বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
257 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (20 পয়েন্ট)
পূর্বে bumped করেছেন
রেফারেন্স সহ জানতে চাই।

1 উত্তর

+11 টি পছন্দ
করেছেন (4,426 পয়েন্ট)
পৃথিবীর শুরু থেকেই ইসলাম ছিলো এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা বজায় থাকবে। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) এবং প্রথম মানবী হযরত হাওয়া (আঃ) ইসলাম ধর্মের অনুসারী ছিলেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ‍্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম (সূরাঃ আল-ইমরান, আয়াত-১৯)। যেহেতু আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ‍্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম এবং ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আল্লাহ নিজেই, সেহেতু আল্লাহ পৃথিবীতে সকল নবী-রাসূলগণকেই পাঠিয়েছিলেন তাঁর মনোনীত একমাত্র ধর্ম ইসলাম প্রচারের জন‍্য। সকল নবী-রাসূলগণই আল্লাহর বাণী প্রচার করেছেন। সকলেই তাঁর উম্মতকে বলেছেন, এক আল্লাহর ইবাদত করার জন‍্য। মহান আল্লাহ পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ১০৪টি আসমানী কিতাব বা ইসলামী ধর্মগ্রন্থ নাযিল করেছেন। নবী-রাসূলগণ এসব ইসলামী ধর্মগ্রন্থের মাধ‍্যমে পৃথিবীতে আল্লাহর একমাত্র ধর্ম ইসলাম প্রচার করেছেন। নবী-রাসূলগণের মধ‍্যে হযরত আদম (আঃ) ইসলাম ধর্মের প্রথম প্রচারক ছিলেন এবং হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ প্রচারক ছিলেন। পবিত্র কুরআন ও হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মাধ‍্যমে মহান আল্লাহ তায়ালা ইসলাম ধর্মকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছেন। তাই মহান আল্লাহ পৃথিবীতে আর কোনো নবী বা রাসূল পাঠাবেন না। পবিত্র কুরআন সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর নাযিলকৃত সর্বশেষ ইসলামী ধর্মগ্রন্থ। যেহেতু আর কোনো নবীও পাঠাবেন না, সেহেতু আর কোনো ধর্মগ্রন্থও আল্লাহ নাযিল করবেন না। কুরআনের মধ‍্যেই সকল মানব সমস‍্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান রয়েছে। আর রাসূল (সাঃ)-এর হাদীস রয়েছে সহায়ক গাইড হিসেবে। পৃথিবীতে ইসলাম ব‍্যতীত যত ধর্ম রয়েছে, সব ধর্ম মানব রচিত, আল্লাহর মনোনীত কোনো ধর্ম নয়। হযরত ঈসা (আঃ), হযরত মূসা (আঃ) প্রত‍্যেকেই আল্লাহর বাণী প্রচার করেছেন। কিন্তু তাঁদের বিদায়ের পর তাঁদের অনুসারীরা বিপথগামী হয়ে তাঁদের প্রচারকৃত ইসলামী ধর্মগ্রন্থ বিকৃত করে ফেলে এবং ইহুদি-খ্রিস্টান নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। খ্রিস্টানরা নবীর নাম বিকৃত করে হযরত ঈসা (আঃ)-এর নাম দেয় যীশুখ্রীস্ট, ধর্মগ্রন্থের নাম ও বাণী বিকৃত করে ইসলামী ধর্মগ্রন্থ ইনজীলের নাম দেয় বাইবেল। হযরত ঈসা (আঃ)-এর মায়ের নাম বিকৃত করে হযরত মরিয়ম (আঃ)-এর নাম দেয় মাতা মেরী। হযরত ঈসা (আঃ) এর কোনো পিতা ছিলো না। তাঁকে পিতা ছাড়াই মহান আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন, যেমনিভাবে হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ)-কে পিতা-মাতা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন। অথচ হযরত ঈসা (আঃ)-এর বিদায়ের পর তাঁর অনুসারীরা পথভ্রষ্ট হয়ে তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলে নাম দেয় (নাঊযুবিল্লাহ)। অথচ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা ইখলাসে বলেছেন, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি। মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত ঈসা (আঃ)-কে মৃত‍্যু ব‍্যতীত তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং কিয়ামতের ৪০ বৎসর পূর্বে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মত হিসেবে ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে আগমন করবেন এবং সকল ফেতনা-ফাসাদ দূর করবেন। তখন তিনি নবী হিসেবে আসবেন না, আসবেন হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মত হিসেবে এবং নতুন করে কারো ঘরে জন্মগ্রহণ করবেন না, সরাসরি আল্লাহ তায়ালা তাঁকে দুনিয়াতে পাঠাবেন। ফেতনা-ফাসাদ দূর করে কিয়ামতের পূর্বে তিনি মৃত‍্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন। অথচ খ্রিস্টানরা মনে করে, হযরত ঈসা (আঃ) মারা গেছে। আসলে হযরত ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহ তায়ালা তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন (পবিত্র কুরআন)। অনুরূপ, হযরত মূসা (আঃ)-এর অনুসারীরা তাঁর বিদায়ের পর ইসলামী ধর্মগ্রন্থ তাওরাতকে বিকৃত করে ফেলে। খ্রিস্টান-ইহুদিরা আল্লাহর বাণী তাওরাত ও ইনজীলকে বিকৃত করে মনগড়া কথা যুক্ত করে ফেলে। বর্তমানে ইহুদি খ্রিস্টানরা বিপথগামী-পথভ্রষ্ট জাতি। এমনকি তারা আল্লাহ নামের পরিবর্তে ডগের সাথে মিল রেখে গড নামের প্রচলন করেছে (নাঊযুবিল্লাহ)। পৃথিবীর শুরু থেকেই মানবজাতির একটি অংশ আল্লাহ ও তাঁর নবীদের বিরোধীতা করে আসছে, তারা আল্লাহকে মানে না, অথচ তারা আল্লাহর সৃষ্টির পূজায় রত। তারা হচ্ছে কাফের, হিন্দু বা সনাতন ধর্মের অনুসারী। এটাও তাদের মনগড়া বানানো কুসংস্কারচ্ছন্ন ধর্ম। আর বৌদ্ধ ধর্ম এবং হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের মধ‍্যে খুব একটা পার্থক‍্য নেই। পৃথিবীর সকল ধর্মই মানব রচিত। শুধুমাত্র ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম। যেহেতু সকল নবী-রাসূলগণই ইসলাম প্রচার করেছেন, সেহেতু সকল নবী-রাসূলগণের উম্মতেরাই জান্নাতে যাবে, প্রকৃতপক্ষে যারা তাঁদেরকে সঠিকভাবে অনুসরণ করেছে। কিন্তু সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) দুনিয়াতে আসার পরে, যারা তাঁকে অনুসরণ করেনা এবং সর্বশেষ ইসলামী ধর্মগ্রন্থ কুরআন নাযিলের পরে, যারা তা অনুসরণ করেনা, তারা সকলেই জাহান্নামে যাবে (হোক মুসলমানের ঘরে জন্ম কিংবা অমুসলমানের ঘরে জন্ম)। অনুরূপ, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) দুনিয়াতে আসার পরে, যারা তাঁকে অনুসরণ করে এবং সর্বশেষ ইসলামী ধর্মগ্রন্থ কুরআন নাযিলের পরে, যারা তা অনুসরণ করে, তারা সকলেই জান্নাতে যাবে (হোক মুসলমানের ঘরে জন্ম কিংবা অমুসলমানের ঘরে জন্ম)। মহান আল্লাহর নাযিলকৃত ইসলামী পাঠ‍্যগ্রন্থসমূহ বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট মানবজাতির দ্বারা বিকৃত বা অরক্ষিত হলেও কুরআন মাজীদ কখনো বিকৃত হবে না বা অরক্ষিত অবস্থায় থাকবে না, কারণ এর হেফাজতকারী মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই। বিশ্ব হচ্ছে পাঠশালা, প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হচ্ছেন মহান আল্লাহ তায়ালা, শিক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে ইসলাম, প্রথম শিক্ষক হচ্ছেন নবী হযরত আদম (আঃ), প্রথম প্রধান শিক্ষকও হচ্ছেন রাসূল হযরত আদম (আঃ), শুরু থেকে মোট শিক্ষক হচ্ছেন ১২৪০০০ নবী, শুরু থেকে মোট প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন ৩১৫ জন রাসূল, সর্বপ্রধান শিক্ষক হচ্ছেন প্রধান ৪ জন নবী ও রাসূল (হযরত দাঊদ আঃ, হযরত মূসা আঃ, হযরত ঈসা আঃ এবং হযরত মোহাম্মদ সাঃ), সর্বশেষ শিক্ষক হচ্ছেন নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), সর্বশেষ প্রধান শিক্ষকও হচ্ছেন রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), শুরু থেকে মোট পাঠ‍্যগ্রন্থ হচ্ছে ১০৪টি আসমানী কিতাব বা ইসলামী ধর্মগ্রন্থ, শুরু থেকে মোট সর্বপ্রধান পাঠ‍্যগ্রন্থ হচ্ছে ৪টি (তাওরাত, যাবূর, ইনজীল, কুরআন মাজীদ), সর্বশেষ পাঠ‍্যগ্রন্থ বা পঠিত গ্রন্থ হচ্ছে কুরআন মাজীদ, সর্বশেষ প্রধান পাঠ‍্যগ্রন্থও হচ্ছে কুরআন মাজীদ, সহায়ক পাঠ‍্যগ্রন্থ বা গাইড হচ্ছে হাদীস গ্রন্থসমূহ, মানবজাতি হচ্ছে শিক্ষার্থী, ইবাদত-বন্দেগী হচ্ছে পড়াশুনা, দুনিয়া হচ্ছে পরীক্ষা কেন্দ্র, মহান আল্লাহ হচ্ছেন পরীক্ষক, আমলনামা হচ্ছে খাতা, আমল হচ্ছে কলম, আমলের পথ (গুনাহের পথ এবং সওয়াবের পথ) হচ্ছে প্রশ্ন, ভালো কাজ বা সওয়াবের