user-avatar

সাবাহ আজমান নাহিয়ান

◯ সাবাহআজমাননাহিয়ান

মানবী বন্দ্যপাধ্যায়

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 20, 08:06 PM

 ‘রূপান্তরিত’ মানুষ হিসেবে প্রথম বার কোনও কলেজের প্রধান হয়ে যিনি আপাতত খবরে। আর সে-খবর পেয়ে ও ভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন তাঁর কলেজের কাছেই অন্য কলেজের এক বিভাগীয় প্রধান।

কৃষ্ণনগর উইমেন্স কলেজের মানবীর অধ্যক্ষা হয়ে ওঠাটা কার্যত নজিরবিহীন। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়েই ওই পদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

কী সেই রায়?

গত বছরের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, বৃহন্নলা ও রূপান্তরকামীরা ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবেই আবেদন জানাতে পারবেন।

এ প্রতিবেদন তৈরির সময় মানবী ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া কলেজের বাংলার শিক্ষক। নতুন কলেজে চলে যাবেন কিছু দিনের মধ্যেই। বলছিলেন, ‘‘নৈহাটিতে বাবা থাকেন। বাবাকে দেখাশোনা করার জন্যই কৃষ্ণনগরের চাকরিটা নিলাম। না হলে অধ্যক্ষ হওয়ার তেমন কোনও ইচ্ছে আমার ছিল না। তবে এখন একজন ভাল অধ্যক্ষ হয়ে ওঠাটাই আমার পেশাজীবনের প্রথম পছন্দ।’’

নতুন দায়িত্ব। আজ আর শুধু শিক্ষক নয়, একেবারে প্রধান। কেমন লাগছে, জানতে চাইলে বললেন, ‘‘নতুন কলেজ থেকে ফোন এসেছিল। ওঁরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কী ভাবে আমি এগোবো, তা নিয়েও কথা চলছে। ভালই তো লাগছে।’’ তবে সাফল্যের আরও একটি শৃঙ্গ পেরিয়ে মাঝে মাঝেই ফিরে যাচ্ছেন কঠিন থেকে কঠিনতর সময়গুলোয়।

২০০৩ সাল। সদ্য সোমনাথ থেকে মানবী হয়েছেন তখন। কত কথা কানে আসত। রাগে, অপমানে গা গুলিয়ে উঠত। এক জন যেমন বলেছিল, ‘‘তুই তো ভেল্কি দেখালি রে! ব্যাটাছানা থেকে বিটিছানা হইয়ে গেলি। এই সে দিন পর্যন্ত ককর ক করে মোরগ ডাকছিল, হঠাৎ দেখি সে-ই মুরগির মতো কক্‌কক্ করছে!’’

এমন কথা আজও শোনেন। কিন্তু ফারাক এই যে, আজ আর তেমন গায়ে মাখেন না।— ‘‘বাড়ির লোকজন প্রথম দিকে ভাবত, এত সব শরীরে কি সইবে? মরেই যাব বোধ হয়। আমার দুই দিদি যেমন। আমায় নিয়ে এত চিন্তায় থাকত, কেবল শুকনো মুখে ঘুরত। এখন ওরাও অনেক স্বাভাবিক।’’ 

বিরানব্বই বছরের অসুস্থ বাবা আর তাঁরই মতো অনেক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ নিয়ে মানবীর এখনকার জীবন। তাঁর সংসার। আর আছে ‘একমাত্র ছেলে’ বছর চব্বিশের যুবক দেবাশিস। সদ্য এমএ পাস করেছেন। ঝাড়গ্রামে মানবীর  কলেজ-পাড়ার কাছেই অন্য একটি কলেজে পড়াশোনা করতেন। মেদিনীপুরের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। চার বছর আগে এক সেমিনারে মানবীর আলাপ তাঁর সঙ্গে। কথায় কথায় হঠাৎই তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘‘আমাকে মা বলে ডাকতে পারবি?’’ সেই থেকে মানবী দেবাশিসের মা। আর দেবাশিস? পদবি পাল্টে  হয়ে গিয়েছেন দেবাশিস মানবীপুত্র।

ছাত্রছাত্রীদের অসম্ভব ভালবাসেন। তাদের কাছেও মানবী সমান জনপ্রিয়। যত ঝক্কি এদের বাইরের গণ্ডিটা নিয়ে। অতর্কিত প্রশ্ন, অহেতুক কৌতূহল মাঝে মাঝেই ছিঁড়ে খেতে আসে তাঁকে। সেই গোড়া থেকেই।

১৯৯৫ সাল। তখনও মানবী হননি। পোশাকি নাম সোমনাথ।  ঝাড়গ্রামের কলেজে বাংলা মাস্টারমশাই হিসেবে যোগ দিলেন। তারিখটাও খেয়াল করার মতো। ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

চুড়িদার-কুর্তা পরা, চোখে কাজল টানা, লম্বা চুলের মাস্টারমশাইকে দেখে একটু আলাদা মনে হলেও গ্রামের পড়ুয়ার দলও কখনও তাঁকে দেখে ভুঁরু কোঁচকায়নি। কিন্তু সহকর্মীদের বাঁকা কথার ঠেলায় অতিষ্ঠ লাগত। মানবীর গোপনাঙ্গ নিয়ে প্রকাশ্যে ঠাট্টা করতে যেমন তাঁদের বাধত না, আপত্তিকর প্রস্তাব দিতেও তাই।

এ সবেরই মধ্যে তিনি মানবী হলেন। বিয়েও করলেন স্থানীয় এক যুবককে। যার পূর্বশর্ত ছিল, নতুন বউকে দিনে আড়াইশোটি রুটি বেলতে হবে। কিন্তু সে সব উপেক্ষা করেই বিয়েটা করেছিলেন। পরিণতি সুখের হয়নি। যার জেরে মামলা গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট অবধি।

মানবীর কথায়, ‘‘সে অনেক দিনের কথা। এখন ছেলে আমার এত খেয়াল রাখে যে মনে হয়, স্বামীর থেকে সন্তান অনেক বেশি জরুরি। তবে মজার কথা হল, প্রাক্তন প্রেমিকদের কেউ কেউ এখনও যোগাযোগ রাখে। এমনকী, স্বামী যদি শেষ জীবনে আমার কাছে চলে আসেন, তা নিয়ে আশঙ্কাতেও ভোগে তাঁদের একজনের স্ত্রী। আমি অবশ্য কথা দিয়েছি, সে এলেও ফিরিয়ে দেব।’’

চার বছর বয়সে তুতোদাদার যৌনলালসার শিকার, কিশোর ‘বনমালী’র নিজেকে ‘রাধা’ বলে চিনতে পারা এবং প্রকাশ্যে তা স্বীকার করা, একের পর এক প্রেম, সেগুলি ভেঙে যাওয়া, যাদবপুর থেকে স্নাতকোত্তর এবং এম ফিল, পরে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা, স্কুল-কলেজে শিক্ষকতার চাকরি, রূপান্তরিত হয়ে নারী হিসেবে নবজন্ম, বিয়ে, আর সবশেষে মেয়েদের কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হওয়া।— এতটা পথ পেরিয়ে এসে আজ মানবী আগের চেয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী, উদ্যমীও।

কলেজের পাশাপাশি রয়েছে তাঁর তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে কাজকর্ম। যাঁদের অনেকেই দিনের বেলা ওঁর বাড়িতে এসে মনের সুখে মেয়ে সেজে থাকেন। রাতে বাড়ি ফেরেন ছেলেদের পোশাক পরে। এঁদের সঙ্গে ‘ওঁদের ভাষাতে’ কথা বলেন মানবী। যে ভাষার অভিধানে মেয়েকে বলে ‘লাহেরন’, ছেলেকে বলে ‘টোন্যা’! কিন্তু ওই ভাষাটুকুরই যা ফারাক, মানবী বলেন, জীবনের চাওয়াপাওয়া, টানাপড়েনে এ পৃথিবীর রসায়ন বাকি ভূখণ্ডের থেকে কতটুকুই বা আলাদা! তাঁর আক্ষেপ, দুনিয়ার ক’জনই বা বোঝে সে কথা! 

উঠে আসার সময় আচম্বিতে বলে ওঠেন, ‘‘ভাল চাকরি করি, মোটা মাইনে পাই। লিপস্টিকটারই কত্ত দাম! এখন আর এ সব নিয়ে মাথা ঘামিয়ে কী হবে?’’  তাঁর গাঢ় লাল ঠোঁটের ফাঁকে বিদ্যুৎ খেলে যায়। তার আড়ালে কতটা ক্ষোভ, কতটা হতাশা, কতটাই বা উপেক্ষার আর তাচ্ছিল্যের— বোঝা যায় না!

লিংক

পীর সম্পর্কে প্রশ্ন?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 19, 07:04 PM

এক–পৃথিবীর সূচনাকাল থেকেই আল্লাহ্‌পাক হেদায়েতের দুটি ধারা অব্যাহত রেখেছেন। একটি ধারার নাম হলো, কিতাবুল্লাহ। আর অপর ধারার নাম হলো, রিজালুল্লাহ। রিজালুল্লাহ অর্থ এমন ব্যক্তিত্ব, যারা তাফাক্কুহ ফিদ্দীন তথা দ্বীনি বিষয়ে পরাঙ্গম ও আমলি-নমুনা, রুসূখ ফিল ইলম তথা ইলমি-গভীরতায় লব্ধ এবং তাকওয়া ও আল্লাহভীতির গুণে গুণান্বিত হবেন। যারা নিজেদের কর্ম ও আচরণ এবং সূরত ও চরিত্রের মাধ্যমে ইসলামী আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করবেন আর অন্যের জন্য উসওয়ায়ে হাসানা তথা উত্তম আদর্শ হবেন। যাদের ইখলাস ও লিল্লাহিয়্যাত সকল সন্দেহ-সংশয়ের উর্দ্ধে থাকবে, যারা হবেন মুসলিম উম্মাহর ব্যথায় ব্যথিত এবং উম্মাহর কল্যাণে শরীয়তের বিধান মোতাবেক বিভিন্ন অঙ্গনে নিবেদিত। 


দুই–উপরিউক্ত রিজালুল্লাহরই একটি শ্রেণির নাম পীর। শব্দটি ফার্সি। আরবীতে বলা হয় মুরশিদ।মুরশিদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক। যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুরশিদ বা পথপ্রদর্শক।


আর মুরীদ শব্দটি আরবী। যার অর্থ হল ইচ্ছাপোষণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার ইচ্ছা পোষণ করে কোন পীরের হাত ধরে শপথ করে সে ব্যক্তির নাম হল মুরীদ।

এ ব্যাখ্যা থেকে একথা স্পষ্ট হল যে, পীর হবেন শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন করার প্রশিক্ষণদাতা। আর যিনি সে প্রশিক্ষণ নিতে চায় সে শিক্ষার্থীর নাম হল মুরীদ।


তিন– পীর মুরীদির এ পদ্ধতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে চলে আসছে। কোরআন ও হাদীসে মুরীদ হওয়ার বিষয়টি এসেছে بيعة ‘বায়আত’ নামে। বায়আত প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,


إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُاللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا


‘যারা আপনার কাছে ‘বায়আত’ তথা আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে ‘বায়আত’ তথা আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।’ (সূরা আল ফাতহ ১০)


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে ‘বায়আত’ করেছেন এবং আল্লাহমুখী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সুতরাং বলা যায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সবচেয়ে প্রথম ও বড় পীর, ও সাহাবায়ে কিরাম হলেন প্রথম মুরীদ।


চার– রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যে ‘বায়আত’ ছিল তা হলো বায়আতে-রাসূল। খিলাফাতের যুগে ছিল বায়আতে-খিলাফাহ। খিলাফাতের পর যে বায়আতের প্রচলন শুরু হয় তা হলো বায়আতে-তাকওয়াহ বা বায়আতে-তাওবা। উম্মতকে শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে এ ধরনের ‘বায়আত’ও করেছেন। এ মর্মে বহু হাদীস পাওয়া যায়। যেমন সহীহ বুখারীর এক হাদীসে এসেছে-


حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو إِدْرِيسَ، عَائِذُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ ـ رضى الله عنه ـ وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا، وَهُوَ أَحَدُ النُّقَبَاءِ لَيْلَةَ الْعَقَبَةِ ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ ‏ “‏ بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لاَ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلاَ تَسْرِقُوا، وَلاَ تَزْنُوا، وَلاَ تَقْتُلُوا أَوْلاَدَكُمْ، وَلاَ تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلاَ تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللَّهُ، فَهُوَ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ، وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ ‏”‏‏.‏ فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِكَ‏.‏


‘উবাদা ইবনুস সামিত রাযি‏.‏ বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পার্শ্বে একদল সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহ্‌র সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেবে না এবং নেক কাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে, তার বিনিময় আল্লাহ্‌র কাছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্‌ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ্ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহ্‌র ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মাফ করে দেবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি দেবেন। আমরা এর উপর বায়আত গ্রহণ করলাম।(সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৭)


পাঁচ– উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, পীর-মুরীদি তথা বায়আত করা শরীয়ততসম্মত কাজ। স্বনামধন্য মুহাদ্দিস আবদূল হক্ব মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ. তার ‘কওলুল জামিল’ কিতাবে লিখেন বায়আত গ্রহন করা সুন্নাত। তাসাউফ শিখতে হলে অবশ্যই কামেল মুহাক্কেক পীরের নিকট বায়আত গ্রহন করতেই হবে। যত্র তত্র বায়আত গ্রহন করা নিষিদ্ধ।

অথচ অজ্ঞ ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত কিছু লোক মানুষকে রিজালুল্লাহ থেকেই বিচ্ছিন্ন করতে চায়। এমনটি হলে দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা হয় প্রবল এবং মানুষের ধর্মীয় দিকটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

আর যে ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান মানে না, নামায পড়ে না, পর্দা করে না, সতর ঢেকে রাখে না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন বিধান পালন করে না, সে ব্যক্তি তো পীরই হতে পারে না। কারণ তার নিজের মাঝেই যখন শরীয়ত নেই, সে কিভাবে অন্যকে শরীয়তের উপর আমল করা প্রশিক্ষণ দিবে!

