বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
119 জন দেখেছেন
"ইবাদত" বিভাগে করেছেন (4,102 পয়েন্ট)
আমরা জানি যে, রমজান মাসে ঈশার নামাজের পর ২০ রাকায়াত তারাবিহ নামাজ পড়া হয়। আমি শুনেছি যে, নবী (সঃ) এর সময় তারাবিহ নামাজ ছিলনা। তিনি চালু করেননি। তারাবিহ নামাজ পড়তেই হবে এমন কিছুনা। তারাবিহ নামাজ চালু করেছিলেন সম্ভবত উসমান (আঃ)। এটি মুলত রমজানে মাসে আল্লাহতায়ালার বেশি ইবাদাত বন্দেগী হিসাবে পড়া হয়। না পড়লে রোজার ক্ষতি নাই। রোজার সাথে সম্পর্ক নাই। 

এই কথা ঠিক কিনা জানাবেন। এবং এ সম্পর্কে যতদুর জানেন হাদিস বা মহামনবের বক্তব্যও রেফারেন্স দিয়া বিস্তারিত বলবেন?

3 উত্তর

+3 টি পছন্দ
করেছেন (10,632 পয়েন্ট)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় তারাবীহ নামায ছিল এবং তিনি নিজেও পড়েছেন এবং তারাবীহ সম্পর্কে দৃঢ় আদেশ (ওয়াজিব) না করেই, তার প্রতি উৎসাহ দান করতেন।

সাহাবায়ে কিরাম দুই বা তিন রাত্রি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইমামতিতে তারাবীহ পড়েছিলেন। উম্মাতের উপর এ সালাত ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরে জামাআতের সাথে মসজিদে তারাবীহ পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইডে ওয়াসাল্লাম মসজিদে (তারাবীহ) নামায আদায় করেন। ঐ সময় তাঁর সাথে অন্যান্য লোকেরাও নামায আদায় করেন। পরবর্তীতে রাতে উক্ত নামায আদায় করাকালে অনেক লোকের সমাগম হয়। অতঃপর তৃতীয় রাতেও লোকেরা উক্ত নামায (তারাবীহ) আদায় করার জন্য জমায়েত হলে সেদিন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে গমন করেন নাই। অতঃপর প্রত্যুষে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে লক্ষ করে বলেনঃ তোমরা যা করেছ তা আমি অবলোকন করেছি। আমি একারণেই নামায জামাআতের সাথে আদায় করার জন্য আসিনাই যে, আমার ভয় হচ্ছিল তোমাদের উপর তা ফরয করা হয় কি না (তবে কষ্টকর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে)। এটা রমযান মাসের (তারাবীহ নামায আদায়ের) ঘটনা।

(সূনান আবু দাউদ হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৩ হাদিসের মানঃ সহিহ)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামে রমযান (তারাবীহ) সম্পর্কে দৃঢ় আদেশ (ওয়াজিব) না করেই, তার প্রতি উৎসাহ দান করতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে নেকীর আশায় রমযানে কিয়াম (তারাবীহর নামায আদায়) করবে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

(রিয়াযুস স্বা-লিহীন, হাদিস নম্বরঃ ১১৯৬ হাদিসের মানঃ সহিহ)

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে রাত্রি জাগরণের জন্য অবশ্য পালনীয় নির্দেশ না দিয়ে তাদের উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন, যে ব্যাক্তি ঈমান ও নিষ্ঠার সাথে রমযানে রাত্রি জাগরণ করবে তার বিগত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত হয় আর বিষয়টি এরূপই ছিল। পরে আবূ বাকর (রাঃ) এর খিলাফত যুগে অবস্থা অনুরূপ থাকে, উমর (রাঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকেও অবস্থা অনুরূপ অব্যাহত ছিল।

(সহীহ মুসলিম হাদিস নম্বরঃ ১৬৫৩ হাদিসের মানঃ সহিহ)

এবার আসুন ইজমার দলিলেঃ ফরয সালাত যেমন মুমিন জীবনের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত, তেমনি নফল সালাতও সর্বশ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের অন্যতম উপায়। ফরযের অতিরিক্ত কর্মকে ‘‘নফল’’ বলা হয়। কিছু সময়ে কিছু পরিমাণ ‘‘নফল’’ সালাত পালন করতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উৎসাহ দিয়েছেন, বা তিনি নিজে তা পালন করেছেন। এগুলোকে ‘সুন্নাত’ও বলা হয়। যে সকল নফল সালাতের বিষয়ে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সেগুলোকে ‘‘সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ’’ বলা হয়। এ ধরনের কিছু সুন্নাত সালাত সম্পর্কে হাদীসে বেশি গুরুত্ব প্রদানের ফলে কোন ফকীহ তাকে ওয়াজিব বলেছেন।