কাজ হচ্ছে সঠিক উত্তর (যা ডান কাঁধের ফেরেশতা লিপিবদ্ধ করবে), খারাপ কাজ বা গুনাহের কাজ হচ্ছে ভুল উত্তর (যা বাম কাঁধের ফেরেশতা লিপিবদ্ধ করবে), হায়াৎ হলো পরীক্ষার সময়, মৃত‍্যু হচ্ছে পরীক্ষার সময় শেষ হওয়ার ঘন্টাধ্বনি, কবর হলো মৌখিক পরীক্ষার জায়গা, মৌখিক পরীক্ষক হচ্ছেন ফেরেশতা মুনকার-নাকীর, পর্যবেক্ষক হচ্ছেন মহান আল্লাহ তায়ালা, মৌখিক প্রশ্ন হচ্ছে তিনটিঃ ১। তোমার স্রষ্টা কে? ✔সঠিক উত্তর হচ্ছেঃ মহান আল্লাহ তায়ালা, ২। তোমার ধর্ম কী? ✔সঠিক উত্তর হচ্ছেঃ ইসলাম, ৩। তোমার নবী ও রাসূল কে? (হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-কে দেখিয়ে), ✔সঠিক উত্তর হচ্ছেঃ হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)। (যারা মৌখিক পরীক্ষায় ১০০% পাশ করবে, তাঁদের কবরকে মহান আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের বাগান করে দিবেন আর যারা ফেল করবে, তাঁদের কবরকে জাহান্নামের টুকরো করে দিবেন। অর্থাৎ শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষার রেজাল্ট ও পুরস্কার সবাই সাথে সাথে পেয়ে যাবে। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত বাকি থাকবে সম্পূর্ণ পরীক্ষার রেজাল্ট ও পুরস্কার), কিয়ামত হচ্ছে রেজাল্ট প্রকাশের তারিখ, হাশরের ময়দান হচ্ছে রেজাল্ট প্রকাশের জায়গা, রেজাল্ট প্রকাশকারী হচ্ছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা (প্রত‍্যেকের পাপ-পুণ‍্য সেদিন বিশাল পর্দায় ভিডিও আকারে দেখানো হবে, সাক্ষী দিবে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-পতঙ্গসমূহ, প্রত‍্যক্ষদর্শী হবে সবাই), রেজাল্ট পরিমাপের জিনিস হচ্ছে মিযান বা দাঁড়িপাল্লা, রেজাল্ট হচ্ছে প্রত‍্যেকের ডান হাতে বা বাম হাতে আমলনামা প্রদান, পুরস্কার হচ্ছে জান্নাত বা জাহান্নাম (জান্নাতে নেওয়ার জন‍্য সুপারিশকারী হচ্ছেন হযরত মোহাম্মদ সাঃ, পবিত্র কুরআন, মসজিদ। যারা জান্নাতী হবে, তাঁদেরকে স্বয়ং হযরত মোহাম্মদ সাঃ হাউজে কাওসারের পানি পান করাবেন। রোজাদারদের পুরস্কার আল্লাহ সেদিন নিজ হাতে দিবেন), জান্নাত বা জাহান্নামে যাওয়ার রাস্তা হলো পুলসিরাত (চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম এবং তরবারির চেয়েও ধারালো এই রাস্তা জান্নাতীরা বিজলীর মতো পার হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে, জাহান্নামীরা এই রাস্তা অতিক্রম করতে গিয়ে এর নিচে থাকা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে)। জান্নাত হচ্ছে চিরস্থায়ী সুখের জায়গা, যেখানে কোনো দুঃখ-কষ্ট থাকবে না, থাকবে সুখ আর সুখ। জান্নাত ৮টি। পক্ষান্তরে, জাহান্নাম হচ্ছে চিরস্থায়ী কষ্টের জায়গা, যেখানে থাকবে ভয়ংকর সব আজাব বা শাস্তি, থাকবে কষ্ট আর কষ্ট। জাহান্নাম ৭টি। জান্নাতে যেতে হলে বা জাহান্নাম থেকে বাঁচতে হলেঃ ১। তাকওয়া, ২। কালেমা, ৩। নামাজ, ৪। রোজা, ৫। হজ্জ্ব, ৬। যাকাত, ৭। জিকির, ৮। কুরআন তিলাওয়াত, ৯। হাদীস পাঠ, ১০। পর্দা তথা অশ্লীলতা থেকে মুক্ত, ১১। সৎ কাজ তথা ইসলামীক কাজ করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে জাহান্নামের কষ্ট থেকে রক্ষা করুন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ‍্যমে জান্নাতে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। ধন‍্যবাদ।
করেছেন (1,942 পয়েন্ট)
হযরত মুহম্মদ (সা:) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে কোরাইশ জন্মগ্রহন করেন। তারপর থেকে নাকি ইসলামের প্রচার শুরু হয়। প্রাচীন ধর্ম তো জৈন ধর্ম ছিল । এটা তথ্য কি সঠিক।
করেছেন (3,754 পয়েন্ট)
[email protected] জানতে চাইছে সতর্ক না করে জানা থাকলে বল দিন। উপকৃত হোউক।
করেছেন (4,426 পয়েন্ট)