সুতরাং পীর ধরার ক্ষেত্রে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, রাজারবাগী, সুরেশ্বরী, ফরীদপুরী, এনায়েতপুরী, চন্দ্রপুরী, কামাল্লার ভন্ড পীর, মাইজভান্ডারী, কেল্লাবাবা, খাজাবাবা, রেজভী, এসব ভন্ড ও ঈমানবিধ্বংসী পীরের কাছে গেলে আখেরাত ধ্বংস হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।


জাযাকুমুল্লাহ।


মেধা কি কম বেশি হয় !!?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 19, 06:57 PM

মেধা? হাহ্!!! হাসিয়ে দিলেন একেবারে! মেধা বলে আসলে কিছুই নেই। সবকিছুই আসলে মানসিকতা, মনোযোগ, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়। মানুষ যখন এই চারটার সমন্বয় ঘটাতে পারে, তখন তার সাফল্য নিশ্চিত। কিন্তু আফসোসের বিষয় (এমনকি আমার কাছে এটা কৌতুকের বিষয়ও মনে হয়), অনেকে আবার এই চারটার সমন্বয়কে মেধা বলেও মনে করে!

মেধা কি মানুষের মেধা কমবেশি হয় কেনো?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 19, 06:56 PM

মেধা? হাহ্!!! হাসিয়ে দিলেন একেবারে! মেধা বলে আসলে কিছুই নেই। সবকিছুই আসলে মানসিকতা, মনোযোগ, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়। মানুষ যখন এই চারটার সমন্বয় ঘটাতে পারে, তখন তার সাফল্য নিশ্চিত। কিন্তু আফসোসের বিষয় (এমনকি আমার কাছে এটা কৌতুকের বিষয়ও মনে হয়), অনেকে আবার এই চারটার সমন্বয়কে মেধা বলেও মনে করে!

মেধা? হাহ্!!! হাসিয়ে দিলেন একেবারে! মেধা বলে আসলে কিছুই নেই। সবকিছুই আসলে মানসিকতা, মনোযোগ, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়। মানুষ যখন এই চারটার সমন্বয় ঘটাতে পারে, তখন তার সাফল্য নিশ্চিত। কিন্তু আফসোসের বিষয় (এমনকি আমার কাছে এটা কৌতুকের বিষয়ও মনে হয়), অনেকে আবার এই চারটার সমন্বয়কে মেধা বলেও মনে করে!

যাই হোক, আপনি পরিশ্রম করুন, মানসিকতা চেঞ্জ করে কাজের দিকে মন বসান, অধ্যবসায়ী হোন, কাজে মনোযোগ দিন। ইনশাআল্লাহ সফ়ল হবেন।

মেধা বলে কি আদৌ কিছু আছে?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 19, 06:53 PM

মেধা? হাহ্!!! হাসিয়ে দিলেন একেবারে! মেধা বলে আসলে কিছুই নেই। সবকিছুই আসলে মানসিকতা, মনোযোগ, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়। মানুষ যখন এই চারটার সমন্বয় ঘটাতে পারে, তখন তার সাফল্য নিশ্চিত। কিন্তু আফসোসের বিষয় (এমনকি আমার কাছে এটা কৌতুকের বিষয়ও মনে হয়), অনেকে আবার এই চারটার সমন্বয়কে মেধা বলেও মনে করে!

মেধা বলে কি আদৌ কিছু আছে?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 19, 06:52 PM

ইসলামি শরিয়তের উৎস কয়টি?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 19, 06:48 PM

চারটি:

১|কুরআন

২|সুন্নাহ*

৩|ইজমা

৪|কিয়াস

এদের মধ্যে প্রথম দুইটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাকি দুইটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে ছেড়ে দেয়ার মতোও নয়।


*সব সুন্নাহ-ই হাদিস, কিন্তু সব হাদিস সুন্নাহ নয়।

৭২ এর সংবিধানের ধুয়ো তুলে যারা সেকুলারিজমের পক্ষ নিচ্ছেন, এইসব ভন্ডরা ৩০ ডিসেম্বর বা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় কোথায় ছিলেন, যখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধর্ষিত হয়েছে? ৭২ এর সংবিধানে গণতন্ত্র কি মূলনীতি হিসেবে কি এইসব ভন্ডরা দেখেনি।

সংবিধানের চারটা মূলনীতির বাকিটা তিনটা নিয়ে এই বুদ্ধিচোরারা কখনো কথা বলে না। গণতন্ত্র তো নেই। সমাজতন্ত্র নিয়ে যদি বলেন, দেশে এখন ধনী-গরিবের যে বৈষম্য, সারা পৃথিবীতে তা খুঁজে পাওয়া ভার। জাতীয়বাদ কোথায় থাকে, যখন দাদাদের ইলিশ মাছ খাইয়ে, সব আবদার রক্ষা করে, আবার বলে আসতে হয় — যা দিলাম দাদা, সারাজীবন মনে রাখবেন?

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলার মানুষ সেকুরালিজমের জন্য পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, এ কথা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়। ধর্মপ্রাণ সেনা ও জনতা যখন প্রাণ বাজি রেখে স্বাধীনতার জন্যে লড়ছিল, তখন সেকুলাররা কলকাতার নাইট ক্লাবে মাস্তি করছিল। পড়ুন — অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা — মেজর জলিল।

আজকে দেশে ৯০ ভাগ মানুষ ইসলামকে জীবনবিধান হিসেবে স্বীকার করেছে। এর প্রতিফলন যদি সংবিধানে না থাকে, তাহলে এই সংবিধান ভুল। এই বেকার সেকুলারিজম সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেনি। কিন্তু ইসলামের মধ্যে সেই উপাদানগুলো আছে যা একটি শোষণ-বঞ্চনামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। ইসলামী রাষ্ট্র সকল সংখ্যালঘুর নিরাপত্তার জন্যে দায়বদ্ধ। যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে পরিচয় দেয়, কিন্তু রাষ্ট্রে ইসলামী শাসনব্যবস্থা চায় না — তারা মুনাফিক।


বৈরুতের সংসদ ভবনের কাছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে কর্মকর্তারা। বিক্ষোভকারীদের অনেকের মতে, মঙ্গলবার বৈরুতে হওয়া বিস্ফোরণের কারণ সরকারের অবহেলা। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন প্রায় ২,৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বন্দরের কাছে অনিরাপদভাবে মজুদ করে রাখা ছিল ২০১৩ সাল থেকে।

আর……………নিচের ছবিগুলো দেখুন:

ভয়াবহতা ছিল মারাত্মক।

মাত্রা ভয়ানক।

সাইপ্রাস থেকেও আওয়াজ শোনা গিয়েছিল।


ট্রাম্প এটিকে ভয়াবহ হামলা হিসেবে উল্লেখ করার পর সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, ‘বৈরুতের বিস্ফোরণ একটি হামলার ঘটনা ছিল; এ বিষয়ে আপনি আত্মবিশ্বাসী?’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা তাকে যা বলেছিলেন, তার ভিত্তিতে এটি ‘মনে হচ্ছে’। এটি হামলার ঘটনা ছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আমাদের কয়েকজন জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাত করেছি এবং তারা মনে করছেন যে এটি কোনও উৎপাদন সংক্রান্ত বিস্ফোরণ ধরনের ঘটনা নয়। তারা মনে করে এটি হামলার ঘটনা ছিল। এটি ছিল এক ধরনের বোমা বিস্ফোরণ। তারা আমার চেয়ে আরও ভাল জানে।’[2]

ছবিসূত্র: Respuesta de Anjali Srinivasan a ¿Qué tan poderosa fue la explosión de Beirut?


কুরআনে এরকম বিজ্ঞানময় ইঙ্গিত অনেক আছে, কিছু দিয়ে দিলাম। ১০০০ হাজার এর ও বেশী আয়াতে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পবিত্র কোরআনে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা যেগুলা জানতে পেরেছে ১৪০০ বছর আগেই কুরানে যা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই কুরআন ও বিজ্ঞানকে আলাদা করার কিছু নেই। কুরআন বিজ্ঞানময়, যদিও এটা ধর্মগ্রন্থ, মানবজাতির জন্য পথ প্রদর্শক স্বরুপ।

বোঝার সুবিধার্থে ২ঃ১১৭ এভাবে আয়াতগুলো দেয়া হয়েছে। মানে কুরআনের ২ নং সুরার ১১৭ নং আয়াত।

সৃষ্টিতত্ত্বঃ

আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টি করেছেন শূন্য থেকে– ২:১১৭।

পৃথিবী এবং মহাকাশ/বায়ুমণ্ডল একসময় একসাথে মিলিত ছিল এবং তা আলাদা করা হয়েছে বিশাল শক্তি দিয়ে– ২১:৩০।

পানি থেকে তৈরি হয়েছে সকল প্রাণ– ২১:৩০।

মহাবিশ্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে– ৫১:৪৭।

মহাবিশ্ব ছয়টি পর্যায়ে তৈরি হয়েছে এবং প্রাণ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি হয়েছে চারটি পর্যায়ে– ৫০:৩৮, ৪১:১০।

প্রতিটি প্রাণীর সৃষ্টি হয় নিয়ন্ত্রিত বিবর্তনের মাধ্যমে– ৭:৬৯, ১৫:২৮, ২৪:৪৫, ৩২:৭, ৭১:১৪।

মানুষের সৃষ্টির সূচনা হয়েছিল পানিসিক্ত অজৈব পদার্থ (কাঁদা) থেকে– ৩২:৭, ১৫:২৬।

পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে/বায়ুমণ্ডলে প্রাণ আছে– ৪২:২৯। গত বছর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেনমেঘে অত্যন্ত উঁচুতেও বিপুল পরিমাণে অতি ক্ষুদ্র কীটাণু আছে।

মহাকাশ বিজ্ঞান

সূর্য পূর্ব দিকের দুটি প্রান্তে উঠে এবং পশ্চিম দিকের দুটি প্রান্তে অস্ত যায়– ৫৫:১৭, ৭০:৪০, ৩৭:৫।

পৃথিবী নিজস্ব অক্ষে ঘুরছে– ২৭:৮৮, ২১:৩৩, ৩৬:৪০।

সূর্যের নিজস্ব অক্ষ রয়েছে, এটি গ্যালাক্সিকে কেন্দ্র করে ঘুরে– ৩৬:৪০, ২১:৩৩।

পৃথিবী সম্পূর্ণ গোল নয় বরং তা ডিমের মত উপরে নিচে চ্যাপ্টা– ৭৯:৩০, ৩৯:৫।

প্রথমে মহাকাশে সবকিছু ছিল ধোঁয়া, তারপর অভিকর্ষের প্রভাবে তা একত্র হয়ে পৃথিবীর মত গ্রহের জন্ম দিয়েছে– ৪১:১১।

পৃথিবীর সমস্ত পানি এসেছে মহাকাশ থেকে, পরিমিতভাবে– ২৩:১৮। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, ধুমকেতু এবং উল্কার মাধ্যমে আদি পৃথিবীতে পানি এসেছে।