তারাবীহ এর নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ আদায় না করলে অবশ্যই গুনাহ হবে।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সাওয়াবের আশায় রমজান মাসে রাত্রি জাগরণ করে তারাবীহ নামায আদায় করবে, তার বিগত জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহীহ বোখারি হাদিসঃ ১৯০১, সহিহ মুসলিম হাদিসঃ ৭৫৯)

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজাকে তোমাদের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। আর আমি তোমাদের জন্য এ মাসের তারাবীহ নামাযকে সুন্নাত করে দিলাম।

যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে এবং তারাবীহ নামাজ আদায় করবে, সে গুনাহ থেকে সেই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে যে দিন মা তাকে জন্ম দান করেছিলেন। (সুনানে নাসায়ীঃ ২২২২)

তবে একথা ঠিক যে, তারাবীহ না পড়লে রোজার কোন ক্ষতি হবেনা। কেউ যদি তারাবীহ নামায ছেড়ে দেয়, সেক্ষেত্রে রোজার উপর এর কোন প্রভাব পরবে না। কেননা রোজা ও তারাবীহ দুইটি ভিন্ন ভিন্ন স্বতন্ত্র ইবাদত। তাই রোজাদার ব্যাক্তি যদি তারাবীহ নামাজ নাও পড়েন সেটা রোজার উপর কোন প্রভাব ফেলবে না।

তবে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা কৃপা লাভ করতে পার। (আন-নিসাঃ ১৩২)

আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের সাথে রাসূলের আনুগত্যেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটা জানা কথা যে, রাসূলের আনুগত্য হুবহু আল্লাহর আনুগত্য বোঝায়। তারপরও এখানে রাসূলের আনুগত্যকে পৃথক করে বর্ণনা করার তাৎপর্য স্বয়ং আল্লাহ বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমাদের প্রতি করুণা করা হয়। এতে আল্লাহর করুণালাভের জন্যে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যকে যেমন অত্যাবশ্যকীয় ও অপরিহার্যকরা হয়েছে, তেমনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যকেও জরুরী ও অপরিহার্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু এ আয়াতেই নয়, বরং সমগ্র কুরআনে বার বার এর পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং যেখানেই আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে, সেখানেই রাসূলের আনুগত্যকেও স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হানাফি মাজহাব মতে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ওয়াজিব এর মত। তাই কেউ যদি স্বেচ্ছায় তারাবীহ নামাজ না পড়ে তাহলে সে গোনাহগার হবে।
সাবির ইসলাম অত্যন্ত ধর্মীয় জ্ঞান পিপাসু এক জ্ঞানান্বেষী। জ্ঞান অন্বেষণ চেতনায় জাগ্রতময়। আপন জ্ঞানকে আরো সমুন্নত করার ইচ্ছা নিয়েই তথ্য প্রযুক্তির জগতে যুক্ত হয়েছেন নিজে জানতে এবং অন্যকে জানাতে। লক্ষ কোটি মানুষের নীরব আলাপনের তীর্থ ক্ষেত্রে যুক্ত আছেন একজন সমন্বয়ক হিসেবে।
করেছেন (4,102 পয়েন্ট)
আপনার উত্তর থেকে দুটো বিষয় কনফিউজ হয়ে গেল। এক  মহানবী (সঃ) যা করবেন তা নিয়মিত অনুসরন করলেই ফরয হয়ে যাবে? আল্লাহতায়ালা যেটা চান সেটাতো মানুষ না করলেও তিনি করতে বলবেন। যেমন রোজা কেউ রাখতনা,  তবুও আল্লাহ তা ফরজ করেছেন। এমন আরও কিছু বিষয় আছে যা আমি প্রকাশ করতে পারছিনা। যেমন নবী (সঃ) সবাইকে আল্লাহতায়ালার ইবাদাত করতে আহব্বান করে বলতেন "এটি তোমাদের পুর্বপুরুষদেরও বলা হয়েছিল) কাজেই মানুষ অনুসরন করলেই ফরয হবার সম্ভাবনা একেবারেই মানতে পারছিনা।
দুই  আমরা সাধারন ভাবে জানি যে, রাসুল (সঃ) জীবদ্দশায় যা করেছেন। করতে বলেছেন সেইগুলোই সুন্নত আমাদের জন্য। কিন্তু তিনি তো কাউকে অনুসরন করেননি(আমার ধারনা মাত্র) কাজেই তিনি যাহা করেছেন তাহা রাসুল (সঃ) এর নিজের জন্য সুন্নত নয়। নিজের ক্ষেত্রে আল্লাহতায়ালার ইবাদাত মাত্র। এই বিষয়টা আরও ক্লিয়ার হতে চাই
করেছেন (10,632 পয়েন্ট)
১। মহানবী (সঃ) যা করবেন তা নিয়মিত অনুসরন করলেই ফরয হয়ে যায় না। তিনি তা ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জামাআত করে পড়া বর্জন করেছিলেন। কেননা, তাহার ভয় হচ্ছিল উম্মতের উপর তা ফরয করা হয় কি না।