এ পৃথিবীতে যেমন বহু দেশ, জাতি ও ভাষা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে বহু ধর্ম। যেমনঃ ইসলাম ধর্ম (মুসলিম জাতি), হিন্দু ধর্ম (হিন্দু জাতি), বৌদ্ধ ধর্ম (বৌদ্ধ জাতি), জৈন ধর্ম (জৈন জাতি), খ্রিস্টান ধর্ম (খ্রিস্টান জাতি), ইহুদি ধর্ম (ইহুদি জাতি) ইত্যাদি। তন্মধ্যে ইসলাম কোনো মানুষের দ্বারা সৃষ্টি হয়নি। ইসলাম স্রষ্টা প্রতিষ্ঠিত ও স্রষ্টা মনোনীত একমাত্র ধর্ম (সূরাঃ আল-ইমরান, আয়াত-১৯)। আর বাকি সব ধর্ম মানবসৃষ্ট, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পথভ্রষ্ট মানবজাতি যুগে যুগে এসব ধর্ম প্রতিষ্ঠিত করেছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, ইহুদি সবগুলো ধর্মই অনেক প্রাচীন বা পুরনো, তবে প্রথম নয়। প্রাচীন আর প্রথমের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। যা পুরনো তাই প্রাচীন, আর যা পৃথিবীর শুরু, তাই প্রথম। ইসলামই স্রষ্টা প্রতিষ্ঠিত ও স্রষ্টা মনোনীত পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন, সবচেয়ে পুরনো ও সর্বপ্রথম ধর্ম।
১। পৃথিবীতে যখন কোনো মানুষ ছিলো না, তখন এখানে কোনো দেশ, ধর্ম, জাতি, ভাষা বা সাল ছিলো না।
২। পৃথিবীতে মানুষ আসার পরে দেশ, ধর্ম, জাতি, ভাষা বা সাল এসেছে।
৩। পৃথিবীর প্রথম মানব হলেন হযরত আদম (আঃ) এবং পৃথিবীর প্রথম মানবী হলেন হযরত হাওয়া (আঃ)।
৪। পৃথিবীর প্রথম মানব এবং পৃথিবীর প্রথম মানবী স্রষ্টা প্রতিষ্ঠিত ও স্রষ্টা মনোনীত একমাত্র ইসলাম ধর্মের অনুসারী ছিলেন। তাই ইসলামই হলো পৃথিবীর প্রথম ধর্ম, সবচেয়ে প্রাচীন, সবচেয়ে পুরনো, সবচেয়ে আদি ধর্ম। পক্ষান্তরে, বাকি সব ধর্ম যেমনঃ হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, ইহুদি ইত্যাদি প্রাচীন বা পুরনো হলেও প্রথম নয়। মহান আল্লাহ প্রতিষ্ঠিত ইসলাম পৃথিবীর একেবারে শুরুতে এসেছে। আর পৃথিবীতে ইসলাম আসার হাজার হাজার বৎসর পরে, বাকি সব ধর্ম পথভ্রষ্ট বিভিন্ন জাতির দ্বারা যুগে যুগে সৃষ্টি হয়েছে। ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হলেন স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) হলেন ইসলাম ধর্মের প্রথম প্রচারক। আর হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর উম্মতেরা হলেন ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ প্রচারক। পৃথিবীর শুরু থেকে তথা হযরত আদম (আঃ) থেকে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত ১২৪০০০ নবী ও ৩১৫ জন রাসূল ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার করেছেন। মহান আল্লাহ ইসলাম প্রচারের সুবিধার্থে হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত মোট ১০৪ খানা আসমানী কিতাব বা ইসলামী ধর্মগ্রন্থ নাযিল করেছেন। যখনই মানুষ ইসলাম থেকে দূরে সরে গিয়েছে, তখনই মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের হেদায়াতের জন‍্য বিভিন্ন নবী-রাসূল পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এবং বিভিন্ন আসমানী কিতাব বা ইসলামী ধর্মগ্রন্থ নাযিল করেছেন। ((((((((((অনেকে ভুল করেন এই ভেবে যে, ইসলাম ধর্মের প্রথম প্রচারক হলেন হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)। দিনের আলোর মতো সত‍্যিটা হলো এই যে, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর উম্মতেরা হলেন ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ প্রচারক। ইসলাম ধর্মের প্রথম প্রচারক হলেন প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ)। মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়াতের জন‍্য এবং তাঁর দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার জন‍্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-কে দুনিয়াতে পাঠান ও সর্বশেষ ইসলামী ধর্মগ্রন্থ কুরআন নাযিল করেন। সেজন্যই তো পৃথিবীতে আর কোনো নবী বা রাসূল আসবেন না, আর কোনো ইসলামী ধর্মগ্রন্থও আল্লাহ নাযিল করবেন না। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ৬১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে গোপনে ও ৬২০ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রকাশ‍্যে আল্লাহর প্রতিষ্ঠিত ও হযরত আদম (আঃ) প্রচারিত সেই ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটান। মাত্র ২৩ বৎসর হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ইসলাম প্রচার করেন, তারপর ইন্তেকাল করেন। এই ২৩ বৎসর সময়ে ইসলাম সারা বিশ্ব জয় করে নিয়েছে। আজও তাঁর উম্মতেরা পৃথিবীর বুকে সেই ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়ে যাচ্ছেন))))))))))।
