বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
91 জন দেখেছেন
"কৃষি" বিভাগে করেছেন (4,430 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

2 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (17,359 পয়েন্ট)
উপযুক্ত বৃদ্ধির জন্য আর্দ্র আবহাওয়া এবং গড় তাপমাত্রা ২০০ থেকে ৩০০ সে. হওয়া দরকার। পর্যাপ্ত সূর্যোলোকসহ উপকূলীয় এলাকা ও বর্ষাকাল উৎপাদনের উপযুক্ত সময় । শীতকালে রজনীগন্ধা ফুলের উৎপাদন কমে যায়। তবে সেমি ডবল ও ডবল জাত শীতকালেও ফুল দিতে থাকে। জৈব সার সমৃদ্ধ দো-আঁশ মাটি। উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি, পানি বের করে দেওয়ার সুব্যবস্থা যুক্ত মাটি। ছায়াহীন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। পানি সেচ ব্যবস্থা আছে এমন এবং জমির pH মান ৬.৫ থেকে ৭.৫ আছে এমন জমি।

কন্দ লাগানোর উপযুক্ত সময় রবি মৌসুম: মধ্য আশ্বিন হতে কার্ত্তিকের শেষ (অক্টোবর হতে মধ্য নভেম্বর) পর্যন্ত।

খরিফ মৌসুম: ১লা চৈত্র থেকে বৈশাখের মাঝামাঝি (মধ্য মার্চ থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত)।একর প্রতি ১২০০০ টি কন্দ লাগাতে হবে।কন্দ দ্বারাই রজনীগন্ধার চাষ ও বংশ বিস্তার করা হয়। কন্দ থেকে উৎপন্ন গাছে মাতৃ গাছের সকল গুণাগুণ বজায় থাকে।জমি চাষ শেষ হলে ৫ ফুট প্রশসত্ম বেড তৈরি করতে হবে। বেড তৈরির ৭ থেকে ১০ দিন পর কন্দ রোপণ করা উচিত। ০.৬ থেকে ১.১৮ ইঞ্চি ব্যাসের কন্দ লাগাতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ১২ ইঞ্চি এবং কন্দ হতে কন্দের দূরত্ব ৮ ইঞ্চি। কন্দকে ৬ ইঞ্চি গভীরে লাগাতে হবে। কন্দ রোপণের আগে কন্দের সুপ্তাবস্থা (যে সময়টুকুতে বীজ গজাবে না তাকেই সুপ্তাবস্থা বলে) কাটানোর জন্য কন্দ গুলোকে ৪ শতাংশ থায়ো ইউরিয়া জলীয় দ্রবনে প্রায় ৩০ মিনিট চুবিয়ে রাখতে হবে।

জমি তৈরি ও সার প্রয়োগঃ প্রথম চাষের সঙ্গে প্রতি বিঘা জমিতে ৩ টন জৈবসার বা খামারের সার মিশাতে হবে এবং ৪-৫ বার গভীরভাবে চাষ দিয়ে অগাছামুক্ত করতে হবে ও জমির মাটি ঝুরঝুরে ও সমান করতে হবে। শেষ চাষের আগে প্রতি বিঘাতে ১৪:২৮:২৮ ইউরিয়া, টিএসপি,এমপি সার মূল সার হিসাবে জমিতে মিশতে হবে । এঁটেল মাটিতে ১০% সার কম দিলেও চলে। ২ মাস পর হতে প্রতি ২ মাস পর পর ৭ কেজি ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরীর কাজ চারা লাগাবার অন্ততঃ ১৫ দিন আগে শেষ করতে হবে। টবে চাষের ক্ষেত্রে ২ ভাগ মাটি, ১ ভাগ পাতা পচা সার, ১ ভাগ পচা গোবর সার মিশিয়ে টব ভরে নিতে হবে। একটি টবে ২টি কন্দ লাগানো যায়।রজনীগন্ধার জমির মাটিতে সবসময় রস থাকা উচিত। গ্রীষ্মকালে ৭ দিন পরপর এবং শীতকালে ১০ দিন পরপর সেচ দেওয়া উচিত।

