বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
102 জন দেখেছেন
"ফাতাওয়া-আরকানুল-ইসলাম" বিভাগে করেছেন (40 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন
করেছেন (2,536 পয়েন্ট)

কুরআনুল কারীমের দৃষ্টিতে পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম :
আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন বলেন-
অর্থাৎ- আল্লাহ বলেন, হে প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ঐ দিনের ঘটনা”- (রোজে আজলের সময়ের) যখন আমি (আল্লাহ) আম্বিয়ায়ে কেরামগণের নিকট থেকে এইভাবে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, যখন ‘আমি তোমাদেরকে কিতাব এবং হিকমত’ অর্থাৎ নবুয়ত দান করবো, অতঃপর তোমাদের কাছে এক মহান রাসূলের শুভাগমন হবে- যিনি তোমাদের প্রত্যেকের নবুয়তের সত্যায়ন করবেন, তখন তোমরা সকলে অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান আনযন করবে এবং সর্বোত্তমভাবে তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করবে। তোমরা কি এ কথার অঙ্গীকার করছো এবং অঙ্গীকারে কি অটল থাকবে? সমস্ত নবীগণ বললেন- হাঁ, আমরা অঙ্গীকার করলাম। আল্লাহ তায়ালা বললেন- তোমরা পরস্পর স্বাক্ষী থেকো এবং আমি ও তোমাদের সাথে স্বাক্ষী রইলাম। এর পরেও যে কেউ পিছপা হয়ে যাবে- তারা হবে ফাসেক।

সূত্রঃ তৃতীয় পারা, সূরা আল-ইমরান ৮১-৮২ নং আয়াত।
এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো (১) আয়াতের ইবারাতুন নস-এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, অন্যান্য নবীগণ থেকে আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার আদায় করেছিলেন। (২) দালালাতুন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সমস্ত নবীগণ সেদিন মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। (৩) ইশারাতুন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মূলত ঐ মাহফিলটি নবীজীর আগমনী বা মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর মাহফিল ছিল। (৪) ইক্বতেজাউন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ঐ সময় সমস্ত নবীগণ কি্বয়াম অবস্থায় ছিলেন। কারণ ঐ দরবারে বসার কোন অবকাশ নেই এবং পরিবেশটিও ছিল আদবের।
আরো লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে- এই আয়াতে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থাৎ নবীজীর আগমন সম্পর্কে রোজ আজলের মধ্যে সমস্ত নবীগণকে উপস্থিত রেখে আলোচনা করেছেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন প্রিয় আল্লাহর রাসূল, তাঁর সাথে মানুষের তুলনা হবেতো দূরের কথা, অন্য কোনো নবীর ও তুলনা হয়না। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা সমস্ত নবীদের নিকট দুটি হুশিয়ারী বাণী প্রদান করেছেন। যথা- (১) আমার বন্ধুর উপর ঈমান আনতে হবে। (২) আমার বন্ধুকে সর্বোত্তমভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে।
মানুষ যখন কোনো নেয়ামত ও রহমত প্রাপ্ত হয় তখন তার জন্য আনন্দ উৎসব করা তার স্বভাবগত কাজ, আর আল্লাহর নির্দেশও তাই। যেমন- পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন-
অর্থাৎ- হে মানবকুল তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং অন্তর সমূহের বিশুদ্ধতা, হেদায়াত এবং রহমত ঈমানদারদের জন্য। হে হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি বলুন! আল্লাহরই অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া প্রাপ্তিতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে। এটা তাদের সমস্ত ধন দৌলত সঞ্চয় করা অপেক্ষা শ্রেয়। (সূরা ইউনুছ, আয়াত নং- ৫৭-৫৮)।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ূতী (রহঃ) তাঁর তাফসীর গ্রন্থ আদ দুররুল মুনছুর এ উল্লেখ করেন-
অর্থাৎ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন এখানে আল্লাহর অনুগ্রহ (ফাদ্বলুল্লাহ) দ্বারা ইলমে দ্বীন বুঝানো হয়েছে আর (রহমত) দ্বারা সরকারে দু’আলম নূরে মোজাচ্ছম আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। যেমন- আল্লাহ তায়ালা বলেন, (ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতালি্লল আলামীন) অর্থাৎ হে হাবীব আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত করেই প্রেরণ করেছি।
সূত্রঃ সূরা আম্বিয়া আয়াত নং- ১০৭, তাফসীরে রুহুল মায়ানী, তাফসীরে কবির ও ইমাম সূয়ূতী (রহঃ) কৃত তাফসীরই আদ দুররুল মুনছুর, ৪র্থ খন্ড- ৩৬ পৃষ্ঠায় ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
সামান্য জাগতিক নিয়ামত লাভ করলে তজ্জন্য ঈদ উৎসব করার সরাসরি উদাহরণ আমরা পবিত্র কুরআন মাজীদে দেখতে পাই। যেমন-
অর্থাৎ- মরিয়ম তনয ঈসা (আঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহ! হে আমাদের রব, আমাদের উপর আকাশ থেকে একটা খাদ্য খাঞ্চা অবতরণ করুন যা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী সকলের জন্য ঈদ হবে এবং আপনারই নিদর্শন হবে, সুতরাং আমাদেরকে রিযিক দান করুন। আর আপনিইতো হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিক দাতা। (সূরা মায়েদা, আয়াত নং- ১১৪)।
এ আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে খাঞ্চাভরা খাদ্য আসলে তা যদি হযরত ঈসা (আঃ)-এর ভাষায় পূর্ব ও পরবর্তী সকলের জন্য আনন্দ, উৎসবের কারণ ও আল্লাহর নিদর্শন হয়, তাহলে সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম সত্ত্বা, রহমতের ভান্ডার, প্রিয় নবী আকাও মাওলা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার মত মহান নিয়ামতের শুভাগমনের দিন কতইনা মর্যাদাবান, গুরুত্বপূর্ণও আনন্দের দিন বা মাস তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিল কি-না?
আল্লামা শাহাবুদ্দীন ইবনে হাজর হায়তামী (রহঃ) বলেন, খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করার নীতি প্রচলন ছিল। যেমন-
অর্থাৎ- হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার জন্য এক দিরহাম অর্থ খরচ করবে, সে ব্যক্তি বেহেশ্তে আমার সাথী হবে”। হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাজীম ও সম্মান করলো, সে যেন ইসলামকেই জীবিত রাখলো”। হযরত ওসমান (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার জন্য এক দিরহাম অর্থ খরচ করলো, সে যেন বদর ও হোনাইনের যুদ্ধে শরীক হলো”। হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করবে এবং মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার উদ্যোক্তা হবে, সে দুনিয়া থেকে (তওবার মাধ্যমে) ঈমানের সাথে বিদায় হবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে”। সূত্রঃ আন নে’মাতুল কোবরা আলাল ফি মাওলিদি সাইয়্যেদ ওলদে আদম ৭-৮ পৃষ্ঠা।

