বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
62 জন দেখেছেন
"দুয়া ও যিকির" বিভাগে করেছেন (4,795 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (3,083 পয়েন্ট)

বিসমিল্ল্হ অর্থ হলো আল্লাহর নামে শুরু করলাম।এটির ফজিলত অনেক।মহান আল্লাহ্ কোরানুল কারীমে ইরশাদ করেন, বিসমিল্লাহ শরীফের মধ্যে ১৯টি হরফ আছে। এ ১৯টি হরফের বিশেষত্ব এই যে, দিবা রাতে মোট ২৪ ঘণ্টা। পাঁচ ঘণ্টা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য নির্দিষ্ট। বাকি ১৯ ঘণ্টা মানুষের কাজকর্ম, চলাফেরা, পানাহার ও নিদ্রায় কাটায়। আল্লাহ তা'য়ালা ওই সময়ের মধ্যে এবাদতের জন্য বিসমিল্লাহকে নির্দিষ্ট করেছেন। তার বরকতে মানুষ বিপদাপদ হতে বেঁচে থাকে। সুতরাং প্রত্যেক ঘণ্টায় ১৯ বার করে বিসমিল্লাহ পাঠ করা উচিত। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন বিসমিল্লাহ শরীফ অবতীর্ণ হয়, তখন তার মর্যাদাও মহানুভবতার ভয়ে পাহাড়-পর্বত কম্পমান হতে থাকে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি দোজখরক্ষী উনিশজন ফেরেশতার আযাব হতে মুক্তি পেতে চায়, তার কর্তব্য অধিক সংখ্যকবার বিসমিল্লাহ পাঠ করা। কারণ, বিসমিল্লাহ হতে উনিশটি বর্ণ। এক একটি বর্ণ পাঠের বরকতে এক একজন ফেরেশতার কঠোর আযাব হতে মুক্ত পাওয়া যাবে। 


হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, হযরত আদম (আঃ)-এর উপর যখন বিসমিল্লাহ শরীফ অবতীর্ণ হয়, তখন মেঘমালা, আকাশ হতে পূর্ব দিকে ধাবিত হয়, বায়ু প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, সমূদ্রের স্রোত ধারাসমকে দাঁড়ায়, হিংস্র জন্তু তাদের স্বভাব সিদ্ধ হিংস্রতা ভুলে যায় এবং শয়তানকে আকাশ হতে বিতাড়িত করা হয়। (সারেফুল কুরআন)

আমল ও ফজিলত

এটা কোরানুল করীমের একটি আয়াত। হাদীস শরীফে এ আয়াতকে আল-কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত বলা হয়েছে 'তাসমিয়ার ফযীলত ও নছিয়ত লিখে শেষ করা সম্ভব নয়।' নিচে তার কয়েকটি ফজিলত ও খছিয়তের বিষয় সংক্ষেপে বর্ণনা করা হচ্ছে।

আল্লাহ্ তা'য়ালা কোনো এক নবীকে জানিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তি জীবনে চার হাজার বার বিসমিল্লাহ শরীফ পাঠ করেছে বলে তার আমলনামা সাক্ষ্য দিলে, শেষ বিচারের দিন আরশের নিকট তার পতাকা স্থাপন হবে। (তাফসীরে কবীর)

হাদীস শরীফে হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন যে, যখন মানুষ পস্রাব-পায়খানার জন্য, নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনের জন্য তৈরি হয়, তখন শয়তান তার প্রত্যেক কাজে আিনষ্ট করে। কিন্তু যখন বিসমিল্লাহ পাঠ করে তৈরি হয়, তা পুরুষ হোক বা স্ত্রী লোক হোক তার মধ্যে এবং শয়তানের মধ্যে একটি আবরণ পড়ে যায়। তাতে তার শরীর কেউ দেখতে পায় না এবং দেখলেও কোনো অনিষ্ট করতে পারে না। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) ইরশাদ করেন, কি আনন্দ ওই ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন সে আল্লাহর রহমতের মধ্যে ডুবে যাবে অর্থাৎ সে বেহেস্তের অশেষ নেয়ামত পাবে। 