 রজনীগন্ধার জমি সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। আগাছা দমনের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কন্দের কোন ক্ষতি না হয়। আগাছা দমনে প্রয়োজনে অনুমোদিত আগাছানাশক ১.৮ কেজি/একর প্রতি স্প্রে করতে হবে।

 রজনীগন্ধার জমিতে নিড়ানী দিতে হবে। নিড়ানী দেওয়ার ফলে গাছ আলো, বাতাস ও পানি সহজেই পেতে পারে। নিড়ানীর ফলে জমির আর্দ্রতার ধারন ক্ষমতা বাড়ে এবং আগাছা মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।একই জমিতে পরপর দু’তিন বছর এক নাগাড়ে রজনীগন্ধা ও বেগুন জাতীয় ফসর চাষ না করা ভাল। দু’সারি রজনীগন্ধা গাছের মধ্যে এক সারি গাঁদা গাছ লাগিয়ে গাঁদা-রজনীগন্ধার মিশ্র চাষ করলে শিকড়ে গিঁট কৃমির উপদ্রব কম হয়। জমিতে নিম খৈল ছিটানো যেতে পারে। কন্দ রোপণের সময় সারির মাটিতে নিম খৈল ও নিউফরান ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। তারপর সেখানে কন্দ রোপণ করলে এ রোগের আক্রমণ অনেক কম হয়। প্রাথমিকভাবে অল্প গাছ আক্রান্ত হলে সেসব গাছ তুলে জমি থেকে দূরে ফেলতে হবে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত স্থানের মাটি কিছুটা গর্ত করে খড় জ্বালিয়ে মাটি পুড়াতে হবে।লাগানোর ৭০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে গাছে স্টিক আসতে শুরু করে। স্টিক কাটার সময় ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হবে। রজনীগন্ধার স্টিকের প্রথম ফুল ফুটলেই ডাঁটিসহ ফুল কাটতে হবে। ভোরের ঠান্ডা আবহাওয়ায় অথবা পড়ন্ত বিকেলে ফুল কাটতে হবে। স্টিক কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন এটি মাটি থেকে ১.৫ থেকে ২.৫ ইঞ্চি উপরে থাকে। কাটার সাথে সাথে স্টিক গুলির নীচের কাটা অংশ পানিতে চুবিয়ে ছায়ায় রাখতে হবে , যেন ফুল ও স্টিকের সতেজভাব বজায় থাকে।রজনীগন্ধার কন্দ সহজেই উত্তোলন  ও সংরক্ষণ করা যায়। ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেলে কন্দ গুলি মাটি থেকে তুলে এনে পরিস্কার করে ছায়াযুক্ত শুকনো মেঝেতে ছড়িয়ে রাখতে হয়। পরিপক্ক কন্দগুলি পরবর্তীতে বীজ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
0 টি পছন্দ
করেছেন (381 পয়েন্ট)

মনোরম সুগন্ধী ফুল রজনীগন্ধা চাষ পদ্ধতি।

বাজার সম্ভাবনা : আমাদের দেশে সারাবছরই রজনীগন্ধা ফুলের চাহিদা থাকে। কাটা ফুল হিসেবে রজনীগন্ধার ব্যবহার হয়ে থাকে। ঘরে সাজিয়ে রাখলে এ ফুলের মিষ্টি গন্ধ ঘরকে ভরিয়ে দেয়। তাই সৌখিন মানুষেরা ঘর সাজানোর জন্য এই ফুল ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া বিয়ে, গায়ে হলুদ, বিভিন্ন সভা, সমাবেশে, অনুষ্ঠানের স্থান ফুল দিয়ে সাজানো হয়ে থাকে। তাই ফুলের চাহিদা প্রায় সারাবছরই থাকে। আমাদের দেশের প্রায় সব জেলা শহরে ফুলের দোকান দেখা যায়। এসব ফুলের দোকানে ফুল সরবরাহ করে আয় করা সম্ভব। এছাড়া রজনীগন্ধা ফুল চাষ করে দেশীয় বাজারে বিক্রয়ের পাশাপাশি ফুল বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে। রজনীগন্ধা ফুল বিদেশে রপ্তানি করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