চাঁদ এবং সূর্যের আকৃতি এবং দূরত্ব সুনিয়ন্ত্রিত– ৫৫:৫। সূর্য চাঁদ থেকে ৪০০ গুণ বড় এবং চাঁদ পৃথিবী থেকে যত দূরে, সূর্য তার ৪০০ গুণ বেশি দূরে। এ কারণেই পূর্ণ সূর্য গ্রহণ হয়। সূর্য যদি এর থেকে কাছে বা চাঁদ যদি এর থেকে দূরে হত, অথবা চাঁদ ছোট হত বা সূর্য যদি আরও বড় হত, তাহলে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হত না।

মহাকাশের সম্প্রসারণের গতি যদি আলোর গতি থেকে বেশি না হত, তাহলে কখনও রাত হত না কারণ রাতের আকাশের প্রতিটি বিন্দুতে কোন না কোন নক্ষত্র বা গ্যলাক্সি থেকে আলো পৃথিবীতে এসে পৌঁছাত এবং রাতের আকাশ থাকতো দিনের মত জ্বলজ্বলে– ৩:১৯০।

পদার্থ বিজ্ঞান

সময় আপেক্ষিক– ৩২:৫, ৭০:৪, ২২:৪৭।

প্রতিটি বস্তু তৈরি হয়েছে জোড়ায় জোড়ায়– ম্যাটার এবং এন্টিম্যাটার– ৫১:৪৯।

পৃথিবীতে যত লোহা আছে তার সব এসেছে পৃথিবীর বাইরে থেকে – ৫৭:২৫। একমাত্র সুপারনোভার বিস্ফোরণে মহাবিশ্বে লোহা সৃষ্টি হয়, যা উল্কার মাধ্যমে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়।

নক্ষত্র যেখানে ধ্বংস হয়– ব্ল্যাকহোল– ৫৬:৭৫।

পালসার– যা অতি তীব্র ছিদ্রকারি গামারশ্মি বিচ্ছুরণ করে এবং সেকেন্ডে বহুবার ‘নক’ করে– ৮৬:১-৩।

২০০৬ সালের পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আবিষ্কার– মহাবিশ্বের সবকিছু সব জায়গায় সমানভাবে ছড়িয়ে নেই বরং নির্দিষ্ট কিছু পথে মাকড়সার জালের বুননের মত ছড়িয়ে আছে– ৫১:৭।

আগুন জ্বালাবার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন তৈরি করে গাছের সবুজ পাতা– ৩৬:৮০।

বৃষ্টির পানির ফোঁটা মাটিতে পড়ে মাটির কণাগুলো আয়নিত করে ফেলে, যার কারণে কণাগুলো “ব্রাউনিয়ান গতি” কারনে স্পন্দন করা শুরু করে। তারপর আয়নিত কণাগুলোর ফাঁকে পানি এবং অন্যান্য জৈব পদার্থ আকৃষ্ট হয়ে জমা হয় এবং মাটির কণাগুলো ফুলে যায়– ২২:৫।

মেঘের পানিতে মৃত জমিকে জীবিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে– ৫০:৯, ২৫:৪৮-৪৯। সমুদ্রের পানির উপরে ০.১ মিলিমিটার মোটা স্তর থাকে যাতে বিপুল পরিমাণে জৈব বর্জ্য পদার্থ থাকে, যা মৃত শৈবাল এবং প্ল্যাঙ্কটন থেকে তৈরি হয়। এই বর্জ্য পদার্থগুলো ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, কপার, জিঙ্ক, কোবাল্ট, লেড শোষণ করে। এই স্তরটি পানি বাষ্প হবার সময় পানির পৃষ্ঠটানের কারণে পানির কণার সাথে চড়ে মেঘে চলে যায় এবং বৃষ্টির সাথে বিপুল পরিমাণে পড়ে মাটির পুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থগুলো সরবরাহ দেয়।

আবহাওয়া বিজ্ঞান

বাতাসের মাধ্যমে মেঘ ছড়ায় এবং মেঘের মাঝামাঝি মেঘের উপর মেঘ স্তরে স্তরে জমা হয়ে বৃষ্টির মেঘ তৈরি হয়– ২৪:৪৩, ৩০:৪৮।

মেঘ অত্যন্ত ভারী, একটি বৃষ্টির মেঘ ৩০০,০০০ টন পর্যন্ত ওজন হয়– ১৩:১২, ৭:৫৭।

আকাশে অনেক উচ্চতায় উঠার সময় অক্সিজেনের অভাবে শ্বাস কষ্ট হয় এবং বুক সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়– ৬:১২৫।

আকাশ পৃথিবীর জন্য একটি বর্ম সরূপ যা পৃথিবীকে মহাকাশের ক্ষতিকর মহাজাগতিক রশ্মি থেকে রক্ষা করে– ২১:৩২, ২:২২।

আকাশ প্রতিফলন করে– পানি বাষ্প হয়ে মহাকাশে হারিয়ে যাওয়া থেকে এবং পৃথিবীকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে– ৮৬:১১।

সমুদ্রের নিচে আলাদা ঢেউ রয়েছে, যা উপরের ঢেউ থেকে ভিন্ন– ২৪:৪০।

বৃষ্টির পরিমাণ সুনিয়ন্ত্রিত– ৪৩:১১। পৃথিবীতে প্রতি বছর যে পরিমাণ বৃষ্টি হয় তার পরিমাণ ৫১৩ ট্রিলিয়ন টন এবং ঠিক সম পরিমাণ পানি প্রতি বছর বাষ্প হয়ে মেঘ হয়ে যায়। এভাবে পৃথিবী এবং আকাশে পানির ভারসাম্য রক্ষা হয়।

ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক সাগরের মধ্যে লবনাক্ততার পার্থক্য আছে এবং তাদের মধ্যে একটি লবণাক্ততার বাঁধ রয়েছে যার কারনে আটলান্টিক সাগরের লবনাক্ত পানি ভূমধ্যসাগরের কম লবনাক্ত পানির সাথে মিশে যায় না এবং দুটি সাগরে দুই ধরনের উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বসবাস সম্ভব হয়– ৫৫:১৯-২০।

জীব বিজ্ঞান

বাতাস শস্যকে পরাগিত করে– ১৫:২২।

মৌমাছির একাধিক পাকস্থলী আছে, কর্মী মৌমাছিরা স্ত্রী, পুরুষ নয়, মধুর অনেক ঔষধি গুণ আছে– ১৬:৬৮-৬৯।

গবাদি পশুর খাবার হজম হবার পর তা রক্তের মাধ্যমে একটি বিশেষ গ্রন্থিতে গিয়ে দুধ তৈরি করে যা আমরা খেতে পারি– ১৬:৬৬।

স্ত্রী পিঁপড়া তার পেটের কাছে অবস্থিত একটি অঙ্গ দিয়ে শব্দ করে অন্য পিঁপড়াদের সাথে কথা বলতে পারে এবং নির্দেশ দেয়, সাম্প্রতিককালে যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে এটির প্রমাণ পেয়েছে মানুষ– ২৭:১৮।

উদ্ভিদের পুরুষ এবং স্ত্রী লিঙ্গ আছে– ১৩:৩।

গম শীষের ভেতরে রেখে দিলে তা সাধারণ তাপমাত্রায়ও কয়েক বছর পর্যন্ত ভালো থাকে এবং তা সংরক্ষণ করার জন্য কোন বিশেষ ব্যবস্থার দরকার হয় না– ১২:৪৭।

উঁচু ভূমিতে ফুল ও ফলের বাগান ভাল ফলন দেয় কারণ উঁচু জমিতে পানি জমে থাকতে পারেনা এবং পানির খোঁজে গাছের মূল অনেক গভীর পর্যন্ত যায়, যার কারণে মূল বেশি করে মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করতে পারে। তবে শস্য যেমন আলু, গম ইত্যাদি ফসলের জন্য উল্টোটা ভালো, কারণ তাদের জন্য ছোট মূল দরকার যা মাটির উপরের স্তর থেকে পুষ্টি নেয়– ২:২৬৫।

গাছে সবুজ ক্লোরোফিল রয়েছে– ৬:৯৯।

রাত হচ্ছে বিশ্রামের জন্য, আর দিন হচ্ছে কাজেরজন্য কারণ দিনের বেলা সূর্যের আলো আমাদের রক্ত চলাচল, রক্তে সুগার, কোষে অক্সিজেনের পরিমাণ, পেশিতে শক্তি, মানসিক ভারসাম্য, মেটাবোলিজম বৃদ্ধি করে– ২৮:৭৩। [সুত্র]

চিকিৎসা বিজ্ঞান

মানবশিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ হয় পুরুষের বীর্য থেকে– ৫৩:৪৫-৪৬, ৭৫:৩৭।

মায়ের গর্ভ শিশুর জন্য একটি সুরক্ষিত জায়গা। এটি বাইরের আলো এবং শব্দ, আঘাত, ঝাঁকি থেকে রক্ষা করে, শিশুর জন্য সঠিক তাপমাত্রা তৈরি করে, পানি, অক্সিজেনের সরবরাহ দেয়– ২০:২৩, ১২:১৪।

মায়ের গর্ভে সন্তান কিভাবে ধাপে ধাপে বড় হয় তার নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যা কু’রআনের আগে অন্য কোন চিকিৎসা শাস্ত্রের বইয়ে ছিলনা– ২৩:১৩-১৪। যেমন প্রথমে শিশু একটি চাবানো মাংসের টুকরার মত থাকে, যা ইউটেরাসের গায়ে ঝুলে থাকে, তারপর প্রথমে হাড় তৈরি হয় এবং তারপর হাড়ের উপর মাসল তৈরি হয়, তারপর তা একটি মানব শিশুর বৈশিষ্ট্য পাওয়া শুরু করে।

মানব শিশুর প্রথমে শুনতে পায়, তারপর দেখতে পায়– ৭৬:২। প্রথমে কান হয়, তারপর চোখ।

মানুষের দেহ মৃত্যুর বহু বছর পর পাথরের মত শক্ত ফসিল হয়ে যায় এবং লোহা (পাইরাইট) তৈরি হয়– ৪৯:৫১।

মানুষের আঙ্গুলের ছাপ প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন– ৭৫:৪।

মানুষকে প্রথম ভাষা ব্যবহার করা শেখানো হয়েছে এবং ভাষার জন্য অত্যাবশ্যকীয় স্বরনালী একমাত্র মানুষকেই দেওয়া হয়েছে – ৫৫:৩-৪।

ভূতত্ত্ব/ইতিহাস

ইরাম নামে একটি শহরের কথা বলা আছে যেখানে অনেকগুলো পাথরের লম্বা স্তম্ভ আছে, যা কিনা ১৯৯২ সালে চ্যালেঞ্জার মহাকাশ যানের রাডার ব্যবহার করে মাটির নিচ থেকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছে– ৮৯:৭।

মানব সভ্যতার উন্নতি ধারাবাহিকভাবে হয়নি, বরং আগে কিছু জাতি এসেছিল যারা আমাদের থেকেও উন্নত ছিল, যারা ধ্বংস হয়ে গেছে– ৪০:৮২, ৩০:৯, ২০:১২৮।

কুরআনে ফেরাউনের সময় মিশরে যে সমস্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ, মহামারীর কথা বলা আছে, তা কুরআন প্রকাশিত হবার হাজার বছর পরে আবিষ্কৃত একটি প্রাচীন হায়ারো গ্লিফিক লিপি ‘ইপুয়ার’-এ হুবহু একই রকম ঘটনাগুলোর বর্ণনা পাওয়া গেছে, যা এর আগে কখনও জানা ছিল না– ৭:১৩০, ৭:১৩৩, ২৬:৫৭-৫৯।

গাণিতিক তথ্য এবং মুজিজা

কুরআনে ‘একটি দিন’ (ইয়াওম) ঠিক ৩৬৫ বার আছে। এক বছর = ৩৬৫ দিন।

চাঁদ (কামার) আছে ২৭ বার। চাঁদ ২৭ দিনে একটি চক্র সম্পন্ন করে।

‘একটি মাস’ (শাহর) আছে ১২ বার। ১২ মাসে এক বছর।

‘ভূমি’ (আল-বের) ১২ বার এবং ‘সমুদ্র’ (আল-বাহর) ৩২ বার। ১২/৩২ = ০.৩৭৫। পৃথিবীতে ভূমির মোট আয়তন ১৩৫ মিলিয়ন বর্গ কিমি, সমুদ্র ৩৬০ মিলিয়ন বর্গ কিমি। ১৩৫/৩৬০ = ০.৩৭৫।