যদি আল্লাহ তায়ালা তা ফরয করে দিতেন
উম্মতের জন্য তা আদায় কষ্টকর হবে এমন আশঙ্কা তিনি করেছিলেন মাত্র।

২। রাসুল (সঃ) জীবদ্দশায় যা করেছেন তা আমাদের জন্য সুন্নত নয়। বরং তিনি যা করতে বলেছেন সেইগুলোই সুন্নত আমাদের জন্য।

উদাহরণঃ রাসুল (সঃ) জীবদ্দশায় ১১টি বিবাহ করেছেন এখন আমি আপনি যদি বলি রাসুল (সঃ) জীবদ্দশায় ১১টি বিবাহ করেছেন আমিও এই সুন্নত পালন করব তাহলে কি সুন্নত পালন হবে!

আল্লাহ তায়ালা বলেন, যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, (নারী) ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিবাহ কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে; এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি।

ইসলাম একই সময়ে চারের অধিক স্ত্রী রাখাকে হারাম ঘোষণা করেছে। ইসলাম এ ক্ষেত্রে ইনসাফ কায়েমের জন্য বিশেষ তাকিদ দিয়েছে এবং ইনসাফের পরিবর্তে যুলুম করা হলে তার জন্য শাস্তির কথা ঘোষণা করেছে। আলোচ্য আয়াতে একাধিক অর্থাৎ চারজন স্ত্রী গ্রহণ করার সুযোগ অবশ্য দেয়া হয়েছে, অন্যদিকে এই চার পর্যন্ত কথাটি আরোপ করে তার উর্ধ্ব সংখ্যক কোন স্ত্রী গ্রহণ করতে পারবে না বরং তা হবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ -তাও ব্যক্ত করে দিয়েছে। ইসলাম পূর্ব যুগে কারও কারও দশটি পর্যন্ত স্ত্রী থাকত। ইসলাম এটাকে চারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে।

কায়েস ইবন হারেস বলেন, আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন আমার স্ত্রী সংখ্যা ছিল আট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলে তিনি আমাকে বললেন, এর মধ্য থেকে চারটি গ্রহণ করে নাও। (ইবন মাজাহ: ১৯৫২, ১৯৫৩)
+1 টি পছন্দ
করেছেন (268 পয়েন্ট)
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয ব্যতীত রমযানের তারাবীহর সালাত আদায় করার জন্যও উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন যে, যখন রমযান আগমন করে জান্নাতের দরজাসমূহ খূলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। -সূনান নাসাঈ ২১০৮
করেছেন (4,102 পয়েন্ট)
প্রশ্নের ব্যাখ্যাটি ভাল ভাবে পড়ুন। প্রতি পয়েন্ট বাই পয়েন্ট উত্তর দিতে চেষ্টা করুন।
0 টি পছন্দ
করেছেন (2,968 পয়েন্ট)
নামাজ ও রোজা ইমানের পরে ইসলামের প্রধান দুটি বিধান, যা সবার জন্য প্রযোজ্য। রোজার সঙ্গে নামাজের সম্পর্ক সুনিবিড়। প্রিয় নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করেছেন আর আমি তোমাদের জন্য তারাবিহর নামাজকে সুন্নত করেছি; যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানে দিনে রোজা পালন করবে ও রাতে তারাবিহর নামাজ আদায় করবে, সে গুনাহ থেকে এরূপ পবিত্র হবে, যেরূপ নবজাতক শিশু মাতৃগর্ভ থেকে নিষ্পাপ অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়। (নাসায়ি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৩৯)।

ফরজ ইবাদত পালন করতে হয় সুন্নত পদ্ধতিতে। রমজানের চাঁদ দেখা গেলে রোজার আগেই তারাবিহর সুন্নত নামাজ আমল করতে হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমাদান মাসে রাত্রি জাগরণ করে তারাবিহর নামাজ পড়বে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি, খণ্ড: ১, হাদিস: ৩৬)।

বিশ রাকাত তারাবিহর নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। পুরুষদের জন্য তারাবিহর নামাজ মসজিদে জামাতে আদায় করা সুন্নত। তারাবিহর নামাজে পূর্ণ কোরআন শরিফ একবার পাঠ করা সুন্নত। একে খতমে তারাবিহ বলে। পূর্ণ কোরআন না পড়ে বিভিন্ন সুরা দিয়ে তারাবিহর নামাজ আদায় করাকে সুরা তারাবিহ 

