বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
44 জন দেখেছেন
"ফাতাওয়া-আরকানুল-ইসলাম" বিভাগে করেছেন (691 পয়েন্ট)
বিভাগ পূনঃনির্ধারিত করেছেন
আর যদি নাজায়েজ হয় থাকে, তাহলে বিভিন্ন ইসলামিক চিন্তাবিদ টিভিতে অনুষ্ঠান সম্পাদনা করেন কেন ?

2 উত্তর

+1 টি পছন্দ
করেছেন (277 পয়েন্ট)
টিভি দেখাতে নিষেধ নেই,

টিভিতে ইসলামিক শিক্ষা বা শিক্ষা মুলক, সংবাদ, সৃষ্টি জগৎ, প্রভৃতি অনুষ্ঠান দেখাতে কোন সমস্যা নেই।

তবে খেয়াল রাখতে হবে টিভিতে যা দেখছেন তা ইসলাম সমর্থন করে নাকি।

টিভিতে নাচ গান, সিনেমা, অশ্লীল কোন কিছু দেখা অবশ্যই যায়েজ হবে না।
0 টি পছন্দ
করেছেন (9,027 পয়েন্ট)
অনেক উলামায়ে কেরামের মতে, টেলিভিশন দেখা নাজায়েজ। কারণ তাতে অনেক গুনাহের কার্যকলাপ প্রদর্শন কারানো হয়। যেমনঃ প্রাণীর ফিল্ম, ছবি, গান, বাজনা, খেল তামাশা, নাচ, গান, বেগানা বেপর্দা মেয়েলোককে দেখা প্রভৃতি।

আবার কোন কোন উলামায়ে কেরামের মতে, টিভি চ্যানেল একটি ভাল প্রচার মাধ্যম। কারণ, এতে অনেক ফায়দা বা শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। টিভিতে যদি কোরআন-হাদিসের কথা আলোচনা করা হয়, এর মাধ্যমে যদি আল্লাহর বান্দাগণ হেদায়েত লাভ করতে পারে, তাহলে এটি দেখা হালাল। শুধু দেখা হালাল তাই নয়, জ্ঞান অর্জন যদি ফরজ হয়ে থাকে, তাহলে এই কাজটিও জ্ঞান অর্জনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।

মূলতঃ কোন প্রচার যন্ত্র ভাল কিংবা মন্দ, সেটা কারো ব্যক্তিগত অভিমতের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। বরং ভাল-মন্দ ফায়সালা হবে শরীয়তের দৃষ্টিতে। টেলিভিশনের মূলই হচ্ছে ছবি, যা দেখা এবং দেখানো শরীয়তে সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি- তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।

উক্ত হাদীছ সমূহে প্রাণীর ছবি তৈরী করা বা মূর্তি নির্মাণ করা হারাম হওয়া সম্বন্ধে প্রকাশ্যেই বলা হয়েছে। এটা তৈরী বা নির্মাণ করা জঘন্যতম পাপের কাজ ও হারামও বটে।

কাজেই, প্রচার যন্ত্র হিসেবে টেলিভিশন যতই ভাল হোক না কেন, আর তার দ্বারা প্রকাশ্যে দেশ ও জাতির যতবড় ফায়দা বা কল্যাণই সাধিত হোক না কেন, তা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ হাক্বীক্বীভাবে টেলিভিশনের মাধ্যমে মানুষের ঈমান, আমল, আখলাক সমস্ত কিছুই বরবাদ হয়ে যায়।

পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা বাক্বারা ২১৯ আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, হে হাবীব! আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, মদ ও জুয়া সম্পর্কে। আপনি বলে দিন, এ দু’টির মধ্যে রয়েছে কবীরাহ গুনাহ। এবং মানুষের জন্য ফায়দাও রয়েছে তবে ফায়দার চেয়ে গুনাহই বড়।

এখানে লক্ষ্যণীয় যে, মহান আল্লাহ পাক নিজেই স্বীকার করেছেন যে, মদ ও জুয়ার মধ্যে দুনিয়াবী ফায়দা রয়েছে, মদ পান করলে স্বাস্থ্য ভাল হয়, জুয়া খেললে রাতারাতি অনেক টাকা পাওয়া যায় তথাপি এগুলোর মধ্যে ফায়দার চেয়ে গুণাহ বেশী বলে এগুলোকে হারাম করা হয়েছে। সুতরাং মদ ও জুয়ার মধ্যে উপকারিতা থাকা সত্বেও এগুলো গ্রহণযোগ্য নয়, এগুলো হারাম। মদ ও জুয়ার মধ্যে উপকারিতার জন্য কেউ যদি এটাকে জায়িয মনে করে, তবে সে কুফরী করলো।

তদ্রুপ ছবির মাধ্যমে প্রচারিত শিক্ষণীয় বিষয়কে কেউ যদি জায়িয মনে করে তবে সেও কুফরী করলো।

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা আ’রাফের-৫৮ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, যা নাপাক তা থেকে নাপাক ব্যতীত কিছু বের হয় না। যেমন পেশাবের মধ্যে এসিড রয়েছে যার কারণে তা দিয়ে ময়লা কাপড় ধৌত করলে পরিষ্কার হবে, কিন্তু পাক হবে না। যদিও বাহ্যিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখা যায়, তথাপিও আভ্যন্তরীণ নাপাকীর কারণে তা পরিধান করে নামায পড়া জায়িয হবে না।

সুতরাং টেলিভিশন, ভিসিআর ইত্যাদির মধ্যে যদিও কোন প্রকার শিক্ষণীয় বিষয় প্রচার অথবা ইসলামী প্রোগ্রাম অনুষ্ঠান হয়, কিন্তু যেহেতু তার মূলই হলো ছবি যা স্পষ্টতই হারাম ও নাজায়িয। তাই টেলিভিশনও সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয।

এছাড়াও বর্তমানে টেলিভিশনের অন্যান্য অশ্লীলতার কারণেও এগুলো হারামের অন্তুর্ভূক্ত। কেননা মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না। (সূরা বাকারাঃ ৪২)

মহান আল্লাহ পাক আরো বলেন, তোমরা কিতাবের কিছু অংশ মানবে, আর কিছু অংশ মানবে না, তা হবে না। (সূরা বাকারাঃ ৮৫)

সুতরাং টিভিতে বা ভিসিআর এ জ্ঞানমূলক, শিক্ষামূলক কিংবা ইসলামী অনুষ্ঠান প্রচার বা দেখার মধ্যে বাহ্যিকভাবে কিছু উপকারিতা থাকা সত্বেও, যেহেতু এসবের মূল হচ্ছে ছবি, যার ফায়দার চেয়ে গুণাহই বড়। তাই টিভি, ভিডিওতে কোন অনুষ্ঠান করা বা দেখা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয। অতএব, টিভি বা যে কোন প্রচার মাধ্যমে ছবির সাহায্যে কোন কিছু প্রচার-প্রসার করা হলে, তা যতই শিক্ষণীয় হোক বা যে কোন ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হোক না কেন, সেটা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
2 টি উত্তর
16 জুলাই "ফাতাওয়া-আরকানুল-ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল

332,156 টি প্রশ্ন

423,045 টি উত্তর

131,425 টি মন্তব্য

181,278 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...