বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
153 জন দেখেছেন
"ফাতাওয়া-আরকানুল-ইসলাম" বিভাগে করেছেন (90 পয়েন্ট)

image

2 উত্তর

+2 টি পছন্দ
করেছেন (10,638 পয়েন্ট)
যে কারনে মাজহাব মানবেনঃ যারা একান্তই কোরআন হাদিসের বিধি বিধানগুলো জানেন না অথবা অন্য কোনোভাবে যার জানার সুযোগ নেই, তিনি যদি কোনো মাজহাবের অনুসরন করেন, তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে মূল উদ্দেশ্য একটিই হতে হবে। সেটি হল কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরন করা।

মাজহাব কোনো দ্বীন নয়। আমাদের সম্মানীত চারজন মাজহাবী ইমামেরা কোরআন এবং সুন্নাহর অনুসরন করেছেন। তাদের সময়ে যেসব বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং যেখানে পবিত্র কোরআন এবং সহিহ হাদিসের নির্দেশনা পান নি, সেক্ষেত্রে তারা গবেষণা করেছেন। তারা একথাও বলেছেন, যদি আমার গবেষণার সাথে কোনো সাংঘর্ষিক হাদিস পাওয়া যায়, তাহলে সেটিই আমার মাজহাব, যদি আমার বক্তব্যের সাথে কোনো হাদিসের সাংঘর্ষিক অবস্থা হয়, তাহলে আমার বক্তব্যকে তোমরা দেয়ালের ওপারে ছুঁড়ে মারো।

তিনি আরো বলেছেন, যদি আমি এমন কথা বলি যা আল্লাহর কিতাব ও রাসুল (সাঃ) এর হাদিসের পরিপন্হি তাহলে আমার কথাকে বর্জন করো।

আমাদের দেশে অতি প্রচলিত হচ্ছে হানাফি মাজহাব। সাধারণ লোক কেউ যদি মাজহাবের মাধ্যমে কোরআন সুন্নাহর অনুসরন করে তাতে কোনো সমস্যা নেই।

আবু হানিফা (রহঃ) যিনি এই মাজহাবের ইমাম, তিনিও কিন্তু সুন্দর একটি মূলনীতি দিয়ে গিয়েছেন, তিনি বলেছেন, যদি সহিহ হাদিস পাও, তুমি যদি সেটি আমল করো, কিন্তু বাস্তবে যদি দেখা যায় আমার মাজহাবের একটি সিন্ধান্ত রয়েছে আল্লাহর রাসুলের হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক অথবা একটু উল্টো, রাসুলের (সাঃ) হাদিসের ওপর যদি আমল করো, তাহলে মনে রাখবে আমি ইমাম আবু হানিফার মাজহাব ঐটিই।

চার ইমামদের কেউ নিজ মাজহাবের অনুসরণ করার জন্য মানুষদের আহ্বান করেন নি অথবা তা অনুসরণের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করেন নি অথবা তা অনুসারে কিংবা নির্দিষ্ট কোন মাযহাব অনুসারে আমল করার জন্য অন্য কাউকে বাধ্য করেন নি। বরং তারা মানুষদের কুরআন ও সুন্নাহ এর অনুসরণ করার আহ্বান করতেন এবং তারা ইসলামি দলিলের উপর মন্তব্য করতেন, তার মূলনীতি ব্যাখ্যা করতেন, সাধারণ নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষুদ্র বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতেন এবং মানুষ যা জিজ্ঞেস করতো সে বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করতেন।

সারা বিশ্বে চারটি মাজহাব খুব প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এই মাযহাব গুলোর ইমাম যারা ছিলেন তারা কোরআন হাদিসের নির্যাস বের করে সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সহজ করে দিয়েছেন। যারা একান্তই কোরআন হাদিসের বিধি বিধানগুলো জানেন না অথবা অন্য কোনোভাবে যার জানার সুযোগ নেই, তিনি যদি কোনো মাজহাবের অনুসরন করেন, তাহলে তার এসব বিধিবিধান জানতে অনেক সহজ হবে। তবে মূল উদ্দেশ্য একটিই হতে হবে সেটি হল কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরন করা।

