এবং বাইহাকী ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
«جاء رجل إلى النبي  فقال: السلام عليكم، فرد عليه ثم جلس، فقال النبي  عشر، ثم جاء آخر فقال: السلام عليكم ورحمة الله، فرد فجلس فقال عشرون، ثم جاء آخر فقال: السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، فرد فجلس فقال ثلاثون» ورواه أبو داود عن معاذ مرفوعًا بنحوه وزاده "ثم أتى آخر فقال: «السلام عليكم ورحمة الله وبركاته ومغفرته»، فقال: أربعون هكذا تكون الفضائل.
“এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এর দরবারে এসে বললেন, السلام عليكم، রাসূল তার সালামের উত্তর দিল। তারপর লোকটি বসে পড়ল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বললেন, দশ [অর্থাৎ দশ নেকী]। কিছুক্ষণ পর অপর একজন লোক এসে বলল, السلام عليكم ورحمة الله، রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ তার সালামের উত্তর দিল এবং লোকটি বসে পড়ল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বললেন, বিশ। তারপর আরও একজন লোক উপস্থিত হল এবং বলল, السلام عليكم ورحمة الله وبركاته،   রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ তার সালামের উত্তর দিলে এবং লোকটি বসে পড়ল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বললেন, ত্রিশ। ইমাম আবু-দাউদ হাদিসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বৃদ্ধি করেন, তারপর আরও একজন লোক উপস্থিত হল, তখন সে বলল, السلام عليكم ورحمة الله وبركاته ومغفرته، রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বললেন, চল্লিশ।
অনুরূপভাবেই দেয়া হয়ে থাকে সালামের ফযিলত।

বার- নিরাপত্তা-শান্তি অর্জন করা:

যেমন- বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ এর হাদিসে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
«أفشوا السلام تسلموا»
“তোমরা সালামকে প্রসার কর, নিরাপদ থাকবে”।
অর্থাৎ দুনিয়াতে তোমরা কৃপণতা ও গুনাহ হতে নিরাপদ থাকবে। অথবা তার চেয়েও ব্যাপক অর্থ: অর্থাৎ, দুনিয়াতে যাবতীয় সব ধরনের আপদ-বিপদ হতে নিরাপদ থাকবে। আর আখিরাতের ভয়াবহ বিপদ থেকে মুক্তি পাবে।

তের: সালামের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ নিরাপদে অথবা আল্লাহর নামের যিকিরের সাথে অথবা আল্লাহর নাম সালামের সাথে একত্র হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।    

চৌদ্দ: সালাম তোমার অপর মুসলিম ভাইয়ের প্রতি খালেস ভালোবাসাকে জাগ্রত করে:

আল্লামা তাবরানী তাঁর আওসাত গ্রন্থে শাইবা আল-হাজাবী, তিনি তার চাচা থেকে মারফু হাদিস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
«ثلاث يصفين لك ود أخيك: تسلم عليه إذا لقيته، وتوسع له في المجلس، وتدعوه بأحب أسمائه إليه».
 “তিনটি জিনিস তোমার জন্য তোমার মুসলিম ভাইয়ের মহব্বতকে খাটি করে। এক- তোমার সাথে সাক্ষাৎ হলে, সালাম দেবে। দুই- কোনো মজলিসে তাকে জায়গা করে দেবে। তিন- তার নিকট যে নামটি প্রিয়, সে নামে তাকে ডাকবে” ।

পনের: ইসলামের ফযিলত লাভ করা এবং সবার চেয়ে উত্তম হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা:
যেমন, পূর্বে উল্লেখিত আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত হাদিস ।

ষোল- আমাদের পিতা আদম আ. এর সুন্নতকে পূনরুজ্জীবিত করা:

ইমাম বুখারি ও মুসলিম আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
«لما خلق الله آدم قال: اذهب فسلم على أولئك، نفر من الملائكة جلوس فاستمع ما يحيونك، فإنها تحيتك وتحية ذريتك، فقال: السلام عليكم، فقال: السلام عليك ورحمة الله فزادوه ورحمة الله».
“আল্লাহ্ তা‘আলা যখন আদম আ: কে সৃষ্টি করার পর তাকে নির্দেশ দেন, যাও ঐ সব ফেরেশতাদের সালাম দাও যারা বসে আছে। তারপর দেখ তারা তোমাকে কি উত্তর দেয়। তারা যে উত্তর দেবে তা হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের অভিবাদন ও সম্ভাষণ। তারপর তিনি ফেরেশতাদের নিকট গিয়ে বললেন, السلام عليكم، তার এ কথার উত্তরে তারা বলল, السلام عليك ورحمة الله তারা ورحمة الله শব্দটিকে বাড়াল”।

আল্লামা মুজাহিদ রহ. বলেন,
كان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما يأخذ بيدي فيخرج إلى السوق يقول إني لأخرج وما لي حاجة إلا لأسلم ويسلم علي، فأعطي واحدة واحدة وآخذ عشرًا يا مجاهد إن السلام من أسماء الله تعالى، فمن أكثر السلام أكثر ذكر الله تعالى.
“আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ আমার হাত চেপে ধরত, তারপর আমাকে নিয়ে সে বাজারে বের হত এবং বলত, বাজারে আমার কোন প্রয়োজন নাই, তবে আমি বাজারে বের হলাম যাতে বাজারের লোকদের সালাম দিতে পারি। আমরা একজনকে একবার সালাম দিতাম এবং দশটি করে নেকী কামাই করতাম। তিনি বলতেন, হে মুজাহিদ! সালাম আল্লাহর নামসমূহ হতে একটি নাম। যে ব্যক্তি বেশি বেশি সালাম দেয়, সে আল্লাহর যিকির বেশি করল”।  

সতের: জান্নাতিদের সম্ভাষণের সাথে একাত্মতা:

কারণ, যারা জান্নাতে যাবে তাদের সম্ভাষণ হবে সালাম। যেমন, আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনে করীমে এরশাদ করেন।
﴿وَتَحِيَّتُهُمۡ فِيهَا سَلَٰمَٞۚ ١٠ ﴾ [يونس: ١٠]  
 “আর তাতে তাদের অভিবাদন হল ‘সালাম’। [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০]
আল্লাহ্ তা‘আলাই পুরস্কারের অভিভাবক।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
31 অগাস্ট 2014 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Ferdausi (10,983 পয়েন্ট)
1 উত্তর
31 অগাস্ট 2014 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Ferdausi (10,983 পয়েন্ট)

358,830 টি প্রশ্ন

453,898 টি উত্তর

142,169 টি মন্তব্য

189,982 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...