রজনীগন্ধা ফুল উৎপাদন কৌশল : চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটি

জলবায়ু মাটির প্রকৃতিঃ  মার্চ থেকে এপ্রিল মাস রজনীগন্ধার চারা লাগানোর জন্য উপযুক্ত সময়। প্রায় সব রকম মাটিতে রজনীগন্ধার চাষ করা যেতে পারে। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি এ ফুল চাষের জন্য ভালো। মাটির পিএইচ ৬.৫-৭.৫ হওয়া উচিত।

জাত : আমাদের দেশে দুই ধরণের রজনীগন্ধার জাত দেখা যায়। যেমন: সিংগেল ও ডাবল জাত। সুগন্ধ ও ফুলের সংখ্যা বেশি তাই সিংগেল জাতের চাহিদা বেশি। ডাবল ফুলের পাপড়ি অনেক কিন্তু ফুলের সংখ্যা কম। এতে গন্ধ নেই বললেই চলে।
বংশবিস্তার : কন্দ দিয়ে রজনীগন্ধার বংশবিস্তার করা হয়। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ফুল ফোটা শেষ হলে মাটির নিচ থেকে রজনীগন্ধার কন্দ তুলে নিতে হবে। এরপর রোপণের জন্য বড় মাপের কন্দ বাছাই করে বেশ কয়েক দিন ছায়াতে রেখে শুকিয়ে নিতে হবে।

জমি তৈরি :
১. জমি গভীরভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে ও সমান করে নিতে হবে।

২. বর্ষার পানি নিকাশের সুবিধার জন্য বেড তৈরি করে নিয়ে তাতে কন্দ লাগাতে হবে। তাহলে বেশি ফুল ধরবে।

কন্দ রোপণ :
১. ২৫-৩০ সে.মি. দূরে দূরে সারি তৈরি করে তাতে কন্দ রোপণ করতে হবে।
২. প্রতি সারিতে ১০-১৫ সে.মি. দূরে দূরে কন্দ রোপণ করতে হবে।
৩. রজনীগন্ধার কন্দ ৭ সে.মি. মাটির গভীরতায় পুঁতে লাগাতে হবে।

সার প্রয়োগ : কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে রজনীগন্ধা ফুল চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশে-পাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদি স্তুপ করে রেখে আবর্জনা পচা সার তৈরি করা সম্ভব।

সেচ ও নিষ্কাশন : ১. কন্দ লাগানোর পরপরই জমিতে সেচ দিতে হবে।

২. মাটির অবস্থা বুঝে ৭-১০ দিন পরপর সেচ দেওয়া ভালো।

৩. বর্ষাকালে জমিতে যেন পানি না জমে সেজন্য নিকাশের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

রোগবালাই ও তার প্রতিকার :রজনীগন্ধা ফুলের বাগানে পোকার আক্রমণ হলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।

চাষের সময় পরিচর্যা :১. জমিতে আগাছা থাকলে পোকামাকড়, রোগজীবাণু ও ইঁদুরের আক্রমণ বেশি হয়। তাই সময়মতো নিড়ানির সাহায্যে আগাছা তুলে ফেলতে হবে।

২. মাটির ঢেলা ভেঙ্গে দিতে হবে এবং মাটি ঝরঝরে রাখতে হবে।
ফুল সংগ্রহ : এক জমিতে একবার কন্দ লাগানোর পর এক নাগাড়ে তিনবছর রজনীগন্ধার চাষ করা যায়। এরপর জমি পরিবর্তন করতে হয়। সকাল বেলায় ফুল আধাফোটা অবস্থায় থাকাকালীন ডাঁটা কেটে রজনীগন্ধা সংগ্রহ করতে হয়।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
14 এপ্রিল 2014 "বৈজ্ঞানিক নাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন সোহেল (314 পয়েন্ট)

312,939 টি প্রশ্ন

402,501 টি উত্তর

123,637 টি মন্তব্য

173,340 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...