আপনি যদি নিজেই কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরন করে মতবিরোধ বা বিতর্কিত বিষয়গুলি আল্লাহ এবং রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দিতে পারেন তাহলে আপনাকে মাজহাব না মানলেও হবে। তবে নিজে নিজেই কখনোই মতবিরোধ বা বিতর্কিত বিষয়গুলির সমস্যা সমাধান করতে পারবেন না।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা যদি কোন বিষয়ে মতবিরোধ করে থাক, তাহলে বিতর্কিত বিষয়টি আল্লাহ এবং রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের প্রতি ঈমান এনে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। (সূরা নিসাঃ ৫৯)

একজন সাধারণ মুসলিমের পক্ষে শুধু কুরআন ও হাদীসের অনুবাদ পড়েই মতবিরোধ বা বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমস্যা সমাধান সম্ভাপর নয় এবং সঠিক পদ্ধদিতে ইবাদত করাও সম্ভব নয়।

তাই এমন সাধারণ মুসলিম কিভাবে দ্বীন পালন করবে?

তাদের জন্য সহজ পথ হলো, কুরআন ও হাদীস বিশেষজ্ঞ চার মাযহাবের ইমামগণ কুরআন ও হাদীস ঘেটে মতবিরোধ বা বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান বের করে দিয়েছেন, তাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা অনুপাতে ইসলামী শরীয়ত অনুসরণ করা। এর নামই হলো মাজহাব অনুসরণ।

আর এমন দ্বীন বিশেষজ্ঞকে অনুসরণের কথা কুরআন ও হাদীসে নির্দেশ এসেছে। আল্লাহ অভিমুখী তথা কুরআন ও হাদীস বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের অনুসরণ করার পরিস্কার নির্দেশ দিয়েছেনঃ

অতএব তোমরা যদি না জান তবে যারা জানে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। (সুরা আম্বিয়াঃ ৭)

এ আয়াতেও না জানলে, না বুঝলে, বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে জিজ্ঞাসা করে মানতে বলা হয়েছে। আর বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নির্দেশনা অনুপাতে ইসলামী শরীয়ত মানার নাম-ই তো মাজহাব।

সাধারণ মানুষ চাইলে যেকোনো একটি মাজহাব মানতে পারেন, কিন্তু মাজহাব মানা বাধ্যতামূলক নয় এমন কথা মাজহাবের সম্মানিত ইমারাও বলে যান নি।

তাই কোনো জিনিসকে ফরজ বলতে হলে শরিয়তের বিধান লাগবে, যে বিষয়টি আল্লাহর রাসুলের (সাঃ) সময়ে ফরজ হয় নি, সাহাবাদের সময়ে ফরজ হয় নি, তাবিয়ানদের যুগে ফরজ হয় নি, পরবর্তিতে সেটি ফরজ করার মত সাধ্য আমাদের হাতে নেই।
সাবির ইসলাম অত্যন্ত ধর্মীয় জ্ঞান পিপাসু এক জ্ঞানান্বেষী। জ্ঞান অন্বেষণ চেতনায় জাগ্রতময়। আপন জ্ঞানকে আরো সমুন্নত করার ইচ্ছা নিয়েই তথ্য প্রযুক্তির জগতে যুক্ত হয়েছেন নিজে জানতে এবং অন্যকে জানাতে। লক্ষ কোটি মানুষের নীরব আলাপনের তীর্থ ক্ষেত্রে যুক্ত আছেন একজন সমন্বয়ক হিসেবে।
0 টি পছন্দ
করেছেন (744 পয়েন্ট)
মাযহাব মানা আবশ্যক নয়।

তবে কিছু মাসআলা আছে যেগুলোর জন্য মাযহাবের ইমাম গনের মতামত জরুরী,

তবে সেহ্মেত্রে নির্দিষ্ট কোন মাযহাব না নামাই শ্রেয় যেই মাসআলার হ্মেত্রে যেই ইমাম এর টা বেশি কোরআন ও হাদীস দ্বারা গ্রহনযোগ্য তার তা মানবেন। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

2 টি উত্তর
27 জানুয়ারি 2018 "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Isan (655 পয়েন্ট)
1 উত্তর
07 অক্টোবর "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল

358,877 টি প্রশ্ন

453,952 টি উত্তর

142,179 টি মন্তব্য

189,994 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...