122 জন দেখেছেন
"ইতিহাস" বিভাগে করেছেন (7 পয়েন্ট)
বৌদ্ধরা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব সম্পাদন করে কোন সময়?

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (163 পয়েন্ট)

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যাপক ভাবে বুদ্ধপূজার প্রচলন হয় কুষাণ যুগে, প্রথম খ্রিষ্টীয় শতাব্দীতে মহারাজ কনিষ্কের রাজত্ব কালে। উপাসকগণের মধ্যে এক শ্রেণির লোক যখন বুদ্ধের মূর্তি তৈরি করে বুদ্ধের পূজা করতে আরম্ভ করেছিল তখনই তাকে স্বগোত্রে অপর শ্রেণীর উপাসকগণ বুদ্ধ নিদ্দিষ্ট পার্থক্যেই দৃঢ় ভাবে অবলম্বন করে থাকলেন। প্রাচীন বৌদ্ধধর্মে বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ ত্রিশরণ মন্ত্র রূপে গৃহীত হয়েছিল। পরবর্তী যুগে বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ জ্ঞান-কল্যাণ-শক্তির প্রতীক রূপে ত্রিমূর্তি ধারণা করে বুদ্ধ বৌদ্ধদের পূজার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। কালক্রমে বৌদ্ধগণ কেবল বুদ্ধ ধর্ম সংঘের প্রতীক পূর্ণ করে সন্তুষ্ট হলেন না। ত্রিরতœ কে মানবীর মূর্তিতে রূপায়িত করে দেবত্বে প্রতিষ্ঠিত করে নিলেন। পণ্ডিত সিদ্ধ হর্ষের সংগৃহিত ধাতব মূর্তি ক্রয়ের একটি ধর্মদেবতার প্রতিমা। এখানে ধর্ম বুদ্ধ দেবতার দেিণ পদ্মাসনে চতুর্ভূজা নারী মূর্তি উপবিষ্টা।৮

পুরাতত্ত্ববিদ Sir Cunningham এর মহাবোধি চিত্রে দেখা যায়- বুদ্ধদেবের বামে সংঘ ত্রিভূজা নারী মূর্তিতে এবং ধর্ম পুরুষ রূপে বুদ্ধের দক্ষিণ পার্শ্বে আসন গ্রহণ করেছে।৯ তার ধর্ম মতে যাগ, যজ্ঞ, ফেস প্রভৃতি পূজার কোন নির্দ্দেশ নেই। তাকে দেবতার আসনে বসিয়ে পূজার ব্যবস্থাও তিনি নিষেধ করে দিয়েছিলেন। বুদ্ধ নিজে কখনো তান্ত্রিক ভাবধারাকে স্বীকার করেননি। এ মতের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন বিখ্যাত বৌদ্ধ যোগচারী সন্ন্যাসী অসঙ্গ। প্রকৃত পে বৌদ্ধ অর্চনা হীনযানে ছিলই না। বুদ্ধের পরিনির্বাণের ৪/৫ শত বৎসর পরে বুদ্ধমূর্তি বিহারে প্রতিষ্ঠিত হয়। কারো কারো মতে, খ্রিষ্টীয় শতাব্দীর প্রথম শতকে মূর্তি নির্মিত হয়। ক্রমে আসতে লাগলো এক একটি ধ্যানী বুদ্ধ। প্রথম অভিতাভ, তার পর আেভ্য, বৈরোচন, রতœসম্ভব, তার পর অমো সিদ্ধি। বৌদ্ধধর্মে তখন ব্রাহ্মণ্য মতের তান্ত্রিক ভাবধারা প্রবল ভাবে প্রবেশ করেছিল। কারণ শেষে তারাদেবী, ডাক, ডাকিনী, পেত, যোগধ্যানী, হারতি, বৌদ্ধ শ্যামা দেবী প্রভৃতির উপাসনা করা হতো। ইহা নিঃসন্দেহে এই সকল পাপাচার চরিত্রহীন দেবদেবী। বৌদ্ধগণের ক্রিয়াকাণ্ডে লোক সাধারণের মনে বৌদ্ধ সমাজের প্রতি অশ্রদ্ধা জন্মে ছিল এবং বৌদ্ধ সমাজ ধর্মহীন ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এই প্রসঙ্গে ঝরৎ ঈযধৎষবং ঊষরড়ঃ তাঁর প্রণীত ঐরহফঁরংস ধহফ ইঁফফযরংস গ্রন্থে বলেছেন,Sir Charles Eliot Zuvi cÖYxZ Hinduism and Buddhism MÖ‡š’ e‡j‡Qb, The aberration of Indian religion is not due to its inherent depravity but to its Universality. In Europe those who follow dis-reputable occupation rarely suppose that they have anything to do with church. In India robbers murderer’s gamblers, prostitutes and maniwes all have their appropriate gods.10

