বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
34 জন দেখেছেন
"ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
রেফারেন্স সহ জানাবেন 

জাযাকাল্লাহ 

2 উত্তর

+1 টি পছন্দ
করেছেন (10,132 পয়েন্ট)
নারীদের কবর জিয়ারত প্রসঙ্গে বিপরীতমুখী দুই ধরণের হাদিস পাওয়া যায়।

অধিকাংশ ফকিহর মতে নারীদের কবর জিয়ারতের অনুমতি নেই। কারণ এক হাদীসে আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কবর জিয়ারতকারী নারীদের উপর অভিসম্পাত করেছেন। (মুসনাদে আহমাদঃ ৮৪৪৯ তিরমিযীঃ ১০৫৬ ইবনে মাজাহঃ ১৫৭৫)।

নারীদের কবর জিয়ারতে নিষেধ করার তাৎপর্য এই যে, ইলম ও সবরের স্বল্পতার কারণে তারা ওখানে গিয়ে অস্থিরতা, কান্নাকাটি এবং বিদআত ও গায়রে শরয়ী আচরণ থেকে বিরত থাকতে পারে না। যেহেতু তাদের ওখানে যাওয়ায় ফিতনার আশঙ্কাই প্রবল তাই তাদেরকে বিশেষভাবে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।

উপরিউক্ত বর্ণিত হাদিসের বিপরীত বর্ণনা পাওয়া যায় মুস্তাদরাকে হাকিমে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, হজরত আলী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী কন্য হজরত ফাতেমা (রাঃ) প্রতি জুমাবারে তার চাচা হজরত হামজা (রাঃ) এর কবর জিয়ারত করতেন। তিনি সেখানে নামাজ পড়তেন, কান্নাকাটি করতেন। (মুস্তাদরাকে হাকিমঃ ১৩৯৬)।

কবর জিয়ারত নিয়ে এমন বিপরতমুখী দুই ধরণের হাদিসের সুন্দর ব্যাখা দিয়ে এর সমন্বয় করতে যেয়ে ইমাম তিরমিজি (রহঃ) লিখেছেন, ইসলামি স্কলারদের মতে, যে হাদিসে কবর জিয়ারতকারী নারীদের অভিশাপ করা হয়েছে; ওই হাদিসটি ইসলামের প্রথম যুগের। যখন কবর জিয়ারত ইসলামে নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে যখন নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়ে কবর জিয়ারতের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে তখন সে অনুমতি নর- নারী নির্বিশেষে সবার জন্যই দেওয়া হয়েছে।

তাই তো আমরা দ্বিতীয় হাদিসে দেখতে পাচ্ছি, নবী কন্য হজরত ফাতিমা (রাঃ) প্রতি জুমাবার নিজের চাচার কবর জিয়ারত করতে যেতেন। নবী কন্যার মতো নবী পত্নী হজরত আয়েশা সিদ্দিকাও (রাঃ) কবর জিয়ারত করতেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা বলেন, একদিন হজরত আয়েশা (রাঃ) কবরস্থান থেকে আসলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোথা থেকে আসলেন? তিনি বললেন, আমি আমার ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবু বকরের কবরের কাছ থেকে আসলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেননি? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে কবর জিয়ারতের আদেশ করেছিলেন।

(মুস্তাদরাকে হাকিমঃ ১৩৯২, সুনানে বায়হাকিঃ ৬৯৯৯)

সারকথা হলো, পুরুষদের মতো নারীরাও কবর জিয়ারত করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে, কবর জিয়ারতের নামে বেপর্দা হওয়া যাবে না। শরয়ি পর্দার পূর্ণ অনুগামী হয়ে পুরুষদের সংশ্রব ও সংমিশ্রণ এড়িয়ে এবং কবরের পাশে উচ্চ স্বরে বিলাপ বর্জন করে যদি কোনো নারী কবর জিয়ারত করতে যায় কিংবা আগ্রহী হয় তবে ইসলাম তাকে স্বাগত জানায়।

সুতরাং যদি কোনো নারী ওখানে গিয়ে কোনো প্রকারের বিদআত ও গায়রে শরয়ী কার্যকলাপে লিপ্ত না হন তাহলে তার অনুমতি আছে।

(ফাতাওয়ায়ে শামীঃ খ. ২ পৃ. ২৪২, নতুন মুদ্রণ, মিশর)।

এব্যাপারে আল্লাহ তায়ালাই ভাল জানেন।
0 টি পছন্দ
করেছেন (343 পয়েন্ট)
পূনঃপ্রদর্শিত করেছেন

উত্তরঃ  

মহিলাদের জন্য জনসাধারণের গোরস্তানে যাওয়া নিষেধ। এর কারণ, হাদিস শরিফে বলা কারণসমূহের মধ্যে এমন ইশারা পাওয়া যায় যে, মহিলারা হন নরম হৃদয়ের অধিকারী। কান্না, বিলাপ, মূর্ছা যাওয়া ইত্যাদি মহিলারাই বেশি করে থাকেন। বিশেষ করে নিজ সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের কবর পাশে তারা নিজেদের সামলে রাখতে পারেন না। এসব নিয়ে সিনক্রিয়েট হয় অনেক বেশি। তাদের পোশাক-আশাক, অঙ্গ-ভঙ্গি অনেক সময় ঠিক থাকে না। বেগানা পুরুষ এসব দেখে গোনাহগার হতে পারে। সমান গোনাহগার এই দুঃখভারাক্রান্ত নারীরও হতে হবে। বিশেষ করে একটি বয়সে নারীরা নিয়মিত অসুস্থ হন, তাদের শরীর পাক থাকে না ইত্যাদি কারণে সাধারণ কবরস্থানে নারীদের বিচরণ নিষিদ্ধ। এটি ইসলামের শত্রুরা নারীর প্রতি অমর্যাদা হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করে। যারা শরিয়ত মানেন, তারা বেগানা পুরুষের কবরের পাশেও পর্দা রক্ষা করেন। অবশ্য একাকী কবর কিংবা পারিবারিক কবর কাছে থেকে দেখা বা নিকটে আসা-যাওয়া করা আত্মীয় নারীর জন্য কড়া নিষেধ নয়। সব শর্ত রক্ষা করে নারীরাও নিকটজনের কবরে যেতে পারেন। তবে, তাদের জন্য কবর জিয়ারতের সাধারণ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। নবী করিম (সা.) এর রওজার পাশে নারীরা যেমন দরূদ-সালাম পেশ করতে পারেন, নিজ মাহরামের একাকী কবরেও তারা দোয়া করতে পারেন। আম গোরস্তানে গিয়ে নয়, যেখানে নানারকম মানুষকে কবর দেয়া হয়েছে। নারীরা জানাজার নামাজে শরিক হওয়ার কোনো বিধান শরিয়তে নেই। আলাদাভাবে বা মূল জামাতে কোথাও তারা জানাজা পড়তে পারবেন না। তারা দোয়া, দরূদ, তিলাওয়াত, দান-সদকা ইত্যাদি করতে পারবেন। জানাজা তাদের ওপর ওয়াজিব নয়।

সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতাওয়া বিশ্বকোষ।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর
28 মার্চ "ইবাদত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন lama (66 পয়েন্ট)
1 উত্তর
18 মার্চ "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন শেখ সুলতান আলাম (11 পয়েন্ট)
3 টি উত্তর
05 জুন 2018 "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন চৌগাছা (17 পয়েন্ট)

342,128 টি প্রশ্ন

435,241 টি উত্তর

136,097 টি মন্তব্য

184,486 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...