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, দোজখের দারোগা মালেককে ফেরেশতা যখন কোনো ফেরেশতাকে দোজখের বিভিন্ন প্রকোষ্টের মধ্যে কোনো ব্যক্তিকে নুতন আযাব দেবার জন্য পাঠাবেন, তখন সে ওই ফেরেশতার কপালের উপর ''বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'' লিখে দেবেন। তখন ওই ফেরেশতা আরামের সাথে দোজখের প্রত্যেক প্রকোষ্টে চলাফেরা করতে পারবেন। দোজখের আগুন তার দেহে কোনো প্রকার ক্রিয়া করবে না। সুবহানাল্লাহ। 

নিম্নে ''বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম''-এর ফজিলতের ঘটনা বর্ণনা করছি। অছুলতে ফারুকী নামক কেতাবে বর্ণিত আছে, রোমের কায়ছার নামক এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করার পর হযরত ওমর বিন খাত্তাব এর নিকট একখানা পত্র প্রেরণ করলেন যে, তার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা। কোনো চিকিৎসায় আরোগ্য হচ্ছে না। তখন হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) একটি কালো টুপি সেলাই করে তা পরিধান করার জন্য তার নিকট প্রেরণ করলেন। কায়ছার ওই টুপিখানা খুব ভক্তির সাথে মাথায় পরিধান করলেন। সাথে সাথে মাথা ব্যথা আরোগ্য হয়ে গেলো। আশ্চার্যের বিষয় যতক্ষণ পর্যন্ত ওই টুপিটি পরিধান করে থাকতো ততোক্ষণ পর্যন্ত মাথা ব্যথা থাকতো না। মাথা হতে টুপিটি খুলে রাখলেই মাথা ব্যথা শুরু হতো। এর রহস্য খোঁজ করে দেখা গেলো যে, ওই টুপির মধ্যে এক টুকরা কাগজ ছিলো। তাতে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' লেখা ছিলো। ওই বিসমিল্লাহর রবকতে তার মাথা ব্যথা ভালো থাকতো। কাজেই বুঝা গেলো ''বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'' বিভিন্ন রোগের মহৌষধ। 

মাজতীরে মোতাবেরা নামক কিতাবে আছে, বশর হাফী নামক এক ব্যক্তি তার যৌবনারম্ভে একদিন শরাব খানায় যাচ্ছিলো। এমন সময় পথিমধ্য এক টুকরো কাগজ দেখতে পেলো। তাতে ''বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'' লেখা ছিলো। তা দেখে সে চোখে মুখে লাগালো এবং পরিষ্কার করে চুম্বন করে পবিত্র স্থানে রেখে দিল। এরপর সে শরাবখাানায় যেয়ে শরাব পান করে বেহুশ হয়ে পড়ে রইল। এ দিকে হযরত শেখ হাসান বসরী (রহঃ) এর নিকট এলহাম হলো, শরাবখানায় বশরকে আমার রহমতের ছায়ায় ও বিয়ে লও। এ সুসংবাদ জানাবার জন্য আহকামুল হাকী মীন তথায় চলে গেলেন। শরাবখানায় তার আগমন দেখে শরাব বিক্রেতাগণ বলল, হে শেখ সাহেব! আপনি কেন এখানে এসেছেন? খারাপ লোকদের সাথে আপনার আবার কি সম্পর্ক? শেখ সাহেব উত্তর করলেন, আমার কোনো প্রয়োজনে আসিনি। বশরকে এখান থেকে নেয়ার জন্য আল্লাহ তা'য়ালা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বশর এখন কোথায়? লোকেরা বশরকে দেখিয়ে দিলো। শেখ হাসান বশরী (রহঃ) বশরের নিকট গিয়ে তাকে নেশাগ্রস্ত পেলেন। তখন তিনি বশরকে জাগ্রত করে নিয়ে আসলেন এবং উক্ত সুসংবাদ দিরেন। তখন গায়েব হতে আওয়াজ আসলো- 'হে বশর! তুমি আমার নামের সম্মান করেছো, আমি তোমাকে সমস্ত গুণাহ হতে পবিত্র করেছি ও নিজ খুশবু দ্বারা সুগন্ধযুক্ত করেছি। সুবাহানাল্লাহ। আল্লাহ তা'য়ালা ''বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম''-এর বরকতে একজন পাপীকে এক পলকে অলীদের দলভুক্ত করে নিলেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
2 টি উত্তর

321,581 টি প্রশ্ন

411,851 টি উত্তর

127,531 টি মন্তব্য

177,252 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...