বৌদ্ধরা ধর্ম বিশ্বাসে বৌদ্ধ ছিল কিন্তু ধর্মীয়, সামাজিক ও বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠনে তাদের বৌদ্ধ বলা অযৌক্তিক হবে। কারণ তারা বৌদ্ধধর্মের, বৌদ্ধ সংঘের বাহিরে তাদের সাম্প্রদায়িক স্বাতন্ত্র্য রার বিরোধী হয়। স্যার চার্লস ইলিয়াড লিখেছেন, It aimed not at founding a seat but at including all the world as lay believers of easy farms. This ascendant but its effect was disastrous when decline began. The line dividing Buddhist lay man from ordinary thirds became less and less marked.

ত্রিপিটকের সুত্ত নিপাত গ্রন্থে বুদ্ধ একস্থানে উপ শিব-এর প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, যিনি নির্বাণ প্রাপ্ত হন কোন ভাবেই তাকে পরিমাপ করা যায় না। তার আকৃতি নির্দেশ করা যায় না। যখন সমস্ত উপকরণ সরে যায় তখন তিনি অস্তিত্বে লীন হন। অস্তিত্বের এই উপকরণ হচ্ছে ধর্ম। চূড়ান্ত নির্বাণের পর এগুলো থাকে না। তখন নির্বাণ প্রাপ্ত ব্যক্তি আকিঞ্জন হয়ে যান। বুদ্ধ আরো বলেছেন যে, নির্বাণ প্রাপ্তকে পূজা দিতে হয় না। কারণ নির্বাণ প্রাপ্তগণ পূজা পান না। সুতরাং বুদ্ধের কোন ছবি বা মূর্তি তৈরি করে খাদ্য ভোজ্য আহার, বাতি, ধূপ, ফুল ও সুগন্ধী দ্রব্যাদি দ্বারা পূজা করা প্রকৃত অর্থে লোকাচার। উল্লেখ্য যে সাঁচীর বৌদ্ধ স্তূপ পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপো পরিচিত। সাঁচী ভারতবর্ষের মধ্য প্রদেশে অবস্থিত। বুদ্ধমূর্তি নির্মাণের উপকরণ হিসেবে কখনও কাঠ ব্যবহার হয়েছে, কখনও পাথর, কখনও ব্রোঞ্জ, কখনও স্বর্ণ বা অন্য কোন ধাতু। আবার দেয়াল গাত্রের ফ্রেসকো হিসেবে বুদ্ধমূর্তি তৈরি হয়েছে।

মহাপরিনির্বাণ সূত্রে বুদ্ধ এসব কিছুর পূজা করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও বৌদ্ধদের অনাড়ম্ভরপূর্ণ উৎসব ও পূজা পার্বণ। যেমন বুদ্ধমূর্তি, স্তূপ, বোধিবৃ, বুদ্ধাস্থি, কৃত্রিম বুদ্ধ পদচিহ্ন ইত্যাদি প্রচলিত আছে। আর এ সব বুদ্ধ জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পবিত্র বিষয় বলে বিহারে থাকে। বৌদ্ধরা এগুলোর পূজা করে থাকে।১১ এসব প্রচার অনুষ্ঠান নির্বাণকামী ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয় হলেও ধর্মীয় আবেগ পূর্ণ করার ল্েয এগুলোর গুরুত্ব ও মূল্য অপরিসীম।