সূত্রঃ একুশে টিভি

3 উত্তর

+5 টি পছন্দ
করেছেন (2,062 পয়েন্ট)

এ কথা সর্বজন বিদিত যে, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ স. এর প্রতি গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ ও কর্মকান্ডের আলোচনার সাথে সাথে অনুসরনীয় বিষয়ে তাঁর অনুসরণ আল্লাহ তায়ালার রহমত প্রাপ্তির অন্যতম উপায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। তবে তা আমাদেরকে অবশ্যই সেই পদ্ধতিতে করতে হবে, যে পদ্ধতি স্বয়ং নবী করীম সাঃ তার সাহাবাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। যা বিভিন্ন হাদিস ও সীরাতের কিতাব সমূহে বর্ণিত রয়েছে।

হাদিস শাস্ত্র এমন একটি প্রমাণ সম্ভার যাতে ধর্মীয় সকল বিষয় সহ মানব জীবনের ছোট বড় সকল কাজ করার শিক্ষা রয়েছে। এমনকি পেশাব, পায়খানা করার পদ্ধতি ও দিক নির্দেশনাও রয়েছে।

রাসূল স. এর জীবন চরিত নিয়ে আলোচনা করা এবং তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের পদ্ধতিও হাদিস, আসার তথা সাহাবাগণের উক্তি ও কর্ম পদ্ধতি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আর হাদিস শরিফে এর প্রমাণ এভাবে পাওয়া যায় যে, দিন তারিখ ও সময় নির্ধারণ না করে এবং আনুষ্ঠিকতার বাধ্যবাধকতা ব্যতিরেকে কখনো কখনো রাসূল স. এর জীবনী আলোচনা করা এবং সর্বদা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা। সুতরাং এ সম্পর্কে মনগড়া ভিত্তিহীন কোনো পদ্ধতি আবিস্কার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অবশ্য বর্জনীয় বিষয়।

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,আমাদের দ্বীনের মাঝে যে ব্যক্তি নতুন বিষয় আবিস্কার করে যা তাতে নেই তাহলে তা পরিত্যাজ্য।

সহীহ বুখারী, হাদিস নং-২৫৫০, সহীহ মুসলিম-৪৫৮৯৷

এই হাদিসে কয়েকটি শর্তে বিদআত ও নব আবিস্কৃত বস্তুকে নবীজি সাঃ পরিত্যাজ্য বলেছেন। যেমন,

১৷ সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। যার কোন প্রমাণ নবীযুগে বা সাহাবা যুগে নেই, এমন বিষয় হওয়া।