৫। পৃথিবীর প্রথম মানব এবং পৃথিবীর প্রথম মানবী মুসলিম জাতি ছিলেন। তাই মুসলিমই হলো পৃথিবীর প্রথম জাতি। যারা ইসলাম প্রচার করে এবং ইসলামের অনুসরণ করে, তারাই হলো মুসলিম জাতি। যেহেতু হযরত আদম (আঃ) স্রষ্টা প্রতিষ্ঠিত ও স্রষ্টা মনোনীত একমাত্র ইসলাম ধর্মের প্রচার ও অনুসরণ করেছেন, সেহেতু তাঁরা মুসলিম জাতি ছিলেন। হযরত আদম (আঃ) এবং হযরত হাওয়া (আঃ)-এর ১৪০ জোড়া সন্তান হয় এবং একজন বেজোড় সন্তানও হয়। একমাত্র বেজোড় সন্তান হযরত শীস (আঃ) পরবর্তীতে নবী ও রাসূল হয়েছিলেন। তাঁর বংশ থেকেই ক্রমান্বয়ে সকল নবী-রাসূলগণ পৃথিবীতে এসেছেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, ইহুদি ইত্যাদি নামে অনেক প্রাচীন বা পুরনো জাতি রয়েছে। তবে মুসলিম জাতি হলো সবচেয়ে প্রাচীন, সবচেয়ে পুরনো, সর্বপ্রথম জাতি।
৬। পৃথিবীর প্রথম মানব এবং পৃথিবীর প্রথম মানবী আরবি ভাষায় কথা বলতেন। তাই আরবিই হলো পৃথিবীর প্রথম ভাষা। মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ)-কে জান্নাতে সৃষ্টি করেন আর জান্নাতের ভাষা হলো আরবী। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন আরবী ভাষায় লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত রেখেছেন এবং বিকৃতি এড়ানোর জন‍্য আরবিতেই তা হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর নাযিল করেন। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালেমা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)' তাঁর আরশে আজীমে আরবিতে লিখে রেখেছেন। পৃথিবীতে যখন কোনো মানুষ ছিলো না, ভাষা ছিলো না, তখনও আল্লাহ ও ফেরেশতাগণের মধ‍্যে আরবি ভাষা বজায় ছিলো। আরবি ভাষার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হলেন স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা। যুগে যুগে পৃথিবীতে মানবজাতির দ্বারা বহু ভাষা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রাচীন বা পুরনো ভাষা রয়েছে। তবে আরবিই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন, সবচেয়ে পুরনো, সর্বপ্রথম ভাষা। বিজ্ঞান বলে, পৃথিবীর প্রথম ভাষা সাংকেতিক ভাষা। কারণ, বিজ্ঞান পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) পর্যন্ত পৌছতে পারেনি। আর তাছাড়া বিজ্ঞান স্রষ্টা, নবী-রাসূল, ধর্মগ্রন্থ ও পরকালে বিশ্বাসী নয়।
৭। পৃথিবীর প্রথম মানব এবং পৃথিবীর প্রথম মানবী সৌদিআরবে সর্বপ্রথম একসাথে বসবাস করা শুরু করেন। তাই সৌদিআরবই হলো পৃথিবীর প্রথম মানুষ বসবাসের জায়গা বা দেশ। নিষিদ্ধ গন্ধম ফল খাওয়ার ফলে মহান আল্লাহ তায়ালা জান্নাত থেকে হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ)-কে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। হযরত আদম (আঃ)-কে শ্রীলঙ্কার সন্দ্বীপে আর হযরত হাওয়া (আঃ)-কে সৌদিআরবের জেদ্দায় পাঠিয়ে দেন। প্রায় সাড়ে ৩০০ বৎসর পর তাঁরা উভয়ে সৌদি আরবের 'আরাফাত' নামক ময়দানে পুনর্মিলিত হোন এবং সেখানেই তাঁরা বসবাস ও বংশবৃদ্ধি শুরু করেন। ফলে সৌদিআরবেই সর্বপ্রথম মানবসভ‍্যতা গড়ে উঠে। তাঁরা আল্লাহর শিখানো আরবি ভাষায় কথা বলতেন বলেই, আজও সৌদিআরবের ভাষা আরবি। পৃথিবীর প্রথম মানব, নবী ও রাসূল হযরত আদম (আঃ) সৌদিআরবে বসবাস করেছেন। অনুরূপ, পৃথিবীর শেষ নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সৌদিআরবেই বসবাস করেছেন। হযরত আদম (আঃ)-এর উপর সর্বপ্রথম ১০খানা এবং তাঁর পুত্র হযরত শীস (আঃ)-এর উপর ৫০খানা আসমানী কিতাব আরবিতেই নাযিল হয়। অনুরূপ, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর সর্বশেষ পবিত্র কুরআন আরবিতেই নাযিল হয়। সুতরাং, পৃথিবীর প্রথম ইসলামী ধর্মগ্রন্থ এবং শেষ ইসলামী ধর্মগ্রন্থের ভাষা ছিলো আরবি। সকল ইসলামী ধর্মগ্রন্থ বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট মানবজাতির দ্বারা বিকৃত হলেও পবিত্র কুরআন কখনো বিকৃত হবে না। কারণ, এর হেফাজতকারী মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই।
