বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
102 জন দেখেছেন
"কৃষি" বিভাগে করেছেন (4,428 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (5,186 পয়েন্ট)
বাঁশ চাষ করার জন্য প্রথমে আপনাকে বাঁশের চারা বা বাঁশের মোথা চারা হিসাবে রোপন করতে হবে অথবা চারা হিসাবে কঞ্চি কলম রোপন করতে হবে। প্রতিটি চারা ২ থেকে ২.৫ অথবা ৩ ফিট দুরে দুরে রোপন করতে হবে এবং নিয়মিত পরিচর্চা করতে হবে।
0 টি পছন্দ
করেছেন (232 পয়েন্ট)
বাঁশ চাষ বাঁশের বীজ বা চারার অভাবে বাঁশ উৎপাদন ব্যাহত হয়। মোথার মূল্য বেশি এবং দুষপ্রাপ্যতার কারণে চাষিরা বাঁশ চাষে নিরুৎসাহিত হয়। নিচে বাঁশ চাষের কয়েকটি সহজ পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো- মোথা বা রাইজম পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ স্থান নির্বাচন সাধারণত ডোবা, নালা, খাল, পুকুর পাড় বা বসতবাড়ির আশপাশে প্রান্তিক জমিতে বাঁশ চাষ করা হয়। দো-আঁশ ও এঁটেল মাটিতে বাঁশ ভালো হয়। গর্ত তৈরি : মোথা লাগানোর ১৫-২০ দিন আগে নির্বাচিত স্থানের মাটি গর্ত করতে হয়। এজন্য ৫০ সেন্টিমিটার গভীর এবং ৩০ সেন্টিমিটার চওড়া গর্ত করতে হবে। সার প্রয়োগ : প্রতি গর্তে পচা গোবর ১৫ কেজি, ইউরিয়া ১০০ গ্রাম, টিএসপি ১০০ গ্রাম এবং এমপি ৫০ গ্রাম মাটির সাথে মিশিয়ে ১৫-২০ দিন রাখতে হবে। মোথা সংগ্রহ : মধ্যম বয়সী একটি বাঁশকে মাটি থেকে এক মিটার উঁচুতে কাটতে হয়। মোথায় ২-৩টি সজীব চোখ থাকতে হবে। মোথাসহ বাঁশটি তুলে আনতে হবে। মোথা রোপণ : বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠ মাসে মোথা রোপণের উপযুক্ত সময়। আগে করা গর্তে সার মাটি সরিয়ে একটু কাত করে মোথা রোপণ করতে হবে। মোথা থেকে মোথার দূরত্ব ৫-৬ মিটার হলে ভালো হয়। মোথা লাগানোর পর গোড়ার মাটি ভালো করে চেপে দিতে হয়। পরিচর্যা : মোথা রোপণের পর বাঁশের কাটা মাথা পলিথিন বা অন্য কিছু দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। বৃষ্টি না থাকলে রোপণের পর কয়েক দিন পানি সেচ দিতে হবে। বাঁশ উচ্চতায় এবং পরিধিতে প্রথম ৪-৫ মাসের মধ্যেই বেড়ে যায়। পরে শুধু বাঁশের পুরুত্ব বাড়ে। বাঁশ একবার রোপণ করার পর তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ঝাড়ে পরিণত হয়। প্রতি ঝাড়ে প্রায় ২৫-৫০টি বাঁশ হয়। লেয়ারিং বা শোয়ানো পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ চারা তৈরি : এ ক্ষেতের এক থেকে দুই বছর বয়সে বাঁশকে দাবা কলমের মতো মাটিতে শুইয়ে দিতে হয়। বাঁশের গোড়া মাটির ভেতরে থাকবে। এরপর ঐ বাঁশের ওপর ভেজা মাটি চাপা দিতে হয়। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে শুইয়ে দিতে হয়। বাঁশের কিছু কিছু গিঁট থেকে নতুন শিকড় ও মোথার জন্ম হয়। সেখান থেকে নতুন বাঁশ বের হয়। বাঁশের চারা গিঁটসহ কেটে উপযুক্ত স্থানে রোপণ করতে হয়। গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ : চারা লাগানোর ১৫-২০ দিন আগে ৪০ সেমি. গভীর এবং ৪০ সেমি. চওড়া করে গর্ত করতে হবে। গর্তে ৫ কেজি গোবর, ২০ গ্রাম ইউরিয়া, ২০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫ গ্রাম এমপি মাটির সাথে মিশিয়ে ১৫-২০ দিন রাখতে হবে। চারা রোপণ : সার মিশ্রিত মাটি সরিয়ে সোজা করে গিঁটসহ চারা রোপণ করতে হবে। মোথা থেকে মোথার দূরত্ব ৫-৬ মিটার হলে ভালো হয়। চারা লাগানোর পর গোড়ার মাটি ভালো করে চেপে দিতে হয়। পরিচর্যা : চারা রোপণের পর বৃষ্টি না থাকলে সেচ দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। প্রতি বছর গোড়ায় মাটি দিতে হবে। বীজ থেকে বাঁশের চাষ চারার তৈরি : বাঁশে সারা জীবনে একবার মাত্র ফুল ফোটে। প্রজাতিভেদে ২০ থেকে ১০০ বছর পর বাঁশের ফুল ধরে। ফুল ধরলে বাঁশ ঝাড় মরে যায়। তখন বীজ সংগ্রহ করতে হয়। বীজ সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বপন করে চারা উৎপাদন করতে হয়। স্থান নির্বাচন : সাধারণত ডোবা, নালা, খাল, পুকুর পাড় বা বসতবাড়ির আশপাশে প্রান্তিক জমিতে বাঁশ চাষ করা হয়। দো-আঁশ, এঁটেল দো-আঁশ মাটিতে বাঁশ ভালো হয়। গর্ত তৈরি : চারা রোপণের ১৫-২০ দিন আগে নির্বাচিত স্থানে মাটি গর্ত করতে হয়। ৩০ সেমি. গভীর এবং ২০ সেমি. চওড়া গর্ত করতে হবে। সার প্রয়োগ : প্রতি গর্তে পচা গোবব ২ কেজি, টিএসপি ১০ গ্রাম, এমপি ৫ গ্রাম মাটির সাথে মিশিয়ে ১৫-২০ দিন রাখতে হবে। চারা রোপণ : এক বছর বয়সের চারা উক্ত গর্তে রোপণ করতে হয়। চারা রোপণ করে গোড়ার মাটি চেপে দিতে হবে। চারা থেকে চারার দূরত্ব ৫-৬ মিটার দিলে ভালো হয়। বাঁশ চাষের পরিচর্যা খরা হলে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। চারার গোড়ায় মাটি তুলে দিয়ে আলগা করে দিতে হয়। কচুরিপানা দিয়ে চারার গোড়া ঢেকে দিলে মাটি ভেজা থাকে। বাঁশ ঝাড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। কোনো বাঁশ রোগে আক্রান্ত হলে তা মোথাসহ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। অতিরিক্ত কঞ্চি হলে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ছাঁটাই করতে হবে। তিন বছর পর পর বর্ষার পরে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার দিতে হবে। কোনো বাঁশ ঝড়ে ভাঙলে কেটে সরাতে হবে। বাঁশে পোকা আক্রমণ করলে কীটনাশক দিতে হবে। বাঁশ কাটার সময় সাধারণত দু’বছর বা তার বেশি বয়সের বাঁশ কাটা উচিত। বনাঞ্চলে সরকারিভাবে সাধারণত তিন বছর অন্তর বাঁশ কাটা হয়। বাঁশ পরিপক্ব হলে বাঁশের কাণ্ডের সবুজ বর্ণ ধূসর হবে। কাণ্ডে টোকা দিলে ধাতব শব্দ হবে। কাটার পর শুকিয়ে কুঁচকে যাবে না। মুর্তা বা পাটি পাতা মুর্তা বা পাটি পাতা এ দেশে গ্রামীণ কুটির শিল্পের কাঁচামাল। এটি দেশের সব জেলাতে জন্মে না। শুধু সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর ব্যাপক চাষাবাদ হয়। মুর্তা দিয়ে শীতল পাটি