বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
83 জন দেখেছেন
"ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে করেছেন (36 পয়েন্ট)
পূনঃরায় খোলা করেছেন

2 উত্তর

+1 টি পছন্দ
করেছেন (496 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর

আধুনিক, ফোক, রক, মেটাল, পপ, জ্যাজ, শ্যামা, নবী তত্ত্ব, মুর্শীদি, জারী, কাওয়ালী, পল্লীগীতি, ভাটিয়ালী, মাইজভান্ডারী ইত্যাদি যে কোন প্রকার গানই হোক না কেন; গান-বাজনা করা ও শোনা  হারাম-কবিরা গুনাহ । তবে, বাজনা বা বাদ্য-যন্ত্র ব্যতিত গানের কথা ভাল হলে; অশ্লীল, কামোদ্দীপক, মিথ্যা ও ইসলামী আক্বীদা-পরিপন্থী না হলে কোন সমস্যা নেই। যেমন, আল্লাহ তা’আলার গুনাবলী বিষয়ে হামদ, না’ত, কাসীদা, গজল ইত্যাদি পাঠ করা ও শোনা জায়েয রয়েছে।

মনে রাখবেন, গান-বাজনা হারাম হওয়ার ব্যাপারে লেশমাত্র সন্দেহ নেই।

কোরআনের ভাষ্য:

আর আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে যারা অজ্ঞতায় লোকেদেরকে আল্লাহ্‌র পথ হতে বিচ্যুত করার জন্য অসাড় বাক্য বেছে নেয় এবং আল্লাহ্‌র প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। ওদেরই জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। (সূরা লুকমান ৬ আয়াত)

ইবনে মাসঊদ রাযি. উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, واللهِ الذي لا إله إلا هو إن لهو الحديث لهو الغناء ‘সেই আল্লাহ্‌র কসম যিনি ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই! নিশ্চয় তা (অসার বাক্য) হচ্ছে গান।’ (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৮/৩,৪)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. একই কথা বলেন। তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে যুবাইর থেকেও অনুরূপ মত বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. বলেন, উক্ত আয়াত গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যা বান্দাকে কুরআন থেকে গাফেল করে দেয়।(তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৪১)

কোরআন মজীদের অন্য আয়াতে আছে, ইবলিস-শয়তান আদম সন্তানকে ধোঁকা দেওয়ার আরজী পেশ করলে আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে সম্বোধন করে বলেন,

وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِم بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الأَمْوَالِ وَالأَوْلادِ وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلاَّ غُرُورًا
তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়াজ দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর, তাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ত তিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না। (সূরা ইসরা ৬৪)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, যে সকল বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তাই ইবলিসের আওয়াজ। বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রহ. বলেন, ইবলিসের আওয়াজ বলতে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার মধ্যে গান-বাদ্যই সেরা। এজন্যই একে ইবলিসের আওয়াজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯)
হাদীসের ভাষ্য:

রাসূলুল্লাহ  বলেন,

لَيَشْرَبَنَّ أُنَاسٌ مِنْ أُمَّتِى الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا وَتُضْرَبُ عَلَى رُءُوسِهِمُ الْمَعَازِفُ يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الأَرْضَ وَيَجْعَلُ مِنْهُمْ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ

আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ  ৪০২০ সহীহ ইবনে হিব্বান ৬৭৫৮)

সহীহ বুখারীতে আছে, রাসূলুল্লাহ  বলেন,
 لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ
আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে। (সহীহ বুখারী ৫৫৯০)
সাহল বিন্ সা’দ্ রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  বলেন,

سَيَكُوْنُ فِيْ آخِرِ الزَّمَانِ خَسْفٌ وَقَذْفٌ وَمَسْخٌ ، قِيْلَ: وَمَتَى ذَلِكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟ قَالَ: إِذَا ظَهَرَتِالْمَعَازِفُ وَالْقَيْنَاتُ

অচিরেই শেষ যুগে দেখা দিবে ভূমি ধস, নিক্ষেপ ও বিকৃতি। রাসূলুল্লাহ  কে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহ্’র রাসূল! তা কখন? তিনি বললেন, যখন বাদ্যযন্ত্র ও গায়ক-গায়িকারা বেশি হারে প্রকাশ পাবে।(ইবনু মাজাহ্ ২/১৩৫০)
মুসনাদে আহমদের (২২৩৬১) হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ  বলেন,
بَعَثَنِي اللهُ رَحْمَةً وَهَدًى لِلْعَالَمِينَ وَبَعَثَنِي لِمَحْقِ الْمَعَازِفِ وَالْمَزَامِيرِ، وَأَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ

আল্লাহ তাআলা আমাকে মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র, ক্রুশ ও জাহেলি প্রথা বিলোপসাধনের নির্দেশ দিয়েছেন।

সাহাবী ও তাবেঈদের ভাষ্য:
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাযি. বলেন,

الْغِنَاءُ يُنْبِتُ النِّفَاقَ فِى الْقَلْبِ كَمَا يُنْبِتُ الْمَاءُ الزَّرْعَ

পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে। (বাইহাকী ২১৫৩৬ তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২)

সলফে সালেহীন; সাহাবা ও তাবেঈনদের ভাষ্য অনুযায়ী গান অন্তরে মুনাফিকী (কপটতা) উদগত করে এবং বহু গুনাহর সমষ্টি হল গান ও বাদ্যযন্ত্র। যেমন- ক) নিফাক এর উৎস। খ) ব্যভিচারের প্রেরণা জাগ্রতকারী। গ) মস্তিষ্কের উপর আবরণ। ঘ) কোরআনের প্রতি অনিহা সৃষ্টিকারী। ঙ) আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী। চ) গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী এবং ছ) জিহাদী চেতনা বিনষ্টকারী। (ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭)

উত্তর দিয়েছেন

মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

সুত্র:  quranerjyoti

0 টি পছন্দ
করেছেন (569 পয়েন্ট)
হ্যাঁ গান শোনা বা গান গাওয়া হারাম।এটা ইসলামে সম্পূর্ণ নিসিদ্ধ।তবে আপনি বিভিন্ন গজল শুনতে পারেন ।কিন্তু খেয়াল রাখবেন যে সেই গজলগুলোতে যেন কোনো বাজনা না থাকে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

2 টি উত্তর
06 অক্টোবর "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন কাজিবাড়ি! (28 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
17 ফেব্রুয়ারি "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Noor Mohammad Sadik (148 পয়েন্ট)
3 টি উত্তর
05 সেপ্টেম্বর 2015 "হাদিস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Soharab Hossain (59 পয়েন্ট)
1 উত্তর
03 মার্চ 2015 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Fahmid (748 পয়েন্ট)

360,129 টি প্রশ্ন

455,308 টি উত্তর

142,576 টি মন্তব্য

190,376 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...