বলা হয়। সুরা তারাবিহ পড়লেও বিশ রাকাত পড়া সুন্নত। একা পড়লেও বিশ রাকাতই পড়া সুন্নত। নারীদের জন্যও বিশ রাকাত তারাবিহ সুন্নত। এশার নামাজের পর থেকে ফজরের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত তারাবিহর নামাজ পড়া যায়। শিশুরাও তারাবিহর নামাজ পড়তে পারে।

হাসান (রা.) বলেন, হজরত উমর (রা.) মানুষকে একত্র করলেন হজরত উবাই ইবনে কাআব (রা.)–এর পেছনে; তখন তিনি তাদের ইমামতি করে বিশ রাকাত নামাজ পড়তেন। (আবু দাউদ, খণ্ড: ২, হাদিস: ১৪২৯)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বিশ রাকাত তারাবিহ পড়তেন তারপর বিতর পড়তেন। (মাকতুবাতু ইবনে তাইমিয়া, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৯৩)। হজরত আবুজার গিফারি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলে করিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে তারাবিহর নামাজ পড়ল, ইমাম প্রস্থান করা পর্যন্ত সমাপ্ত করে গেল; তার কিয়ামে লাইল বা রাত জাগরণের সওয়াব পূর্ণরূপে লিখিত হবে। (তিরমিজি, খণ্ড: ৩, হাদিস: ৮০৬)। হজরত ইবনে রুমান (র.) বলেন, হজরত উমর (রা.)–এর খিলাফতের সময় মানুষ ২৩ রাকাত (বিতরসহ তারাবিহর নামাজ) দ্বারা রাত জাগরণ করত। (মুআত্তা মালিক, খণ্ড: ১, হাদিস: ২৮১; আবু দাউদ, খণ্ড: ১, হাদিস: ৪২৮৯)।

মিরকাত গ্রন্থে মোল্লা আলী কারি (র.) বলেন, তারাবিহর নামাজ বিশ রাকাত, এ বিষয়ে সব সাহাবির ইজমা (মতৈক্য) হয়েছে। (মিরকাত শারহে মিশকাত, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৯৪)। শাঈখ উসাইমিন (র.) বলেন: ইমামের অনুসরণ করাই সুন্নত; যদি ইমাম তারাবিহ সম্পূর্ণ করার পূর্বে মুক্তাদি চলে যায়, তখন সে কিয়ামে লাইলের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়। তিনি আরও বলেন: ইমামের বিশ রাকাত তারাবিহ সমাপ্ত হওয়ার আগেই চলে যাওয়া অনুচিত; শরিয়তের বিধানমতে, ইমামের অনুকরণই বড় ওয়াজিব, এর বিপরীত করা মন্দ কাজ। (মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ২০০-২০১)।

বিশ রাকাত তারাবিহর নামাজ হাজার বছরের প্রতিষ্ঠিত অবিসংবাদিত সুন্নত। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (র.) বলেন: তবে তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, নিশ্চয় উবাই ইবনে কাআব (রা.) রমজানে রাত জাগরণে বিশ রাকাতে তারাবিহর নামাজে ইমামতি করতেন এবং তিন রাকাত বিতর নামাজ পড়তেন। তাই উলামায়ে কিরাম মনে করেন, এটাই সুন্নত; কেননা তা আনসার ও মুহাজির সব সাহাবির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত, কেউ তা অস্বীকার করেননি। অন্যান্য ইমাম বিতরসহ তারাবিহর উনচল্লিশ রাকাত পড়া পছন্দ করেন; কারণ, তা হলো মদিনার আমল। ইবনে তাইমিয়া (র.) আরও বলেন: সুতরাং বিশ রাকাত তারাবিহই উত্তম এবং এটাই অধিকাংশ মুসলমানের আমল; আর নিশ্চয় এটি দশ (সর্বনিম্ন) ও চল্লিশের (সর্বোচ্চ) মাঝামাঝি। তবে যদি কেউ চল্লিশ রাকাত বা অন্য কোনো সংখ্যা আদায় করেন, তবে তা–ও জায়েজ হবে। এ বিষয়ে অন্যান্য ইমামও আলোকপাত করেছেন। (মজমুআ ফাতাওয়া, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা: ২৭২; খণ্ড: ২৩, পৃষ্ঠা: ১১২)।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
24 নভেম্বর 2015 "ইবাদত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Mir: Akash (220 পয়েন্ট)

358,495 টি প্রশ্ন

453,497 টি উত্তর

142,025 টি মন্তব্য

189,853 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...