দুনিয়া ১১৫ বার এবং আখিরাত ঠিক ১১৫ বার আছে।

শয়তান এবং ফেরেশতা ঠিক ৮৮ বার করে আছে।

উন্নতি (নাফ) এবং দুর্নীতি (ফাসাদ) ঠিক ৫০ বার করে আছে।

বল (কুল) এবং ‘তারা বলে’ (কা-লু) ঠিক ৩৩২ বার করে আছে।

এরকম অনেকগুলো সমার্থক এবং বিপরীতার্থক শব্দ কুরআনে ঠিক একই সংখ্যক বার আছে। এতগুলো গাণিতিক সামঞ্জস্য বজায় রেখে সাড়ে ছয় হাজার বাক্যের একটি গ্রন্থ যিনি তৈরি করেন, তিনি নিঃসন্দেহে এক মহাবিজ্ঞানময় সত্তা, যিনি মানুষকে গণিতের প্রতি মনোযোগ দেবার জন্য যথেষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিঃদ্রঃ পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতেই রয়েছে এমনি বৈজ্ঞানিক তথ্য। মৌমাছি এবং পিঁপড়ার বেলায় আল্লাহ কুরআনে স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন। আবার যেমন আল্লাহ ‘সবকিছু’(’সবাইকে’ নয়) জোড়ায় তৈরি করেছেন, জীব নয়, জড় পদার্থকে (ম্যাটার– এন্টি ম্যাটার)।

কুরআনের বাংলা অনুবাদ গ্রন্থগুলোতে আমরা ঠিক এভাবে বিষয়গুলো পাই না।

মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ’কাঁদা’ থেকে যেখানে কাঁদা হচ্ছে পানি সিক্ত মাটি এবং আদি মাটি ছিল অজৈব পদার্থের মিশ্রণ। সুতরাং কাঁদা = পানিসিক্ত অজৈব পদার্থ। বাংলা অনুবাদকেরা এই খুঁটিনাটি ব্যপারগুলো লক্ষ্য করেননি। যে বিশেষ কিছু আরবি শব্দের যে অর্থগুলো তাদের কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে সেগুলোই সঠিক, তা তাদের সীমিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অনুসারে যতই অবাস্তব মনে হোক না কেন। তাই পাঠকদেরকে অনুরোধ করবো সাম্প্রতিক ইংরেজি অনুবাদগুলো পড়তে, যেগুলোতে উপরোক্ত আয়াতগুলোর সঠিক অনুবাদ করা হয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল– কুরআনের ভাষা কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রবন্ধের ভাষা নয়, এটি কোন বৈজ্ঞানিক রিসার্চ পেপার নয়। মানুষ যেভাবে দেখে, শুনে, অনুভব করে, আল্লাহ কুরআনে সেই পরিপ্রেক্ষিতে বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো প্রকাশ করেছেন। তাই যারা কুরআনের বর্ণনাগুলোকে বৈজ্ঞানিক ভাষার মাপকাঠিতে যাচাই করতে যাবেন, তারা ভুল করবেন।

আল্লাহ কুরআনে এমন সব শব্দ ব্যবহার করেছেন যেগুলো ১৪০০ বছর আগে বিজ্ঞান সম্পর্কে কোনই ধারণা নেই এমন মানুষরাও বুঝতে পারবে এবং একই সাথে বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানীরাও সেই শব্দগুলোকে ভুল বা অনুপযুক্ত বলে দাবি করতে পারবে না।

নিশ্চয়ই আকাশগুলো এবং পৃথিবীর সৃষ্টি এবং দিন-রাতের আবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। (৩:১৯০)

আরো কিছু আয়াত দিয়ে দিচ্ছি নীচে, দেখতে থাকুনঃ

দিন ও রাত্রির বিবর্তন সম্পর্কে:

"তুমি কী দেখোনা যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন।" (লুকমান: ২৯)

পৃথীবির আকৃতি সম্পর্কে:

"এবং আল্লাহ পৃথিবীকে ডিম্বাকৃতি করে তৈরি করেছেন" (আন-নাবিয়াত: ৩০)

বিশ্বের উতপত্তি ও বিগ ব্যাঙ সম্পর্কে: "কাফেররা কী দেখে না যে, আকালমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল (সৃষ্টির একটা অংশ হিসেবে) অতঃপর আমি উভয়কে | খুলে দিলাম।" (আম্বিয়া:৩০)।

"তারপর তিনি আকাশের দিকে মনযোগ দিলেন যা ছিল ধূমপুঞ্জ, তিনি তাকে এবং পৃথিবীকে বললেন, তোমরা আস ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় এলাম।" (হামীম মাজদাহ: ১১)

সূর্য ও চাঁদের আলোর পার্থক্য সম্পর্কে:

"কল্যানময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র।" (আল-ফুরকান: ৬১)।

"সূর্য আবর্তন করে তার নির্দিষ্ট অবস্থানে। এটা পরাক্রমশীশ সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিয়ন্ত্রনে।"

মহাবিশ্বের সম্প্রসারন সম্পর্কে:

"আমি নিজ হাত দ্বারা আকাশ নির্মান করেছি এবং আমিই এর সম্প্রসারনকারী" (যারিয়াত: ৪৭)

এখানে উল্লেখ করা দরকার, খ্যাতনামা বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার 'সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস' (A Brief History Of Time) নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, "মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে"।

পানি বাষ্পে পরিনত হওয়া সম্পর্কে: "আমি বৃষ্টিগৰ্ভ বায়ু পরিচালনা করি, অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষন করি, অতঃপর তোমাদেরকে তা পান করাই।" (হিজর: ২২)।

পানি, বৃষ্টি ও বায়ু সম্পর্কে:

"তুমি কি দেখনা যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তা হতে বৃষ্টিনারা নির্গত করেন।" (আন-নূর: ৪৩)।

এজাড়াও সুরা ত্বারিক ১১, রাদ ১৭, ফুরকান ৪৮,৪৯, ফাতির ৯, আরাফ ৫৭, ইয়াসীন ৩৪, জামিয়া ৫, কাফ ৯,১০,১১, ওয়াক্বিয়া ১৯ উল্লেখযোগ্য।

পাহাড় পর্বতের পেরেক সাদৃশতা সম্পর্কে:

"আমি কি ভূমিকে বিছানা করিনি, এবং পর্বতমালাকে পেরেক তৈরি করিনি" (নাবা: ৬-৭)

"আমি পৃথিবীতে ভারি বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে।" (আম্বিয়া: ৩১)।

সুমুদ্র, মিষ্টি ও লবনাক্ত পানি সম্পর্কে:

"তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন, উভয়ের মাঝখানে রয়েছে অন্তরাল, যা কখনো অতিক্রম করে না।" (আর। রাহমান: ১৯-২০)।

"তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র করেছেন, এটি মিষ্ট তৃজ্ঞা নিবারক ও এটি লোনা বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন | একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল।" (ফুরকান: ৫৩)।

সব কিছুর জোড়ায় জোড়াস সৃষ্টি সম্পর্কে:

"আমি প্রত্যেক জিনিসকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহন কর।" (অয-যারিয়াত: ৪৯)

"আর আকাশ থেকে তিনি পানি বর্ষন করেন, তা দিয়ে বিভিন্ন লতা-যুগল উতপন্ন করেন, যার একেকটি অন্যটি থেকে । সম্পূর্ণ আলাদা।" (ত্ব-হা: ৫৩)

পানি দ্বারা প্রাণী সৃষ্টি সম্পর্কে:

"আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।" (আন-নূর: ৪৫)

মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে

"পড় তোমার প্রভূর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।" (সূরা আলাক্ব: ১,২)।

সূর্যের ও পৃথীবির আবর্তন সম্পর্কে:

"তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।" (আম্বিয়া-৩৩)

"সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি আগে চলে না দিনের। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে প্রদক্ষিন করে।" (ইয়াসিন:৩৩)

"তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সূর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চাঁদকে স্নিগ্ধ আলো বিতরনকারীরুপে। | (ইউনুস-৫)

আমি এখানে বৈজ্ঞানিক সত্য স্বল্প সংখ্যক আয়াত উল্লেখ করলাম। আপনার নিশ্চই স্বীকার করবেন, আরাে ১৪০০ বছর আগে কোনো মানুষের পক্ষে এরকম বৈজ্ঞানিক ও বিশ্লেষনমূলক সত্য জানা সম্ভব নয়। তার মানে, আল-কুরাআন যে। আল্লাহর কালাম তাতে কোনো সন্দেহ নই।

যদি তারপরেও কেউ অবিশ্বাস করেন তাকে আমার কিছু বলার নেই। আল-কুরআনে আল্লাহ নিজেই উল্লেখ করেছেন, "তারা বধির, বোবা ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।" (বাকারাহ: ১৮)


রাশিয়ার মত বিশাল একটি শক্তিশালী দেশ আমেরিকাকে পিছনে ফেলতে পারে নি। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণটি হল রাশিয়ার দূর্বল অর্থনীতি।

প্রথমেই, [1] দূর্বল অর্থনীতি [2] সোভিয়েত পতন। . [3] ডলার পলিসি। [4] দূর্বল পররাষ্ট্রনীতি। [5] NATO [6] রাশিয়ার ব্রেইন ড্রেন(brain drain)

[1] রাশিয়া বহু বছর কমিউনিস্ট শাসন ব্যবস্থার উপর চলেছে যেখানে তাদের অর্থনীতি খুব একটা সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে নি। শেষে টাকার অভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নই ভেঙ্গে গেল। সোভিয়েত ইউনিউয়নের রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষাখাত ফ্রী থাকলেও তাদের দেশের একটি বড় অংশ কেবল সামরিকখাতে ব্যয় করছে। রাশিয়ার স্যাটেলাইট, বিভিন্ন দূর্দান্ত বৈজ্ঞানিক প্রজেক্ট সবই ছিল সোভিয়েত সামরিক বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । সামরিক বাহিনী সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এত টাকা ব্যয় করতো যে অন্যান্যখাতে বাধ্য হয়ে ব্যয় কমাতে হত। ফলে অর্থনীতিভাবে কখনই পুঁজিবাদী দেশ আমেরিকার মত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব হয় নি রাশিয়ার।

বর্তমান রাশিয়াতে কমিউনিজম না থাকলেও এখনও দেশের অনেক প্রজেক্ট সামরিক বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই কেবল নজর। একটি দেশ সার্বিক দিক উন্নয়ন না হলে সেদেশের অর্থনীতির নতুন খাত তৈরী হয় না।

[2] সোভিয়েত পতন :
আমেরিকা ও NATO এর মত শক্তিশালী জোটকে মোকাবেলা করার সামর্থ্য ছিল সোভিয়েত রাশিয়ার। কিন্তু ১৯৯১ সালে সোভিয়েতের পতন হয় দেশের অর্থনীতি দেউলিয়া হয়ে যাবার কারণে। সোভিয়েত রাশিয়ার পতন রাশিয়াকে বহু বছর পিছিয়ে নিয়ে গেছে। বহু ব্যয়বহুল সামরিক প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অর্থের অভাবে। নতুন জন্ম দেয়া রাশিয়াকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল নিজের দেশকে অর্থাভাব কাটিয়ে উঠার জন্য। আর রাশিয়া এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি আমেরিকার কাছেই বিক্রি করেছিল।

সোভিয়েতের সময়ে অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি প্রজেক্ট ↓↓↓

খুবই গুরুত্বপূর্ণ সোভিয়েত সামরিক প্রযুক্তি Yak-141 যা নতুন রাশিয়াকে অর্থ যোগাড়ের জন্য বিক্রি করতে হয়েছিল। যেই প্রযুক্তি কিনে বর্তমান আমেরিকা F-35 তৈরি করেছে ↓↓↓

