41 জন দেখেছেন
"সাধারণ" বিভাগে করেছেন (9 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (6,242 পয়েন্ট)
বাংলাদেশের প্রায় সকল শিক্ষিত মানুষই একটি শব্দের সঙ্গে বহুল পরিচিত। এটি ইংরেজী শব্দ Piracy যার আভিধানিক অর্থ ‘গ্রন্থাদির স্বত্ত লঙ্ঘন’। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের অর্থমান বহুগুণ সম্প্রসারিত। ফলে, এখন পাইরেসি কেবল গ্রন্থস্বত্ত লঙ্ঘনকেই বোঝায় না, যেকোন অনুমোদনবিহীন সৃষ্টিকর্মের উৎপাদনই পাইরেসি। সৃষ্টিশীল মানুষ দু’ধরণের সম্পদ নিয়ে শিক্ষিত জীবন যাপন করে; প্রথমত বস্তুগত সম্পদ-জায়গাজমি, গাড়ি-বাড়ি, টাকা পয়সা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প কারখানা ইত্যাদি ও নানারকম প্রাত্যহিক ব্যবহার্য দ্রব্যাদি এবং দ্বিতীয়ত মেধাসম্পদ বা Intellectual Property এর আওতায় আছে- সাহিত্যকর্ম, নাট্যকর্ম, শিল্পকর্ম, সঙ্গীতকর্ম, অডিও-ভিডিওকর্ম, চলচ্চিত্রকর্ম, ফটোগ্রাফি, ভাস্কর্যকর্ম, সস্প্রচারকর্ম ইত্যাদি। মানুষের বস্তুগত সম্পদ যেমন মালিক বৈ অন্য কেউ প্রকৃত মালিকের অনুমতি বা মূল্য পরিশোধ ছাড়া ভোগ বা ব্যবহার করতে পারে না, মেধা সম্পদের রক্ষায় সারা পৃথিবীর মানুষ ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যতটা সচেতন ও কর্তব্য পরায়ন, মেধাসম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে ঠিক যেন তার বিপরীত, বিশেষ করে এশীয় প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোতে। মেধাসম্পদের রক্ষা এর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যে শব্দটি সংশ্লিষ্ট তা হচ্ছে বা Copyright কর্মের অধিকার। ইংরেজী Copyright শব্দটির মধ্যেই এর অন্তনির্হিত অর্থটি লুকিয়ে আছে। আমরা যদি Copyright ও Right এভাবে শব্দটি বিশ্লিষ্ট করে অর্থ বিশ্লেষণ করি তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায় Copy করার অধিকার। অর্থাৎ সকল ধরণের সৃষ্টিশীল কর্মই (যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) কর্মের স্রষ্টা বা রচয়িতার অনুমতি ছাড়া কপি করা বা পুনরুৎপাদন করা, অনুবাদ করা, উপযোগী করা, রুপান্তর করা বা অভিযোজন করা, তা বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত, যে পর্যায়েই হোক না কেন, তা কপিরাইট ধারণা, আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, দেশিয় আইন, নৈতিকতা ও ইতিবাচকবোধের চরম পরিপন্থী। কপিরাইট সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড সবসময় একাধিক পক্ষ সংশ্লিষ্ট। সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রধানত লেখক, প্রকাশক ও পাঠক, সঙ্গীতের ক্ষেত্রে গীতিকার, সুরকার, গায়ক, যন্ত্রী ও সঙ্গীতকর্মের প্রকাশক বা উৎপাদক, চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে কাহিনীকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার, প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক, সহশিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এমনিভাবে সৃষ্টিশীল প্রতিটি কর্মপরিসরে অসংখ্য মানুষ সম্পৃক্ত থাকেন। যন্ত্র ও প্রযুক্তির যত উৎকর্ষ হচ্ছে, বিশেষ করে কম্পিউটার-ডিজিটাল বিশ্বে এ যুগে কার সৃষ্টিকর্ম কিভাবে চৌর্যবৃত্তির ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে তা সবসময় ঠিকভাবে অনুসরণ করাও সম্ভব না। বিশেষ করে বর্তমান ইন্টারনেট যুগে ঘরে বসেই আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কর্মের উপাদান বা উৎস হাতে পেয়ে যাচ্ছি। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই সেই সৃষ্টিশীল কর্মের রচয়িতাই বঞ্চিত হচ্ছে তার যথাযথ Royalty থেকে। কেবল জীবিত রচয়িতাই নন, সারা পৃথিবীতেই জীবিত রচয়িতা এবং তার মৃত্যুর পর সেই রচয়িতার বৈধ উত্তরাধিকারগণের দেশভেদে পঞ্চাশ থেকে সত্তর বছর ধরে সৃষ্টিকর্মের রয়্যালটি পেয়ে থাকার কথা। বাংলাদেশি আইনে একজন রচয়িতার মৃত্যূর পর ষাট বছর পর্যন্ত এই অধিকার বলবৎ থাকে।

মোঃ আরিফুল ইসলাম বিস্ময় ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা। খানিকটা অস্তিত্বের তাগিদে আর দেশের জন্য বাংলা ভাষায় কিছু করার উদ্যোগেই ২০১৩ সালে তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে বিস্ময় ডট কম। পেশাগত ভাবে প্রোগ্রামার।
টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

এ সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন খুঁজে পাওয়া গেল না

288,811 টি প্রশ্ন

374,212 টি উত্তর

113,196 টি মন্তব্য

157,357 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...