বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
35 জন দেখেছেন
"ইতিহাস" বিভাগে করেছেন (1,301 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (2,536 পয়েন্ট)

ইয়েমেনের সান’আ শহরের জনৈক ইয়াহুদী আলিম ছিল আবদুল্লাহ ইবনে সাবা ওরফে ইবনে সাওদা। হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খিলাফতকালে সে বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে। তার মূল লক্ষ্য ছিল- নিজেকে মুসলমান বলে জাহির করে মুসলমানদের মধ্যে বিরোধ ও ফাটল সৃষ্টি করা, মুসলমানদের ফিৎনা ও গোলযোগ সৃষ্টি করে ভিতর থেকে ইসলামকে বিকৃত ও ধ্বংস করা। ওই লক্ষ্যে সে মদীনায় কিছু দিন কাজ করে সফলকাম হতে না পেরে বসরা চলে গেল। এক সময় সিরিয়া গেল। কিন্তু এসব জায়গায় পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে না পেরে অবশেষে মিশর গমন করল। এখানে সে কিছু লোককে তার দুরভিসন্ধিতে সাহায্যকারী পেয়ে গেল। ঐতিহাসিকদের বর্ণনা মতে- সে সর্বপ্রথম এ ধোঁয়া ছাড়ল যে, ‘মুসলমানদের প্রতি আমার আশ্চর্য লাগে, যারা এ পৃথিবীতে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর পুনরায় আগমন করার কথা বিশ্বাস করে কিন্তু সাইয়িদুল আম্বিয়া মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ধরনের পুনঃরাগমনে বিশ্বাস করেন না; অথচ তিনি সকল পয়গাম্বরের তুলনায় শ্রেষ্ঠ। তিনি অবশ্যই পুনরায় এ পৃথিবীতে আগমন করবেন।

অতঃপর যখন সে দেখল, এ কথাটি মেনে নেয়া হয়েছে, তখন সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বিশেষ আত্মীয়তার ভিত্তিতে তাঁর প্রতি আসাধারণ ভক্তি ও মুহাব্বত প্রকাশ করে তাঁর শানে নানা রকম বাড়তি কথাবার্তা শুরু করে দিল।
এক পর্যায়ে সে বলল, প্রত্যেক নবীর একজন ওয়াসী বা ভারপ্রাপ্ত থাকেন। নবীর ইন্তিকালের পর সেই ভারপ্রাপ্তই নবীর স্থানে উম্মাতের প্রধান হয়ে থাকেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরও নিয়মানুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত থাকার কথা। তিনি কে? তিনি হলেন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু।’ সে বলল, ‘তাওরাতেও তাঁকেই ভারপ্রাপ্ত বলা হয়েছে। অতএব রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পর খলীফা হওয়ার অধিকারী প্রকৃতপক্ষে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওফাতের পর চক্রান্ত করে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর অধিকারকে ছিনিয়ে নিয়ে তাঁর স্থলে আবু বকরকে খলিফা বানানো হয়েছে। তারপর তিনি পরবর্তী সময়ের জন্য ওমরকে মনোনীত করে গেছেন। ওমরের পরও আলীর বিরুদ্ধে চক্রান্ত হয়েছে এবং উসমানকে খলীফা করা হয়েছে, যে এর মোটেও যোগ্য নয়। (না‘ঊযুবিল্লাহ্) সে হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অযোগ্য প্রমাণ করার জন্য তাঁর বিভিন্ন গভর্নরদের নানা বিষয়ে ত্রুটি-বিচ্যুতির দিক তুলে ধরতে থাকল। এভাবে এক পর্যায়ে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার আনুসারী একদল লোক হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠল এই বলে যে, উসমান এবং তার গভর্নরদের কারণে উম্মতের মধ্যে যে ভ্রষ্টতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে তা দূর করা দরকার।
বস্তুত গভর্ণর নিয়োগের ব্যাপারে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সব ক’টি অমূলক বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহের এক পর্যায়ে হযরত আলী এবং হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার মধ্যে ভুলবুঝা বুঝির ফলে ‘জঙ্গে জামাল’ আর হযরত আলী এবং তদানীন্তন সমকালীন প্রাদেশিক গভর্ণর হযরত আমীর মু‘আভিয়ার মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে জঙ্গে সিফ্ফীন সংঘটিত হলো। মোটকথা ‘শী’আনে আলী’ কথাটির অর্থ হল, ‘হযরত আলীর দল’। আর আবদুল্লাহ ইবনে সাবা ইয়াহুদী হল শিয়া মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা।

করেছেন (1,301 পয়েন্ট)
শিয়া মতবাদের জন্ম হয়েছে কিভাবে ?
বুঝলাম না ।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
27 জুন 2015 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মো: মামুনুর রশিদ (5,622 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
25 এপ্রিল 2018 "ইতিহাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Mehedi Mithu (20 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর
02 এপ্রিল "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন safayet hossen (293 পয়েন্ট)
1 উত্তর
02 ফেব্রুয়ারি "নবী-রাসূল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন jahirul khan jubaer (29 পয়েন্ট)

331,286 টি প্রশ্ন

422,069 টি উত্তর

131,067 টি মন্তব্য

181,030 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...