পদ্মসূত্রের কথা : বুদ্ধ নিজেকে সর্বদাই মানুষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং কখনও ঈশ্বর বা দিব্য পুরুষ বলে ঘোষণা করেননি। তিনি (বুদ্ধ) শিষ্যদের সম্যক উপদেশ প্রদান করেছেন। কিন্তু কালজয়ী মহাযানী পদ্মসূত্রে বুদ্ধের মতের বিরোধী বক্তব্য রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই ত্রিজগৎ আমারই কর্মত্রে। এর সমস্ত প্রাণী আমারই সন্তান। কিন্তু এই পৃথিবী দুঃখময় এবং কেবল মাত্র আমিই তোমাদের বাঁচাতে এবং রা করতে পারি। বুদ্ধের কর্মবাদী ধর্মে, কখনও এসব কথা নেই, কিন্তু মূল নিক্কোও নিওয়ানো অনুবাদ করতে গিয়ে জ্ঞান বিকাশ বড়–য়া ‘শান্তির জন্য নিবেদিত’ গ্রন্থে ৩৯ পৃষ্ঠায় এমন লৌকিক অবাস্তব স্ববিরোধী কথার অবতারণা করেছেন। এ বক্তব্য যদি ঠিক হয় তাহলে বুদ্ধের ধর্মদর্শন ঈশ্বরবাদী বা একেশ্বরবাদী ধর্মের মাপকাটিতে পড়ে। ইহা আসলে লোকাচার দৃষ্টিভঙ্গি।

মাজার পূজা বা জেয়রত : ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় যে, বৌদ্ধধর্মের সমাজ সংস্কৃতিতে বর্তমান সময়ে ইসলাম ধর্মের লৌকিক ক্রিয়াকর্মের মাজার জেয়ারত প্রথা প্রচলিত আছে। কিন্তু সেই মাজার জেয়ারত বড়ুয়া ও পার্বত্য বৌদ্ধরা মাঝে মধ্যে করে থাকে। সময়ের বিবর্তনে ইসলাম ভাবাদর্শী মাজার জেয়ারত বৌদ্ধধর্মের এক বিশেষ করণীয় পূজা হয়। বৌদ্ধ ধর্মীয় ত্রিপিটক সাহিত্যের কোথায়ও মাজার পূজা সম্পর্কে উল্লেখ পাওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও কিন্তু বড়ুয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে জনমনে মাজার পূজা আছে। কালের বিবর্তনে বৌদ্ধধর্মের পতন ও বিলুপ্ত প্রায় হয়েছিল একথা নিঃসন্দেহ। কিন্তু তারই সুবাধে বৌদ্ধধর্মের মধ্যে নয়; বরং বড়ুয়া বৌদ্ধ সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে সর্বোপরি মানুষের অন্তরে এই মাজার পূজা বা মাজার জেয়ারত কালক্রমে বড়ুয়া বৌদ্ধদের একটি প্রথায় পরিণত হয়।১২

সেই ছিন্ন লোকরীতি মাজার পূজা বাঙালি বড়ুয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে বহুল ভাবে প্রচলিত। লোকচার ও কুসংস্কার আদৃত কাল্পনিক এই মাজার পূজা বা জেয়ারত। একটু সচেতন ভাবে ল্য করলে দেখা যাবে যে, এই মাজার বা দরগাগুলো বিশেষ করে গড়ে উঠেছে প্রায় নির্জন বনে জঙ্গলে কিংবা অজ্ঞ অশিতি দারিদ্র নিরান্ন এলাকায় বা কোন যাতায়াত ব্যবস্থার মাঝে মাঝে এলাকা জুড়ে। মহাকারুণিক গৌতম বুদ্ধ প্রচারিত বৌদ্ধধর্ম শাস্ত্র ত্রিপিটকে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, এসো, দেখ, পর্যালোচনা কর, নিজে জানো, সমালোচনা কর এবং নিজেকে প্রশ্ন কর। যদি গ্রহণীয় হয় তাহলে গ্রহণ কর আর যদি বর্জনীয় হয় তাহলে বর্জন কর। এছাড়া মহাপরিনির্বাণ সূত্রে তিনি বলেছেন

টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
30 অক্টোবর 2015 "খ্রিস্টান ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজানা বালক (18 পয়েন্ট)
1 উত্তর
1 উত্তর
14 ফেব্রুয়ারি 2018 "বৌদ্ধ ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অচেনা আশিফ (5 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
23 জুন 2017 "বৌদ্ধ ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল

288,318 টি প্রশ্ন

373,632 টি উত্তর

113,005 টি মন্তব্য

156,901 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...