২৷ দ্বীনী বিষয় হওয়া। সুতরাং দ্বীনী বিষয় ছাড়া যত নতুন বিষয়ই আবিস্কারই হোকনা কেন তা বিদআত নয়৷ যেমন মোবাইল, প্লেইন, নতুন নতুন আসবাব ইত্যাদি। এসব বিদআত নয়। কারণ এসব দ্বীনী বিষয় নয়।

৩৷ দ্বীনের 'মাঝে' নতুন আবিস্কার হওয়া । দ্বীনের 'জন্য' হলে সমস্যা নেই। কারণ দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার মানে হল ইহা সওয়াবের কাজ, যেমন সুন্নাত, ওয়াজিব ইত্যাদী। আর দ্বীনের জন্য হলে সেটা মূলত সওয়াবের কাজ নয়, বরং সওয়াবের কাজের সহায়ক। যেমন মাদরাসা শিক্ষার একাডেমিক পদ্ধতি নববী যুগে ছিলনা। পরবর্তীতে আবিস্কার করা হয়েছে। এই একাডেমিক পদ্ধতিটি দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার নয়, বরং দ্বীনী কাজের জন্য সহায়ক হিসেবে আবিস্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ দ্বীন শিখার সহায়ক। আর দ্বীন শিখাটা সওয়াবের কাজ। কিন্তু সিষ্টেমটা মূলত সওয়াবের কাজ নয় বরং সহায়ক। মিলাদ কিয়াম বিদআত। কারণ এটি নতুন আবিস্কৃত। নববী যুগ বা সাহাবা যুগে ছিল না। সেই সাথে এটিকে দ্বীন মনে করা হয়, সওয়াবের কাজ মনে করা হয় তাই এটি বিদআত।

তাই রাসূল স. এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করা সাওয়াব ও বরকতের কাজ হলেও শরিয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ লোকেরা ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ নামে ‍নির্দিষ্ট দিনে, বিশেষ পদ্ধতিতে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, তা কোরআন-হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণ থেকে প্রমাণিত না হওয়ায় তা অবশ্য পরিত্যাজ্য এবং জঘন্য বিদয়াত। কেননা, সাহাবা, তাবেঈনগণই ছিলেন প্রকৃত নবী প্রেমীক ও তাঁর আদর্শের যথাযথ অনুসারী৷

ইসলামে দুই ঈদ বহু হাদীস দ্বারা প্রমানি৷ যা সাহাবাদের যুগ থেকে পালিত হয়ে আসছে৷ এছাড়া তৃতীয় কোন ঈদ ইসলামে প্রমানিত নয়৷

রবিউল আউয়াল মাসে পালিত প্রচলিত ঈদে মীলাদুন্নবী স. ৬০৪ হিজরীতে ইরাকের মুসিল শহরের বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফার উদ্দীন কুকুরী ও তার এক দরবারী আলেম আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া এ দুজন মিলে আবিস্কার করে। এরা উভয়ে দ্বীনের ব্যাপারে খুবই উদাসীন এবং ফাসিক ছিলো। পরবর্তীতে অজ্ঞ ও মূর্খ লোকদের দ্বারা আরো অনেক শরিয়ত বিরোধী কর্মকান্ড এতে অনুপ্রবেশ করে। যার সব কিছুই কোরআন- হাদিস, ইজমা-কিয়াস তথা শরিয়তের মৌলিক সকল দলীলেরই পরিপন্থী। এসকল কারণেই সব যুগের হক্কানী আলেমগণ এক বাক্যে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী, মিসিল জোশনে জুলুস ও মিলাদ মাহফিলকে নাজায়েয হারাম ও বিদআত বলেই ফত্ওয়া দিয়ে থাকেন।

আরো বিস্তারিত জানতে- এখানে ক্লিক করুন৷

করেছেন (6,445 পয়েন্ট)

@উত্তরদাতা, আপনার মূল ভাষ্য কী ? ঈদে মিলাদুন্নাবী পালন করা জায়েজ নয় বরং নাজায়েজ ?

+4 টি পছন্দ
করেছেন (6,445 পয়েন্ট)

ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা জায়েজ।

“হযরত আবু কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল (সঃ)-এর দরবারে আরজ করা হল, তিনি প্রতি সোমবার রোজা রাখেন কেন ? উত্তরে নবীজি ইরশাদ করেন, এই দিনে আমি জন্মগ্রহন করেছি, এই দিনেই আমি প্রেরিত হয়েছি এবং এই দিনেই আমার উপর পবিত্র কুরআন নাযিল হয়।” (বুলুগুল মারাম, হাদীস নং ৬৮০)

তাহলে জন্মদিন উপলক্ষে স্বয়ং রাসূল (সঃ) নিজে রোজা রেখেছেন। এর থেকে কি এটা প্রতীয়মান হয় না যে, রাসূলের জন্মদিন পালন করা জায়েজ ?