৮। পৃথিবীর প্রথম মানব এবং পৃথিবীর প্রথম মানবী চাঁদ-সূর্যের উদয়-অস্তের মাধ্যমে দিন-রাত গণনা করতেন। এটা পৃথিবীর প্রথম সাল গণনার সিস্টেম। বর্তমানে পৃথিবীতে তিন ধরণের সাল গণনা প্রচলিত। খ্রিস্টাব্দ, বঙ্গাব্দ ও হিজরী। হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্মবৎসর থেকে পরিগণিত অব্দ বা সাল হলো খ্রিস্টাব্দ। রাত ১২ টাকে কেন্দ্র করে ইংরেজি সাল বা খ্রিস্টাব্দের দিন-রাত গণনা করা হয়। রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সম্রাট আকবর কর্তৃক ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে বা ৯৬৩ হিজরিতে প্রবর্তিত সৌর অব্দ বা সাল হলো বঙ্গাব্দ। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তকে কেন্দ্র করে বাংলা সাল বা বঙ্গাব্দের দিন-রাত গণনা করা হয়। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মক্কা ছেড়ে মদিনায় যাত্রার দিন তথা ৬২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে পরিগণিত চান্দ্র অব্দ বা সাল হলো হিজরী। সূর্যাস্ত ও চন্দ্র উদয়কে কেন্দ্র করে আরবি সাল বা হিজরী সালের দিন-রাত গণনা করা হয়। যখন পৃথিবীতে খ্রিস্টাব্দ, বঙ্গাব্দ বা হিজরী নামকরণে কোনো সাল বা ক‍্যালেন্ডার ছিলো না, তখনো মানুষ চন্দ্র-সূর্যের উদয়-অস্তের মাধ্যমে দিন-রাত গণনা ও দিক ঠিক করতেন। ((((((((((যেহেতু হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ)-এর সময়ে খ্রিস্টাব্দ, বঙ্গাব্দ বা হিজরী ছিলো না। তাই ইসলাম ধর্ম কত সাল থেকে প্রচলিত হয়? প্রশ্নটি উদ্ভট শোনায়। প্রশ্নটি হবে ইসলাম ধর্ম কখন থেকে প্রচলিত হয়? উত্তরঃ পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) এবং পৃথিবীর প্রথম মানবী হযরত হাওয়া (আঃ)-এর সময় থেকে))))))))))।
৯। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) এবং পৃথিবীর প্রথম মানবী হযরত হাওয়া (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল সৌদিআরবের মক্কায় সর্বপ্রথম কাবা ঘর নির্মাণ ও তাওয়াফ করেন। পরবর্তীতে অনেক নবী-রাসূল তা সংস্কার বা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। কাবা ঘর হলো পৃথিবীর প্রথম ঘর, মুসলিম জাতির প্রথম উপাসনালয়। আজও সেখানে কাবা ঘর বিদ‍্যমান রয়েছে এবং থাকবে।
১০। সৌদিআরবে বসবাসকালীন সময়ে হযরত আদম (আঃ)-এর উপর মহান আল্লাহ তায়ালা ১০খানা ছোট আসমানী কিতাব, সহীফা বা ইসলামী ধর্মগ্রন্থ নাযিল করেন। পৃথিবীর প্রথম মানব এবং পৃথিবীর প্রথম মানবী সেসব ইসলামী ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ করতেন এবং তাঁদের সন্তানদের মধ‍্যে সেসব ইসলামী ধর্মগ্রন্থের প্রচার ও প্রসার ঘটাতেন। পরবর্তীতে তাঁদের একমাত্র বেজোড় সন্তান হযরত শীস (আঃ)-এর উপর মহান আল্লাহ তায়ালা ৫০খানা ছোট আসমানী কিতাব, সহীফা বা ইসলামী ধর্মগ্রন্থ নাযিল করেন। মহান আল্লাহ তায়ালা ১২৪০০০ নবী, ৩১৫ জন রাসূল, ১০০খানা সহীফা বা ছোট আসমানী কিতাব এবং ৪খানা বড় আসমানী কিতাবের মাধ্যমে পৃথিবীর শুরু থেকে আজ অবধি ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন এবং সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর হাদীস, তাঁর উম্মত ও সর্বশেষ আসমানী কিতাব পবিত্র কুরআনের মাধ‍্যমে কিয়ামত অবধি এই ইসলাম ধর্মকে বলবৎ রাখবেন।
করেছেন (4,426 পয়েন্ট)
১১। পৃথিবীর শুরু থেকেই পর্দা ছিলো তথা অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকার বিধান ছিলো। জান্নাতে মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আঃ)-এর বুকের বাম পাজরের বাঁকা হাড় দিয়ে হযরত হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন। হযরত আদম (আঃ) ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে সুন্দরী রমণী হযরত হাওয়া (আঃ)-কে কাছাকাছি দেখে ধরতে যান, কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁকে তা করা থেকে বিরত রাখেন। কেননা, বিবাহপূর্ব কোনো বেগানা নারীকে স্পর্শ করা হারাম।