[3] আমেরিকার মত ডলার পলিসি নেই রাশিয়ার :
আমেরিকা আজকের অবস্থা আসতে তাকে অনেক চতুর ও দূরদর্শী চিন্তা নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে। ১৯৭০ সালের দিকে আমেরিকা সৌদি বাদশাহের সাথে একটি চুক্তি করেন। 
যে চুক্তিতে ছিল যে সৌদি আরব তার পেট্রোল বিশ্বের ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করবে। অর্থাৎ যেকোন দেশ সৌদি থেকে তেল কিনলে তাকে ডলার দিয়ে কিনতে হবে। আর আমেরিকা সৌদির এই পদক্ষেপের বিনিময়ে তাকে সামরিক সুরক্ষা দিবে নিজের সামরিক ঘাটি সৌদিতে স্থাপন করে । সেই থেকে বিশ্বের বুকে ডলার currency এর রাজা হয়ে গেল। আমেরিকা বসে বসে ডলার ছাপায় আর অন্যদেশকে বিক্রি করে।
রাশিয়া এরকম কারো সাথে তাদের মুদ্রা চুক্তি করে নি ফলে রাশিয়া নিজের মুদ্রাকে শক্তিশালী করতে পারে নি। আর তার উপর আমেরিকা NATO ভুক্ত দেশগুলোর মাধ্যমে রাশিয়ার বিজনেসকে ইউরোপে ফেলতে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে রাশিয়া বিশাল পরিমাণে গোল্ডের মুজুদ রাখতে বাধ্য হয়।

সম্প্রতি রাশিয়া নিজের অস্ত্রের বিক্রির ক্ষেত্রে ডলারের লেনদেন বাদ দিয়েছে। কিন্তু তাতেও আমেরিকার ডলারের প্রভাব কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয় নি।
রাশিয়ার গোল্ড রিজার্ভের পরিমাণের গ্রাফ ↓↓↓

[4] দূর্বল পররাষ্ট্রনীতি :
রাশিয়া সামরিক দিক দিয়ে যতই শক্তিশালী হোক না কেন। রাশিয়া বিশ্বের উপর নিজের কর্তৃত্ব জাহির করতে পারে না। কারণ তাদের পররাষ্ট্রনীতি খুবই দূর্বল । রাশিয়ার বিশ্বপরিমন্ডলে একপ্রকার একলাচল নীতি নিয়ে চলতে বাধ্য। বিশ্বে রাশিয়ার দৃঢ় পক্ষপাতীতকারী দেশ নেই। যাদের প্রভাব খাটিয়ে রাশিয়া NATO, UN,G-8 এসব সংস্থাতে নিজের স্বার্থ একচেটিয়া খাটাতে পারে আমেরিকার মত।
তবে রাশিয়া আস্তে আস্তে নিজের একটা বলয় তৈরীর চেষ্টা করছে।
ইরান,চীন,সিরিয়া,ভেনিজুয়েলার মত দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার নিজে থেকে এগিয়ে আসা তাই প্রমাণ করে।

[5] NATO সংস্থা ভেঙ্গে না গিয়ে আরো দেশ যুক্ত হওয়া :
সোভিয়েত রাশিয়া বলুন অথবা বর্তমান রাশিয়া সব সময়ই NATO একটি বড় হুমকি। NATO সংস্থার বর্তমান একটি পলিসি হল যদি কোন NATO ভুক্তদেশ কোন দেশ কর্তৃক হামলার সম্মুখীন হয় তবে NATO জোটভুক্ত সকল দেশ একসাথে সেই আগ্রাসন প্রতিহত করবে। এখানে রাশিয়া NATO সাথে সর্বদাই বিভিন্ন সময় বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাধার সম্মুখীন হয়। সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হলেও NATO ভুক্তদেশ যেগুলো রাশিয়ার সাথে বর্ডার শেয়ার করে সেসব দেশেও রাশিয়া নিজের প্রভাব জমাতে পারে না। রাশিয়ার আমেরিকার মত বৈশ্বিক হস্তক্ষেপ করতে গেলে EU,NATO দ্বারা সবসময় বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
[অনেকে ইউক্রেনের থেকে ক্রিমিয়া দখলের কথা বলবে। তাদের বলতে চাই ইউক্রেন NATO ভুক্ত দেশ নয় ]

[6] রাশিয়ার ব্রেইন ড্রেইন (brain drain):

ব্রেইন ড্রেইন অর্থাৎ কোন দেশের মেধা বা প্রতিভাবান ব্যক্তি যদি কোন কারণে নিজ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যায় তবে সেটাকে ব্রেইন ড্রেইন(Brain drain) বলে।

রাশিয়ার অসংখ্য মেধাবী লোক রাশিয়াতে কাজ না পেয়ে বা ভাল অর্থ উপার্জনের আশায় বিদেশে(USA,UK, Moldova, Croatia,Lithuania,Germany, Israel) পাড়ি জমায়।
রাশিয়ার প্রায় ৫০% রাশিয়ান বিজ্ঞানী, ৫২% IT experts, ৪০% ডাক্তার,৪৯% ইঞ্জিনিয়ার বিভিন্ন কারণে রাশিয়া ছেড়ে অন্য কোথাও বেশী অর্থে কাজ করতে ইচ্ছুক থাকে। ২০১৭ দিকে প্রায় 
১ কোটির কাছাকাছি লোক রাশিয়া ছেড়ে অন্যদেশে বিভিন্ন কারণে চলে গিয়েছে।
একটি দেশ থেকে এই পরিমাণে মেধাবীরা চলে গেলে সেটা দেশের উপরও বাজে প্রভাব ফেলে।

তাহলে আপনি বলুন রাশিয়া কিভাবে আমেরিকাকে পেছনে ফেলবে। কেবল পারমানবিক বোমা আর সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হলেই তো আর বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোড়ল হওয়া যায় না। পাকিস্থানও পারমানবিক ও সামরিক দিক দিয়ে অনেক শক্তিশালী তাই বলে অন্যদিক দিয়ে তো পিছিয়ে যেমনটা রাশিয়া।

ধন্যবাদ


পীর সম্পর্কে প্রশ্ন?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 13, 07:44 PM

আসসালামুয়ালাইকুম। হুজুর,পীর এর মুরিদ হওয়া কি ইসলামে জায়েয? পীর যদি শুধু শিক্ষক হয়ে থাকে তাহলে তার কাছে বায়াত নিতে হয় কেন? পীরের মুরিদ হলে কি কোনো গুনাহ আছে? অনেক জনের কাছে শুনি যে, কোনো পীরের কাছে বায়াত নেওয়া ঠিক না। কোনো পীর ভাল কেমনে বুঝব? আমি আসলে এই বিষয় তা একদম বুঝতে পারি না। আমাকে একটু বুঝিয়ে দিলে অনেক উপকৃত হতাম।

হিরোশিমা নাগাসাকি

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 13, 05:30 PM

১৯৪৫ সালের ৬ই আগস্ট সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী জাপানের হিরোশিমা শহরের ওপর লিটল বয় নামের নিউক্লীয় বোমা ফেলে এবং এর তিন দিন পর নাগাসাকি শহরের ওপর ফ্যাট ম্যান নামের আরেকটি নিউক্লীয় বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

অনুমান করা হয় যে ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বোমা বিস্ফোরণের ফলে হিরোশিমাতে প্রায় ১৪০,০০০ লোক মারা যান। নাগাসাকিতে প্রায় ৭৪,০০০ লোক মারা যান এবং পরবর্তীতে এই দুই শহরে বোমার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরও ২১৪,০০০ জন। জাপানের আসাহি শিমবুন-এর করা হিসাব অনুযায়ী বোমার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগসমূহের ওপর হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য গণনায় ধরে হিরোশিমায় ২৩৭,০০০ এবং নাগাসাকিতে ১৩৫,০০০ লোকের মৃত্যু ঘটে। দুই শহরেই মৃত্যুবরণকারীদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ। জাপানের আত্মসমর্পণের পেছনে এই বোমাবর্ষণের ভূমিকা এবং এর প্রতিক্রিয়া ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অধিকাংশের ধারণা এই বোমাবর্ষণের ফলে যুদ্ধ অনেক মাস আগেই সমাপ্ত হয়, যার ফলে পূর্ব-পরিকল্পিত জাপান আক্রমণ (invasion) সংঘটিত হলে উভয় পক্ষের যে বিপুল প্রাণহানি হত, তা আর বাস্তবে ঘটেনি। অন্যদিকে জাপানের সাধারণ জনগণ মনে করে এই বোমাবর্ষণ অপ্রয়োজনীয় ছিল, কেননা জাপানের বেসামরিক নেতৃত্ব যুদ্ধ থামানোর জন্য গোপনে কাজ করে যাচ্ছিল।

হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমাবর্ষণ - উইকিপিডিয়া

পারমাণবিক বোমাবর্ষনের ধোঁয়া– হিরোশিমা (বামে) এবং নাগাসাকি (ডানে)


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যাদুটোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে: এক: যাদুকর কিভাবে যাদু করেছে সেটা আগে জানতে হবে। উদাহরণতঃ যদি জানা যায় যে, যাদুকর কিছু চুল নির্দিষ্ট কোন স্থানে অথবা চিরুনির মধ্যে অথবা অন্য কোন স্থানে রেখে দিয়েছে। যদি স্থানটি জানা যায় তাহলে সে জিনিসটি পুড়িয়ে ফেলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে যাতে যাদুর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়, যাদুকর যা করতে চেয়েছে সেটা বাতিল হয়ে যায়। দুই: যদি যাদুকরকে শনাক্ত করা যায় তাহলে তাকে বাধ্য করতে হবে যেন সে যে যাদু করেছে সেটা নষ্ট করে ফেলে। তাকে বলা হবে: তুমি যে তদবির করেছ সেটা নষ্ট কর নতুবা তোমার গর্দান যাবে। সে যাদুর তদবিরটি ধ্বংস করে ফেলার পর মুসলিম শাসক তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিবেন। কারণ বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, যাদুকরকে তওবার আহ্বান জানানো ছাড়া হত্যা করা হবে। যেমনটি করেছেন- উমর (রাঃ)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: “যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে তরবারির আঘাতে তার গর্দান ফেলে দেয়া।” যখন হাফসা (রাঃ) জানতে পারলেন যে, তাঁর এক বাঁদি যাদু করে তখন তাকে হত্যা করা হয়। তিন: যাদু নষ্ট করার ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁকের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে: এর পদ্ধতি হচ্ছে- যাদুতে আক্রান্ত রোগীর উপর অথবা কোন একটি পাত্রে আয়াতুল কুরসি অথবা সূরা আরাফ, সূরা ইউনুস, সূরা ত্বহা এর যাদু বিষয়ক আয়াতগুলো পড়বে। এগুলোর সাথে সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়বে এবং রোগীর জন্য দোয়া করবে। বিশেষতঃ যে দুআটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে:

“আল্লাহুম্মা, রাব্বান নাস! আযহিবিল বা’স। ওয়াশফি, আনতাশ শাফি। লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক। শিফাআন লা য়ুগাদিরু সাকামা।”

(অর্থ- হে আল্লাহ! হে মানুষের প্রতিপালক! আপনি কষ্ট দূর করে দিন ও আরোগ্য দান করুন। (যেহেতু) আপনিই রোগ আরোগ্যকারী। আপনার আরোগ্য দান হচ্ছে প্রকৃত আরোগ্য দান। আপনি এমনভাবে রোগ নিরাময় করে দিন যেন তা রোগকে নির্মূল করে দেয়।)

জিব্রাইল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন সেটাও পড়া যেতে পারে। সে দুআটি হচ্ছে- “বিসমিল্লাহি আরক্বিক মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুযিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরক্বিক।”

(অর্থ- আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।)

এই দোয়াটি তিনবার পড়ে ফুঁ দিবেন। সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিনবার পড়ে ফুঁ দিবেন। আমরা যে দোয়াগুলো উল্লেখ করলাম এ দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিতে হবে। এরপর যাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তি সে পানি পান করবে। আর অবশিষ্ট পানি দিয়ে প্রয়োজনমত একবার বা একাধিক বার গোসল করবে। তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় রোগী আরোগ্য লাভ করবে। আলেমগণ এ আমলগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান (রহঃ) ‘ফাতহুল মাজিদ শারহু কিতাবিত তাওহিদ’ গ্রন্থের ‘নাশরা অধ্যায়ে’ এ বিষয়গুলো ও আরো কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। চার: সাতটি কাঁচা বরই পাতা সংগ্রহ করে পাতাগুলো গুড়া করবে। এরপর গুড়াগুলো পানিতে মিশিয়ে সে পানিতে উল্লেখিত আয়াত ও দোয়াগুলো পড়ে ফুঁ দিবে। তারপর সে পানি পানি করবে; আর কিছু পানি দিয়ে গোসল করবে। যদি কোন পুরুষকে স্ত্রী-সহবাস থেকে অক্ষম করে রাখা হয় সেক্ষেত্রেও এ আমলটি উপকারী। সাতটি বরই পাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখবে। তারপর সে পানিতে উল্লেখিত আয়াত ও দোয়াগুলো পড়ে ফুঁ দিবে। এরপর সে পানি পান করবে ও কিছু পানি দিয়ে গোসল করবে।