আরো মজার ব্যপার হলোঃ আবু লাহাব একজন কাফের হওয়ার পরও নবীজী (সঃ)-এর জন্মের দিন খুশি হয়ে সে তার সংবাদ দাতা দাসী সুয়াইবাকে আযাদ করে দেওয়ার কারণে পরকালে কঠিন আযাবের ভিতরেও প্রতি সোমবার তার আযাব হালকা করে দেওয়া হয়। 

জনাব! সর্বোপরি - যারা ঈদে মিলাদুন্নাবী পালন করেন, এরাই প্রকৃতপক্ষে সুন্নীয়তের ওপর রয়েছেন। তথাকথিত আহলে হাদীসরা-ই মূলত বলে থাকে যে, ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা জায়েজ নয়, তারা বাতিল ফেরকা হিসেবে পরিচিত। আর আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মত হলোঃ ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা জায়েজ। 

করেছেন (127 পয়েন্ট)
এখন যেভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা হয়, তা জায়েয কিনা হাদিস রেফারেন্স দিয়ে বলুন
করেছেন (6,445 পয়েন্ট)

@

ঈদে মিলাদুন্নাবী এখন আবার কিভাবে পালন করা হয় যে, তা জায়েজ হবে না ?

+2 টি পছন্দ
করেছেন (72 পয়েন্ট)

ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করা সম্পর্কে জায়েজ নাজায়েজ তর্কে জায়েজকেই আমার যৌক্তিক মনে হয়। কেননা নবী প্রেমিকগণ নবীর আগমনের দিন উৎসব করতেই পারে। এতে তো দোষের কিছু নেই।

♦ হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজার প্রতি বেশি খেয়াল রাখতেন।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ঐদিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং ঐদিন আমার উপর (কুরআন) নাযিল হয়েছে। [সহিহ মুসলিম ২৬৪০]

এই দুটি হাদিস থেকে বুঝা যায় হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম আপন জন্মদিন রোজা তথা আমল দিয়ে পালন করেছেন। এখনও যারা ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষে আছে তাদের সিংহভাগই প্রতি সোমবার না হোক অন্তত ১২ই রবিউল আউয়ালে রোজা রাখে। এই আমলকে কিভাবে বিদআত বলবেন?


আর যদিওবা তারপরও এইদিন উদযাপনকে বিদআত বলেন কেউ তাদের জন্য আরও দুটি হাদিস পেশ করছি-

জারীর বিন আব্দুল্লাহ বিন জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন উত্তম পন্থার প্রচলন করলো এবং লোকে তদানুযায়ী কাজ করলো, তার জন্য তার নিজের পুরস্কার রয়েছে, উপরন্তু যারা তদানুযায়ী কাজ করেছে তাদের সমপরিমাণ পুরস্কারও সে পাবে, এতে তাদের পুরস্কার মোটেও হ্রাস পাবে না। আর যে ব্যক্তি কোন মন্দ প্রথার প্রচলন করলো এবং লোকেরা তদানুযায়ী কাজ করলো, তার জন্য তার নিজের পাপ তো আছেই, উপরন্তু যারা তদানুযায়ী কাজ করেছে, তাদের সমপরিমাণ পাপও সে পাবে, এতে তাদের পাপ থেকে মোটেও হ্রাস পাবে না। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২০৩]
♦ জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ ভালো কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে সে তার নিজের সাওয়াবও পাবে এবং তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, তবে তাদের সাওয়াব থেকে একটুও কমানো হবে না। আবার কেউ মন্দ কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে তার উপর নিজের গুনাহ্‌ বর্তাবে উপরন্তু তার অনুসারীদের সম-পরিমাণ গুনাহ্‌র অংশীদারীও হবে, কিন্তু তাতে অনুসরণকারীদের গুনাহ্‌র পরিমাণ একটুও কমানো হবে না। [জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৬৭৫]

আরও উল্লেখ আছেঃ নাসায়ী ২৫৫৪, আহমাদ ১৮৬৭৫, ১৮৬৯৩, ১৮৭০১; দারিমী ৫১২।


আমার নিজস্ব রিসার্চে সুস্থ মস্তিষ্কে চিন্তা করলাম ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম বিদআত অথবা নাজায়েজ হতে পারে না। উপরের দুইটি হাদিস দ্বারা বুঝা যায় ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম পালন যদি নব্যসৃষ্ট কোনো আমলও হয় তাতেও সাওয়াব হবে।

আশাকরি বুঝাতে পেরেছি।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর
2 টি উত্তর
0 টি উত্তর
2 টি উত্তর

342,887 টি প্রশ্ন

435,986 টি উত্তর

136,393 টি মন্তব্য

184,757 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...