তৈরি হয়। পাটির দাম ৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। পাটি তৈরির ওপর দেশে প্রায় ৪-৫ লাখ লোক জীবিকা নির্বাহ করছে। চাষ পদ্ধতি মুর্তা চাষ করা সহজ। তেমন পরিচর্যা করতে হয় না। চাষে খরচও কম। তেমন ভালো জমিরও প্রয়োজন হয় না। স্থান নির্বাচন : স্যাঁতসেঁতে জায়গা যেমন- পুকুরের ঢাল, ডোবার ধার, বর্ষাকালে যেখানে জলাবদ্ধ হয়, নিচু জায়গা যেখানে অন্য ফসল হয় না এমন জায়গায় মুর্তার চাষ করা যায়। দো-আঁশ, এঁটেল দো-আঁশ মাটিতে মুর্তা ভালো হয়। রোপণ : মুর্তার রাইজম বা মোথা রোপণ করা যেতে পারে। মে-জুন মাসে রাইজম সংগ্রহ করে রোপণ করতে হয়। সারি থেকে সারি ৬০ সেমি. এবং মোথা থেকে মোথা ৬০ সেমি. দূরত্বে লাগাতে হয়। মুর্তার ডাল রোপণ করেও চাষ করা যেতে পারে। ২০ সেমি. মাটি গভীর করে ১৫ সেমি. চওড়া গর্ত করতে হয়। রাইজম বা ডাল গর্তে রোপণের পর গোড়া ভালোভাবে চেপে দিতে হয়। সার প্রয়োগ : প্রতি গর্তে ৩ কেজি পচা গোবর, ২০ গ্রাম টিএসপি ও ২০ গ্রাম এমপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে ১৫ দিন রাখতে হয়। মোথায় পাতা গজানোর পর প্রতি চারায় ১০ গ্রাম করে ইউরিয়া সার দিতে হয়। পরিচর্যা : মুর্তা তেমন পরিচর্যা করতে হয় না। শুধু খেয়াল রাখতে হবে জমি যেন স্যাঁতসেঁতে থাকে। প্রতি বছর শীতকালে জৈব সার, ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার দিতে হয়। প্রতি বছর গাছের গোড়ায় মাটি কুপিয়ে আলগা করে গোড়ায় মাটি দিলে ভালো হয়। কর্তন : চৈত্র মাসে কাটা হয়। মোথা লাগালে দু’বছরে ২-৪ মিটার লম্বা হলেই কাটার উপযুক্ত হয়। ডাল লাগালে ফলন কম হয়। তিন বছর সময় লাগে। কিন্তু পরবর্তীতে ফলন স্বাভাবিক হয়। মুর্তা মাটি থেকে ২-৭ সেমি. ওপরে ধারালো দা দিয়ে কাটতে হয়। এখান থেকে আবার কুশি গজিয়ে মুর্তা লম্বা হয়। ঠিকভাবে চাষ করলে প্রতি হেক্টরে ৩০ হাজার টাকার মুর্তা হতে পারে। মুর্তার ব্যবহার : মুর্তার কাণ্ডের ত্বক দিয়ে উন্নত মানের শীতল পাটি তৈরি হয়। ভেতরের অংশ দিয়ে নিম্নমানের পাটি তৈরি হয়। এ ছাড়াও ব্যাগ, পুতুল, ডেকোরেশনসহ বিভিন্ন কুটির শিল্পে মুর্তার ব্যবহার হয়। উৎস::bdnews24.com

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর
16 জুলাই "কৃষি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
0 টি উত্তর
05 জুলাই "কৃষি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Badshah Niazul (4,428 পয়েন্ট)
1 উত্তর
2 টি উত্তর
05 মে "কৃষি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোঃ ইলেকট্রন ইসলাম (20 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
05 মে "কৃষি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোঃ ইলেকট্রন ইসলাম (20 পয়েন্ট)

312,081 টি প্রশ্ন

401,655 টি উত্তর

123,408 টি মন্তব্য

172,954 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...