যাদুগ্রস্ত রোগী ও স্ত্রী সহবাসে অক্ষম করে দেয়া ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য বরই পাতার পানিতে যে আয়াত ও দোয়াগুলো পড়তে হবে সেগুলো নিম্নরূপ:

১- সূরা ফাতিহা পড়া।

২- আয়াতুল কুরসি তথা সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত পড়া।

اَللّٰهُ لَآ اِلٰهَ اِلَّا ھُوَۚ اَلْـحَيُّ الْقَيُّوْمُ لَا تَاْخُذُهٗ سِـنَةٌ وَّلَا نَوْمٌۭ لَهٗ مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْاَرْضِۭ مَنْ ذَا الَّذِيْ يَشْفَعُ عِنْدَهٗٓ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ۭ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَھُمْ ۚ وَلَا يُحِيْطُوْنَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖٓ اِلَّا بِمَا شَاۗءَۚ وَسِعَ كُرْسِـيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا يَـــــُٔـــوْدُهٗ حِفْظُهُمَاۚ وَھُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ

(আয়াতটির অর্থ হচ্ছে-“আল্লাহ্; তিনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা কিছু রয়েছে ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে সে সবকিছু তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। তিনি সুউচ্চ সুমহান।)

৩- সূরা আরাফের যাদু বিষয়ক আয়াতগুলো পড়া। সে আয়াতগুলো হচ্ছে-

قَالَ إِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِآيَةٍ فَأْتِ بِهَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ (106) فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ (107) وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ (108) قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ (109) يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ (110) قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ (111) يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ (112) وَجَاءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوا إِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ (113) قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ (114) قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ (115) قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ (116) وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ (117) فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (118) فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ (119) وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ (120)قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ (121) رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ (122)

(অর্থ- সে বলল, তুমি যদি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা পেশ কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক। তখন তিনি নিজের লাঠিখানা নিক্ষেপ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল। আর বের করলেন নিজের হাত এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল। ফেরাউনের সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলতে লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ-যাদুকর। সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এ ব্যাপারে তোমাদের মতামত কি? তারা বলল, আপনি তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দান করুন এবং শহরে বন্দরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দিন। যাতে তারা পরাকাষ্ঠাসম্পন্ন বিজ্ঞ যাদুকরদের এনে সমবেত করে। বস্তুতঃ যাদুকররা এসে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হল। তারা বলল, আমাদের জন্যে কি কোন পারিশ্রমিক নির্ধারিত আছে, যদি আমরা জয়লাভ করি? সে বলল, হ্যাঁ এবং অবশ্যই তোমরা আমার নিকটবর্তী লোক হয়ে যাবে। তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ করছি। তিনি বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ কর। যখন তারা বান নিক্ষেপ করল তখন লোকদের চোখগুলো যাদুগ্রস্ত হয়ে গেল, মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং মহাযাদু প্রদর্শন করল। তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা যাদুর বলে বানিয়েছিল। এভাবে সত্য প্রকাশ হয়ে গেল এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল। সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল। এবং যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। বলল, আমরা ঈমান আনছি মহা বিশ্বের প্রতিপালকের প্রতি। যিনি মূসা ও হারুনের প্রতিপালক।)[সূরা আরাফ, আয়াত: ১০৬-১২২]

৪- সূরা ইউনুসের যাদুবিষয়ক আয়াতগুলো পড়া। সেগুলো হচ্ছে-

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُونِي بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ (79) فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُوسَى أَلْقُوا مَا أَنْتُمْ مُلْقُونَ (80) فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ (81) وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ

(অর্থ- আর ফেরাউন বলল, আমার কাছে নিয়ে এস সুদক্ষ যাদুকরদিগকে। তারপর যখন যাদুকররা এল, মূসা তাদেরকে বললেন:নিক্ষেপ কর, তোমরা যা কিছু নিক্ষেপ করে থাক। অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বললেন, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই যাদু-এবার আল্লাহ এসব ভণ্ডুল করে দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দুস্কর্মীদের কর্মকে সুষ্ঠুতা দান করেন না। আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন স্বীয় নির্দেশে যদিও পাপীদের তা মনঃপুত নয়।)[সূরা ইউনুস, আয়াত: ৭৯-৮২]

৫- সূরা ত্বহা এর আয়াতগুলো পড়া। সেগুলো হচ্ছে-

قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَى (65) قَالَ بَلْ أَلْقُوا فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى (66) فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى (67) قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى (68) وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى (69)

(অর্থ-তারাবললঃহেমূসা, হয়তুমিনিক্ষেপকর, নাহয়আমরাপ্রথমেনিক্ষেপকরি। মূসাবললেনঃবরংতোমরাইনিক্ষেপকর।তাদেরযাদুরপ্রভাবেহঠাৎতাঁরমনেহল, যেনতাদেররশিগুলোওলাঠিগুলোছুটাছুটিকরছে। অতঃপরমূসামনেমনেকিছুটাভীতিঅনুভবকরলেন। আমিবললামঃভয়করোনা, তুমিবিজয়ীহবে। তোমারডানহাতেযাআছেতুমিতানিক্ষেপকর।এটাতারাকরেছেযাকিছুসেগুলোকেগ্রাসকরেফেলবে।তারাযাকরেছেতাতোকেবলযাদুকরেরকলাকৌশল।যাদুকরযেখানেইথাকুক, সফলহবেনা।)[সূরা ত্বহা, আয়াত: ৬৫-৬৯]

৬- সূরা কাফিরুন পড়া।

৭- সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস ৩ বার করে পড়া।

৮- কিছু দোয়া দরুদ পড়া। যেমন-

“আল্লাহুম্মা, রাব্বান নাস! আযহিবিল বা’স। ওয়াশফি, আনতাশ শাফি। লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক। শিফাআন লা য়ুগাদিরু সাকামা।” [৩ বার]

এর সাথে যদি এ দোয়াটিও পড়াও ভাল “বিসমিল্লাহি আরক্বিক মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুযিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরক্বিক।”[৩ বার] পূর্বোক্ত আয়াত ও দোয়াগুলো যদি সরাসরি যাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তির উপরে পড়ে তার মাথা ও বুকে ফুঁক দেয় তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় নিরাময় হবে।

রেফারেন্স

সর্বেশ্বরবাদী মুসলমানরা যে আয়াত দেখিয়ে আল্লাহর সবজায়গায় উপস্থিত থাকার প্রমাণ দেয় তা হলো–

১-

ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
অতঃপর তিনি আরশের উপর ক্ষমতাশীল হোন। {সূরা হাদীদ-৩}

২-

قوله تعالى {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ}

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। {সূরা বাকারা-১৮৬}

৩-

قوله تعالى {وَنَحنُ أَقرَبُ إِلَيهِ مِن حَبلِ الوَرِيدِ} [ق 16]

আর আমি বান্দার গলদেশের শিরার চেয়েও বেশি নিকটবর্তী। {সূরা কাফ-১৬}

৪-

فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ (85)

অতঃপর এমন কেন হয়না যে, যখন প্রাণ উষ্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক। এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি। কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা {সূরা ওয়াকিয়া-৮৩,৮৪,৮৫}

৫-

{ وَللَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ } [البقرة-115]

পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও,সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত {সূরা বাকারা-১১৫}

৬-

قوله تعالى { وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَمَا كُنتُمْ } [ الحديد – 4 ] তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন {সূরা হাদীদ-৪}

৭-

وقال تعالى عن نبيه : ( إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا (التوبة من الآية40

যখন তিনি তার সাথীকে বললেন-ভয় পেয়োনা, নিশ্চয় আমাদের সাথে আল্লাহ আছেন {সূরা হাদীদ-৪০}

৮-

قوله تعالى مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلاثَةٍ إِلاَّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلاَّ هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلاَّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ( المجادلة – 7

কখনো তিন জনের মাঝে এমন কোন কথা হয়না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন, এবং কখনও পাঁচ জনের মধ্যে এমন কোনও গোপন কথা হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন। এমনিভাবে তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক, আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে অবহিত করবেন তারা যা কিছু করত। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন {সূরা মুজাদালা-৭}

৯-

وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ

আল্লাহ তায়ালার কুরসী আসমান জমিন ব্যাপৃত {সূরা বাকারা-২৫৫}

—————————————————————

আমি বলতে চাই যারা এরকম বিশ্বাস করে ফেলেছে তারা ভ্রান্ত বিশ্বাস গ্রহণ করেছে। আরো বুদ্ধি খাঁটিয়ে চিন্তা করলে বুঝা যাবে যে আল্লাহর ক্ষমতা-গুণ-প্রজ্ঞা সব জায়গায় বিদ্যমান। এই আয়াত ও হাদিসগুলো দেখুন:

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আসমান সমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা আরাফ, আয়াত ৫৪]

.

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমুন্নত হন। [সূরা ইউনুস, আয়াত ৩]

.

আল্লাহ যিনি আসমান সমূহ উপরে স্থাপন করেছেন খুঁটি ছাড়া, তোমরা তা দেখছো। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা রাদ, আয়াত ২]

.

উল্লেখিত আয়াতগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তায়ালা আরশে সমুন্নত আছেন। কিভাবে সমুন্নত আছেন, এ কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ “কাইফিয়াত বা (সমুন্নত হওয়ার) পদ্ধতি অজ্ঞাত আর ইসতাওয়া বা সমুন্নত হওয়াটা জ্ঞাত। এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত”। [ইমাম বাইহাক্বীর আল আসমা ওয়াস সিফাত, পৃষ্ঠা ৪০৮ ।। তামহীদ ৭/১৫১]

.

আল্লাহ তায়ালা আসমানের উপর আছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, যিনি আকাশের উপর রয়েছেন তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধসিয়ে দিবেন না? আর তখন ওটা আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, আকাশের উপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী ঝঞ্ঝা বায়ু প্রেরণ করবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কিরূপ ছিল আমার সতর্কবাণী”। [সূরা মুলক, আয়াত ১৬-১৭]

.

মু’আবিয়া বিন আল হাকাম আস সুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার এক দাসী ছিল। সে উহুদ ও জাওওয়ানিয়্যাহ এলাকায় আমার বকরীপাল চড়াতো। একদিন আমি হঠাৎ সেখানে গিয়ে দেখলাম তার বকরীপাল থেকে বাঘে একটি বকরী নিয়ে গিয়েছে। আমি তো অন্যান্য আদম সন্তানের মত একজন মানুষ। তাদের মত আমিও ক্ষোভ ও চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আসলাম (এবং সব কথা বললাম) কেননা বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল, আমি কি তাকে মুক্ত করে দিবো? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। সুতরাং আমি তাকে এনে রসূলুল্লাহর কাছে হাজির করলাম। তিনি তাকে (দাসীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে বললঃ আকাশে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও, সে একজন মুমিনাহ নারী। [সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদঃ মসজিদ ও সালাতের স্থান সমূহ, হাদিস নং ১০৮৬]

.

আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ যয়নব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অন্যান্য স্ত্রীগণের উপর গর্ব করে বলতেন যে, তাঁদের বিয়ে তাঁদের পরিবার দিয়েছে আর আমার বিয়ে আল্লাহ সপ্তম আসমানের উপর থেকে সম্পাদন করেছেন। [সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ তাওহীদ, হাদিস নং ৭৪২০]

.

আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যমীনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করা, আকাশে যিনি আছেন (আল্লাহ) তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। [তিরমিযী, হাদিস নং ১৮৪৭ ।। আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২০৯]

.

ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি বলবে আল্লাহ আসমানে আছেন নাকি যমীনে আছেন আমি তা জানি না, সে কুফরী করবে। অনুরূপভাবে যে বলবে আল্লাহ আরশে আছেন কিন্তু তাঁর আরশ আসমানে নাকি যমীনে আমি তা জানি না, সেও কুফরী করবে। [আল ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৪৬ ।। মাজমুউ ফাতওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ৫/৪৮ পৃষ্ঠা]

.

ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ আরো বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা উপর থেকে বান্দার আহ্বানে সাড়া দেন, নিচ থেকে নয়। কেননা নিচ রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাতের কোন গুণের মধ্যে পড়ে না। [আল ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৫১]

.

ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ আল্লাহ হচ্ছেন আসমানে আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় বিরাজমান। [মাসায়িলি ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা ২৬৩ ।। ইবনু আব্দিল বার বর্ণনা করেছেন আত তামহিদ, ৭/১৩৮]

.