১২। পৃথিবীর শুরু থেকেই ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে ছিলো। মহান আল্লাহ তায়ালা নিজে কাজী হয়ে জান্নাতের মধ‍্যে হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ)-এর মধ‍্যে শুভ বিবাহ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে পৃথিবীতে এসে বংশবৃদ্ধি করে হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে তাঁদের এক জোড়া সন্তানের সাথে পরবর্তী জোড়া সন্তানের শুভ বিবাহ সম্পন্ন করতেন। অন‍্যান‍্য নবী-রাসূলগণ ও তাঁদের উম্মতেরাও ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) নিজেও ইসলাম মেনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং তাঁর উম্মতেরাও কিয়ামত অবধি সেভাবেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে।
১৩। পৃথিবীর শুরু থেকেই জিকির ছিলো তথা আল্লাহকে স্মরণ করা হতো। হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ) আল্লাহকে সবসময় স্মরণ করতেন। অন‍্যান‍্য নবী-রাসূলগণ ও তাঁর উম্মতেরাও আল্লাহকে স্মরণ করতেন। সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)ও আল্লাহকে সবসময় স্মরণ করতেন এবং তাঁর উম্মতেরাও কিয়ামত অবধি এক আল্লাহকে স্মরণ করে যাবে।
১৪। পৃথিবীর প্রথম কালেমা পাঠকারী ব‍্যক্তির নাম হলো হযরত আদম (আঃ)। জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসার দীর্ঘ সাড়ে ৩০০ বৎসর কান্নাকাটি করার পরে কাবার মাটিতে পৌছে হযরত আদম (আঃ) পবিত্র আরশে আজীমে দেখা পবিত্র কালেমা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)'-এর উসীলায় আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে তাঁদের উভয়কেই ক্ষমা করে দেন। পরবর্তীতে অন‍্যান‍্য নবী-রাসূলগণ ও তাঁদের উম্মতেরাও এক আল্লাহর কালেমা পাঠ করেছেন। সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)ও এক আল্লাহর কালেমা পাঠ করেছেন এবং কিয়ামত অবধি তাঁর উম্মতেরাও কালেমা পাঠ করে যাবে।
১৫। পৃথিবীর প্রথম নামাজ আদায়কারী ব‍্যক্তির নাম হলেন হযরত আদম (আঃ)। যখন মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ক্ষমা করে দেন, তখন তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য কাবার মাটিতেই দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নেন। কিভাবে সেজদা দিতে হবে বা নামাজ আদায় করতে হবে তাঁর শিক্ষা হযরত আদম (আঃ) মহান আল্লাহর কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে অন‍্যান‍্য নবী-রাসূলগণ ও তাঁদের উম্মতেরাও এক আল্লাহকে সেজদা করার মাধ‍্যমে নামাজ আদায় করেছেন। সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)ও নামাজ কায়েম করেছেন এবং তাঁর উম্মতেরাও কিয়ামত অবধি নামাজ কায়েম করে যাবে। অন‍্যান‍্য নবী-রাসূল ও তাঁদের উম্মতেরা হায়াৎ পেতেন বেশি, তাই নামাজও আদায় করতেন বেশি। সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মতদের হায়াৎ কম, তাই তাদের উপর মাত্র পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু যারা এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সঠিকভাবে আদায় করবে, অন‍্যান‍্য নবীর উম্মতদের থেকেও তারা বেশি সওয়াব পাবে।
১৬। পৃথিবীর প্রথম রোজা পালনকারী ব‍্যক্তি হলেন হযরত আদম (আঃ)। পরবর্তীতে অন‍্যান‍্য নবী-রাসূলগণ ও তাঁদের উম্মতেরাও রোজা পালন করেছেন। সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)ও রোজা পালন করেছেন এবং তাঁর উম্মতেরাও কিয়ামত অবধি রোজা পালন করে যাবে।