ইমাম শাফেঈ বলেছেনঃ ঐ সুন্নাহ বা রীতির ব্যাপারে কথা হলো যে সুন্নাহ বা রীতির উপর আমি আছি এবং আমার সাথীদেরকে দেখেছি তার উপর। আর আহলে হাদিসদেরকে দেখেছি যাদের কাছ থেকে আমি ইলম গ্রহণ করেছি যেমন সুফইয়ান, মালিক এবং অন্যান্যরা তারা ঐ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর তা হল এ স্বীকৃতি দেয়াঃ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। এবং আল্লাহ তায়ালা আসমানে আরশের উপর রয়েছেন। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তার সৃষ্ট জীবের নিকটবর্তী হন এবং আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই দুনিয়ার আসমানে নামেন। [ইজতিমাউল জুউশিল ইসলামী, পৃষ্ঠা ১৬৫ ।। ইসবাতুল উলু, পৃষ্ঠা ১২৪]

.

ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা যেভাবে তিনি চান সেভাবেই তিনি আরশে রয়েছেন। আমরা এর প্রতি বিশ্বাস আনবো এর কোন সীমা বা সিফাত বর্ণনা করা ব্যতীত। কেননা আরশে সমাসীন হওয়া আল্লাহর একটি সিফাত। আর আল্লাহর সিফাত ঐ ভাবেই বর্ণনা করতে হবে যেভাবে তিনি নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন। যেখানে কোন চোখের পৌছা সম্ভব নয়। [আদ দূরউ তায়ারুযিল আকলি ওয়ান নাকলি, ২/৩১]

আশা করি বুঝেছেন।

একেশ্বরবাদ, বহুদেববাদ, সর্বেশ্বরময়বাদ, অদ্বৈতবাদ, নাস্তিক্যবাদ – সকল প্রকার বিশ্বাসের সমাহার দেখা যায় হিন্দুধর্মে। তাই হিন্দুধর্মে ঈশ্বরধারণাটি অত্যন্ত জটিল। এই ধারণা মূলত নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহ্য অথবা দর্শনের উপর নির্ভরশীল। কখনও কখনও হিন্দুধর্মকে হেনোথেইস্টিক ধর্ম (অর্থাৎ, বহু দেবতা অস্তিত্ব স্বীকার করার পাশাপাশি এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী ধর্মব্যবস্থা) বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এধরনের বর্গীকরণ অতিসরলীকরণের নামান্তর।(১)


ঈশ্বর হিন্দুধর্মের এমন একটি বিষয়, যার সময়কাল ও শাখাভেদে বহু অর্থ প্রচলিত রয়েছে। হিন্দু ধর্মের গ্রন্থানুসারে, এই ঈশ্বর নানান রূপের হতে পারে। প্রাচীন শাস্ত্রে, বিষয়ভেদে ঈশ্বর শব্দের অর্থ পরমাত্মা, শাসক, প্রভু, রাজা, রাণী বা স্বামী।মধ্যযুগে হিন্দুশাস্ত্রগুলোর শাখাভেদে ঈশ্বর শব্দের অর্থ ভগবান, পরমেশ্বর, ইষ্টদেবতা বা বিশেষ আত্মা, যা কালক্রমে ব্যক্তি ঈশ্বরের রূপ নেয়। শৈবধর্মে ঈশ্বর হচ্ছেন মহাদেব, যিনি তার ভক্তদের কাছে কখনো মহেশ্বর বা কখনো পরমেশ্বর বলে পূজনীয়। বৈষ্ণবধর্মে ঈশ্বর বিষ্ণুর সাথে সমার্থক। আবার ভক্তিবাদে ঈশ্বর হিন্দুধর্মের বহু দেব-দেবীর মধ্যে ভক্তের দ্বারা নির্বাচিত, যিনি এক বা একাধিক হতে পারে। আর্য সমাজ বা ব্রাহ্ম সমাজের মতো আধুনিক ধর্মশাখাগুলির ক্ষেত্রে ঈশ্বর নিরাকার অদ্বিতীয়, পরমপিতা। যোগশাখায় ঈশ্বর ইষ্টদেবতা বা আদর্শস্থানীয়, প্রকারান্তরে গুরু হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। সনাতন ধর্মের যোগ দর্শনে ঈশ্বরকে ব্যক্তি ঈশ্বর বা আধ্যাত্মিক ভাবে তাকে ডাকা হয়, তার সাধনা করা হয়। অদ্বৈত বেদান্তে ঈশ্বর এক অদ্বৈতবাদী সত্তা, যিনি জড়ের সাথে জীবের সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম।(২)

ওমেগা বিন্দু কী?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 12, 08:18 PM

ওমেগা বিন্দু (Omega point) হচ্ছে সেই পরমবিন্দু যার দিকে এ মহাবিশ্ব তার সকল ধরনের ভৌত জটিলতা ও সচেতনতার ক্রমোন্নত এক উচ্চতর স্তরমুখী পথে ধাবমান । এটি জ্ঞানের চূড়ান্ত পর্যায়কে বোঝায় । মানবজাতির সর্বশেষ অবস্থা তথা পূর্ণ জ্ঞানের স্তরকেই এটি নির্দেশ করে ।

পরমবিন্দুর ইতিহাস

ফরাসি জেসুইট পিয়ের তাঁয়ার দ্য শারদাঁ (১৮৮১-১৯৫৫) এই ধারণাটি উদ্ভাবন করেন । মহাবিশ্ব সর্বদা অধিকতর জটিল এবং সচেতন অবস্থায় বিবর্তিত হচ্ছে, তাঁয়ার বিবর্তনের এই তত্ত্বটিই মনে প্রাণে গ্রহণ করেছিলেন । তিনি একে জটিলতা বা চেতনার নীতি হিসেবে আখ্যায়িত করতেন । সময়ের সাথে সাথে পদার্থ জটিলতর রূপ ধারণ করে এবং অধিকতর সচেতন অবস্থায় উপনীত হতে থাকে । তাঁয়ার বলেন, এমন বিবর্তন তখনই সম্ভব যদি উচ্চতর কোন অবস্থা মহাবিশ্বকে তার দিকে টেনে নিতে থাকে । কারণ নিম্নতর চেতনার অবস্থা নিজে থেকে উচ্চতর চেতনার অবস্থার জন্ম দিতে পারে না । এ থেকেই তাঁয়ার স্বীকার্য প্রণয়ন করেন যে, ওমেগা পয়েন্ট চেতনার একটি ক্রান্তি বিন্দু যা জটিলতা বা চেতনার নীতি অনুযায়ী মহাবিশ্বকে উচ্চতর চেতনার অবস্থার টেনে নিয়ে যায় । সবচেয়ে জটিল ও সচেতন পদার্থ হল মানুষ । তাই মানুষ স্বভাবতই এ ধরনের চেতনার বিবর্তনের অংশ । এ কারণে মানব জাতি "প্রতিফলন গুণ" বিশিষ্ট। অর্থাৎ মানুষ নিজের উপর প্রতিফলন ঘটাতে পারে তথা মানব জাতি আত্ম-সচেতন। তাঁয়ার নিজের মত করে বলেন, মানুষ সচেতনাভূত । ("The human-being is consciousness squared.)

পাঁচটি ধর্ম

দ্য ফেনোমেনা অফ ম্যান গ্রন্থে তাঁয়ার ওমেগা বিন্দুর পাঁচটি ধর্মের উল্লেখ করেছেন। ধর্ম পাঁচটি হল:

  • এটি অবশ্যই ইতোমধ্যে বিরাজ করছে।
  • এটি অবশ্য ব্যক্তিগত হবে- কোন বুদ্ধিমান সত্ত্বা বা বিমূর্ত ধারণা হওয়া চলবে না।
  • এটি অবশ্য সর্বোৎকৃষ্ট এবং সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে এমন হবে।
  • এটি অবশ্যই স্বায়ত্তশাসিত হবে- স্থান ও কাল থেকে মুক্ত হবে।
  • এটি অবশ্যই অপ্রত্যাবর্তী হবে, অর্থাৎ একে অর্জনীয় হতে হবে।


ওমেগা বিন্দু কী?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 12, 08:18 PM

আমাদের সৃষ্টিকর্তা কে?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 12, 08:14 PM

যদিও উত্তর আছে, তবুও আমি উত্তর লিখছি সমর্থন হিসেবে– আমাদের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তাআলা।

১=২ কিভাবে সম্ভব?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Sep 12, 08:10 PM

এটা সম্ভব না, তবে ১= ২ এর ভুয়া প্রমাণ অনেক আছে।

যেমন: d/dx( x²+1)= 2x আবার d/dx(x²+2)=2x

সুতরাং ১=২

আবার, sin π=0 এবং sin 2π = 0 সুতরাং 1=2

আবার, (-১)²=১ এবং ১²=১ ||| সুতরাং ১=-১ অর্থাৎ 2=0 , উভয়পক্ষে 2 দ্বারা ভাগ করে, ১=0 , যেহেতু ২=০ এবং ১=০ তাহলে ১=২

আবার, ১০²-১০²= ১০০-১০০ তাহলে (১০+১০)(১০-১০)=১০(১০-১০) এখন, ১০=20 সুতরাং ১=২

আবার, সব চেয়ে জনপ্রিয় ভুয়া প্রমাণ টি হলো


সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর এবার উপসাগরীয় আরেক দেশ বাহরাইনও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার টুইটারে তিনি বলেছেন, “৩০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় একটি আরব দেশও ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করল।”

দশকের পর দশক ধরে আরব দেশগুলো ইসরায়েলকে বয়কট করে আসছিল। ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান হলেই কেবল তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হতে পারে, এমন ইঙ্গিত ছিল তাদের। এর ব্যতিক্রম ঘটিয়ে গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি হয়। এবার বাহরাইনও একই পথ ধরল।

বাহরাইন যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে, তা নিয়ে গত মাস থেকেই গুঞ্জন ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিরোধ নিষ্পত্তিতে জানুয়ারিতে ট্রাম্প ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ হাজির করেছিলেন। ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সমঝোতায়ও তিনিই মধ্যস্থতা করেছেন।

মিশর ও জর্ডানের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত আর বাহরাইন- ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এ চারটি দেশের স্বীকৃতি পেল ইসরায়েল।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আরেকটি আরব দেশের সঙ্গে ‘শান্তি চুক্তিতে’ পৌঁছাতে পেরে তিনি উৎফুল্ল।

ট্রাম্প পরে টুইটারে তার সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও বাহরাইনের বাদশা হামাদ বিন ইসা বিন সালমান আল খলিফার একটি যৌথ বিবৃতির কপিও পোস্ট করেন।

“মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ক্ষেত্রে এটি যুগান্তকারী ঘটনা যা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা, সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি বাড়াবে,” বলা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে বাহরাইনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছ সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ব্যক্ত করেছেন ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাহরাইন থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকেও পাঠিয়েছে।

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস বলেছে, বাহরাইনের এই পদক্ষেপে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি হল।

বাহরাইন-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণাকে ফিলিস্তিনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন ইরান পার্লামেন্টের স্পিকারের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ পরামর্শদাতা হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিন।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। একই অনুষ্ঠানে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুললতিফ আল জায়ানিও থাকবেন।

নেতানিয়াহু ও জায়ানি সেদিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া ‘ঐতিহাসিক শান্তির ঘোষণা’ দেবেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আরব লীগের সদস্যদের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়া ১৯৯৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলেও ১১ বছর পর, ২০১০ সালে তা ছিন্ন করে।
লিংক


তাহলে আমাদের কি কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Aug 20, 09:54 AM

মাফ করবেন, আপনার চিন্তা ভুল। কারণ আল্লাহ চাইলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের চাইতেও ভালো জিনিস সৃষ্টি করতে পারেন। তাঁর ক্ষমতা অসীম। আচ্ছা এই রোবটগুলো কি ধ্বংস হয়ে যাবে না? তাহলে কোনো যুক্তি আছে যা প্রমাণ করে আল্লাহ্ নেই? যা আছে সবগুলোতেই খুঁত আছে (কেউ মানুক আর না মানুক)।

“পূণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।” [ সূরা আল-মুলক : ১ ]

·

“নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” [ সূরা আল-মুলক : ১২ ]

·

হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন। [ সূরা আল বাকারা : ১৫৩ ]

·

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আসমান সমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা আরাফ, আয়াত ৫৪]

.

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমুন্নত হন। [সূরা ইউনুস, আয়াত ৩]

.