১৭। হযরত আদম (আঃ) এবং হযরত হাওয়া (আঃ) সর্বপ্রথম কাবাঘর নির্মাণ করেন এবং সর্বপ্রথম কাবাঘর তাওয়াফ করেন। অন‍্যান‍্য নবী-রাসূলগণ ও তাঁদের উম্মতেরাও কাবা ঘর পুনঃনির্মাণ, সংস্কার বা তাওয়াফ করেছেন। সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) পথভ্রষ্ট মানবজাতিদের বানানো ৩৬০টি মূর্তি কাবাঘর থেকে বের করে ভেঙে ফেলেন এবং আরবের সব গোত্রের মানুষদের নিয়ে কাবাঘর পুনরায় সংস্কার ও তাওয়াফ করেন। মক্কা বিজয়কালে হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীগণ হজ্জ্ব পালন করেন এবং কাবাঘর তাওয়াফ করেন। কিয়ামত অবধি তাঁর উম্মতেরা হজ্জ্ব পালন করবে ও কাবাঘর তাওয়াফ করবে।
১৮। হযরত আদম (আঃ)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল সর্বপ্রথম পৃথিবীতে কুরবানী করেন। হাবিলের কুরবানী কবুল হয়েছিলো, কিন্তু কাবিলের কুরবানী কবুল হয়নি। কারণ, হাবিলের মধ্যে তাকওয়া থাকলেও কাবিলের মধ‍্যে তা ছিলো না।
১৯। পৃথিবীর শুরু থেকেই মুসলমানদের কবর ছিলো। নারীকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর প্রথম হত‍্যাটি সংঘটিত হয়েছে। হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ)-এর জোড়ায় জোড়ায় সন্তান হতো। এক জোড়ার সন্তানদের সাথে পরবর্তী জোড়ার সন্তানদের বিয়ে দেয়া হতো। কাবিলের বোন ছিলো আকলিমা আর হাবিলের বোন ছিলো গাজাহ। আকলিমা দেখতে অনেক সুন্দরী ছিলো আর গাজাহ দেখতে সামান‍্য কম সুন্দরী ছিলো। নিয়ম অনুযায়ী, হাবিল বিয়ে করবে কাবিলের বোন আকলিমাকে আর কাবিল বিয়ে করবে হাবিলের বোন গাজাকে। কিন্তু কাবিল তাঁর নিজের বোন আকলিমাকে বিয়ে করতে চাইলো, আর হাবিলের বোন গাজাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালো। তাঁদের সমস‍্যা মিটমাট করার জন‍্য মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আঃ)-কে নির্দেশ দিলেন তাঁর দুই পুত্রের মধ‍্যে কুরবানী করার জন‍্য। যার কুরবানী কবুল হবে, সে আকলিমাকে বিয়ে করবে। কিন্তু হাবিলের কুরবানী কবুল হলেও কাবিল হার মানতে চাইলো না। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে সে জিদের বশে তাঁর ভাই হাবিলকে হত‍্যা করে ফেলে। পরবর্তীতে কাবিল অনুতপ্ত হয় এবং একটি জীবন্ত কাক কর্তৃক আরেকটি মৃত কাকের দাফন করার দৃশ্য দেখে তাঁর ভাই হাবিলকে মাটিতে গর্ত করে দাফন করে। পৃথিবীর প্রথম হত্যাকারী ব‍্যক্তি হলেন কাবিল, প্রথম মৃত‍্যুবরণকারী ব‍্যক্তি হলেন হাবিল, প্রথম লাশ দাফনকারী ব‍্যক্তি হলেন কাবিল, প্রথম লাশ হাবিলের, প্রথম কবর হাবিলের।
২০। উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট, পৃথিবীর শুরু থেকেই মহান আল্লাহ, ফেরেশতাগণ, আরশে আজীম, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর নাম, মানুষ, শয়তান, জান্নাত, আরবি ভাষা, পবিত্র কুরআন, লাওহে মাহফুজ, পর্দা তথা অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকা, কালেমা, নামাজ, রোজা, কাবাঘর তাওয়াফ, জিকির, আসমানী কিতাব বা ইসলামী ধর্মগ্রন্থ পাঠ, সৎকর্ম, মুসলিম জাতি, ইসলাম, মুসলমানদের কবর ইত‍্যাদি ছিলো এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা থাকবে। যেহেতু সকল নবী-রাসূলগণই ইসলাম প্রচার করেছেন, সেহেতু সকল নবী-রাসূলগণের উম্মতেরাই জান্নাতে যাবে, প্রকৃতপক্ষে যারা তাঁদেরকে সঠিকভাবে অনুসরণ করেছে। কিন্ত সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) দুনিয়াতে আসার পরে যারা তাঁকে অনুসরণ করে না এবং সর্বশেষ ইসলামী ধর্মগ্রন্থ কুরআন নাযিলের পরে যারা তা অনুসরণ করে না, তারা সকলেই জাহান্নামে যাবে। তাই আসুন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই আমরা আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম ইসলামকে আঁকড়ে ধরি, বাপ-দাদার ধর্ম নয়, স্রষ্টার ধর্মকে আঁকড়ে ধরি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
24 মে "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Badshah Niazul (4,426 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
12 ফেব্রুয়ারি "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rejaul Korim bablu (11 পয়েন্ট)

312,429 টি প্রশ্ন

402,011 টি উত্তর

123,447 টি মন্তব্য

173,133 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...