আল্লাহ যিনি আসমান সমূহ উপরে স্থাপন করেছেন খুঁটি ছাড়া, তোমরা তা দেখছো। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা রাদ, আয়াত ২]

.

উল্লেখিত আয়াতগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তায়ালা আরশে সমুন্নত আছেন। কিভাবে সমুন্নত আছেন, এ কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ “কাইফিয়াত বা (সমুন্নত হওয়ার) পদ্ধতি অজ্ঞাত আর ইসতাওয়া বা সমুন্নত হওয়াটা জ্ঞাত। এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত”। [ইমাম বাইহাক্বীর আল আসমা ওয়াস সিফাত, পৃষ্ঠা ৪০৮ ।। তামহীদ ৭/১৫১]

.

আল্লাহ তায়ালা আসমানের উপর আছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, যিনি আকাশের উপর রয়েছেন তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধসিয়ে দিবেন না? আর তখন ওটা আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, আকাশের উপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী ঝঞ্ঝা বায়ু প্রেরণ করবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কিরূপ ছিল আমার সতর্কবাণী”। [সূরা মুলক, আয়াত ১৬-১৭]

.

মু’আবিয়া বিন আল হাকাম আস সুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার এক দাসী ছিল। সে উহুদ ও জাওওয়ানিয়্যাহ এলাকায় আমার বকরীপাল চড়াতো। একদিন আমি হঠাৎ সেখানে গিয়ে দেখলাম তার বকরীপাল থেকে বাঘে একটি বকরী নিয়ে গিয়েছে। আমি তো অন্যান্য আদম সন্তানের মত একজন মানুষ। তাদের মত আমিও ক্ষোভ ও চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আসলাম (এবং সব কথা বললাম) কেননা বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল, আমি কি তাকে মুক্ত করে দিবো? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। সুতরাং আমি তাকে এনে রসূলুল্লাহর কাছে হাজির করলাম। তিনি তাকে (দাসীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে বললঃ আকাশে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও, সে একজন মুমিনাহ নারী। [সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদঃ মসজিদ ও সালাতের স্থান সমূহ, হাদিস নং ১০৮৬]

.

আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ যয়নব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অন্যান্য স্ত্রীগণের উপর গর্ব করে বলতেন যে, তাঁদের বিয়ে তাঁদের পরিবার দিয়েছে আর আমার বিয়ে আল্লাহ সপ্তম আসমানের উপর থেকে সম্পাদন করেছেন। [সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ তাওহীদ, হাদিস নং ৭৪২০]

.

আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যমীনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করা, আকাশে যিনি আছেন (আল্লাহ) তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। [তিরমিযী, হাদিস নং ১৮৪৭ ।। আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২০৯]

.

ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি বলবে আল্লাহ আসমানে আছেন নাকি যমীনে আছেন আমি তা জানি না, সে কুফরী করবে। অনুরূপভাবে যে বলবে আল্লাহ আরশে আছেন কিন্তু তাঁর আরশ আসমানে নাকি যমীনে আমি তা জানি না, সেও কুফরী করবে। [আল ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৪৬ ।। মাজমুউ ফাতওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ৫/৪৮ পৃষ্ঠা]

.

ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ আরো বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা উপর থেকে বান্দার আহ্বানে সাড়া দেন, নিচ থেকে নয়। কেননা নিচ রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাতের কোন গুণের মধ্যে পড়ে না। [আল ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৫১]

.

ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ আল্লাহ হচ্ছেন আসমানে আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় বিরাজমান। [মাসায়িলি ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা ২৬৩ ।। ইবনু আব্দিল বার বর্ণনা করেছেন আত তামহিদ, ৭/১৩৮]

.

ইমাম শাফেঈ বলেছেনঃ ঐ সুন্নাহ বা রীতির ব্যাপারে কথা হলো যে সুন্নাহ বা রীতির উপর আমি আছি এবং আমার সাথীদেরকে দেখেছি তার উপর। আর আহলে হাদিসদেরকে দেখেছি যাদের কাছ থেকে আমি ইলম গ্রহণ করেছি যেমন সুফইয়ান, মালিক এবং অন্যান্যরা তারা ঐ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর তা হল এ স্বীকৃতি দেয়াঃ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। এবং আল্লাহ তায়ালা আসমানে আরশের উপর রয়েছেন। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তার সৃষ্ট জীবের নিকটবর্তী হন এবং আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই দুনিয়ার আসমানে নামেন। [ইজতিমাউল জুউশিল ইসলামী, পৃষ্ঠা ১৬৫ ।। ইসবাতুল উলু, পৃষ্ঠা ১২৪]

.

ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা যেভাবে তিনি চান সেভাবেই তিনি আরশে রয়েছেন। আমরা এর প্রতি বিশ্বাস আনবো এর কোন সীমা বা সিফাত বর্ণনা করা ব্যতীত। কেননা আরশে সমাসীন হওয়া আল্লাহর একটি সিফাত। আর আল্লাহর সিফাত ঐ ভাবেই বর্ণনা করতে হবে যেভাবে তিনি নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন। যেখানে কোন চোখের পৌছা সম্ভব নয়। [আদ দূরউ তায়ারুযিল আকলি ওয়ান নাকলি, ২/৩১]

আশা করি বুঝেছেন।


“পূণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।” [ সূরা আল-মুলক : ১ ]

·

“নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” [ সূরা আল-মুলক : ১২ ]

·

হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন। [ সূরা আল বাকারা : ১৫৩ ]

·

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আসমান সমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা আরাফ, আয়াত ৫৪]

.

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমুন্নত হন। [সূরা ইউনুস, আয়াত ৩]

.

আল্লাহ যিনি আসমান সমূহ উপরে স্থাপন করেছেন খুঁটি ছাড়া, তোমরা তা দেখছো। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা রাদ, আয়াত ২]

.

উল্লেখিত আয়াতগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তায়ালা আরশে সমুন্নত আছেন। কিভাবে সমুন্নত আছেন, এ কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ “কাইফিয়াত বা (সমুন্নত হওয়ার) পদ্ধতি অজ্ঞাত আর ইসতাওয়া বা সমুন্নত হওয়াটা জ্ঞাত। এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত”। [ইমাম বাইহাক্বীর আল আসমা ওয়াস সিফাত, পৃষ্ঠা ৪০৮ ।। তামহীদ ৭/১৫১]

.

আল্লাহ তায়ালা আসমানের উপর আছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, যিনি আকাশের উপর রয়েছেন তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধসিয়ে দিবেন না? আর তখন ওটা আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, আকাশের উপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী ঝঞ্ঝা বায়ু প্রেরণ করবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কিরূপ ছিল আমার সতর্কবাণী”। [সূরা মুলক, আয়াত ১৬-১৭]

.

মু’আবিয়া বিন আল হাকাম আস সুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার এক দাসী ছিল। সে উহুদ ও জাওওয়ানিয়্যাহ এলাকায় আমার বকরীপাল চড়াতো। একদিন আমি হঠাৎ সেখানে গিয়ে দেখলাম তার বকরীপাল থেকে বাঘে একটি বকরী নিয়ে গিয়েছে। আমি তো অন্যান্য আদম সন্তানের মত একজন মানুষ। তাদের মত আমিও ক্ষোভ ও চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আসলাম (এবং সব কথা বললাম) কেননা বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল, আমি কি তাকে মুক্ত করে দিবো? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। সুতরাং আমি তাকে এনে রসূলুল্লাহর কাছে হাজির করলাম। তিনি তাকে (দাসীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে বললঃ আকাশে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও, সে একজন মুমিনাহ নারী। [সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদঃ মসজিদ ও সালাতের স্থান সমূহ, হাদিস নং ১০৮৬]

.

আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ যয়নব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অন্যান্য স্ত্রীগণের উপর গর্ব করে বলতেন যে, তাঁদের বিয়ে তাঁদের পরিবার দিয়েছে আর আমার বিয়ে আল্লাহ সপ্তম আসমানের উপর থেকে সম্পাদন করেছেন। [সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ তাওহীদ, হাদিস নং ৭৪২০]

.

আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যমীনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করা, আকাশে যিনি আছেন (আল্লাহ) তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। [তিরমিযী, হাদিস নং ১৮৪৭ ।। আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২০৯]

.

ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি বলবে আল্লাহ আসমানে আছেন নাকি যমীনে আছেন আমি তা জানি না, সে কুফরী করবে। অনুরূপভাবে যে বলবে আল্লাহ আরশে আছেন কিন্তু তাঁর আরশ আসমানে নাকি যমীনে আমি তা জানি না, সেও কুফরী করবে। [আল ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৪৬ ।। মাজমুউ ফাতওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ৫/৪৮ পৃষ্ঠা]

.

ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ আরো বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা উপর থেকে বান্দার আহ্বানে সাড়া দেন, নিচ থেকে নয়। কেননা নিচ রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাতের কোন গুণের মধ্যে পড়ে না। [আল ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৫১]

.

ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ আল্লাহ হচ্ছেন আসমানে আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় বিরাজমান। [মাসায়িলি ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা ২৬৩ ।। ইবনু আব্দিল বার বর্ণনা করেছেন আত তামহিদ, ৭/১৩৮]

.

ইমাম শাফেঈ বলেছেনঃ ঐ সুন্নাহ বা রীতির ব্যাপারে কথা হলো যে সুন্নাহ বা রীতির উপর আমি আছি এবং আমার সাথীদেরকে দেখেছি তার উপর। আর আহলে হাদিসদেরকে দেখেছি যাদের কাছ থেকে আমি ইলম গ্রহণ করেছি যেমন সুফইয়ান, মালিক এবং অন্যান্যরা তারা ঐ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর তা হল এ স্বীকৃতি দেয়াঃ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। এবং আল্লাহ তায়ালা আসমানে আরশের উপর রয়েছেন। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তার সৃষ্ট জীবের নিকটবর্তী হন এবং আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই দুনিয়ার আসমানে নামেন। [ইজতিমাউল জুউশিল ইসলামী, পৃষ্ঠা ১৬৫ ।। ইসবাতুল উলু, পৃষ্ঠা ১২৪]

.

ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা যেভাবে তিনি চান সেভাবেই তিনি আরশে রয়েছেন। আমরা এর প্রতি বিশ্বাস আনবো এর কোন সীমা বা সিফাত বর্ণনা করা ব্যতীত। কেননা আরশে সমাসীন হওয়া আল্লাহর একটি সিফাত। আর আল্লাহর সিফাত ঐ ভাবেই বর্ণনা করতে হবে যেভাবে তিনি নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন। যেখানে কোন চোখের পৌছা সম্ভব নয়। [আদ দূরউ তায়ারুযিল আকলি ওয়ান নাকলি, ২/৩১]

আশা করি বুঝেছেন।


“পূণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।” [ সূরা আল-মুলক : ১ ]

·

“নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” [ সূরা আল-মুলক : ১২ ]

·

হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন। [ সূরা আল বাকারা : ১৫৩ ]

·

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আসমান সমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা আরাফ, আয়াত ৫৪]

.

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমুন্নত হন। [সূরা ইউনুস, আয়াত ৩]

.

আল্লাহ যিনি আসমান সমূহ উপরে স্থাপন করেছেন খুঁটি ছাড়া, তোমরা তা দেখছো। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা রাদ, আয়াত ২]

.

উল্লেখিত আয়াতগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তায়ালা আরশে সমুন্নত আছেন। কিভাবে সমুন্নত আছেন, এ কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ “কাইফিয়াত বা (সমুন্নত হওয়ার) পদ্ধতি অজ্ঞাত আর ইসতাওয়া বা সমুন্নত হওয়াটা জ্ঞাত। এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত”। [ইমাম বাইহাক্বীর আল আসমা ওয়াস সিফাত, পৃষ্ঠা ৪০৮ ।। তামহীদ ৭/১৫১]

.

আল্লাহ তায়ালা আসমানের উপর আছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, যিনি আকাশের উপর রয়েছেন তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধসিয়ে দিবেন না? আর তখন ওটা আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, আকাশের উপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী ঝঞ্ঝা বায়ু প্রেরণ করবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কিরূপ ছিল আমার সতর্কবাণী”। [সূরা মুলক, আয়াত ১৬-১৭]

.

মু’আবিয়া বিন আল হাকাম আস সুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার এক দাসী ছিল। সে উহুদ ও জাওওয়ানিয়্যাহ এলাকায় আমার বকরীপাল চড়াতো। একদিন আমি হঠাৎ সেখানে গিয়ে দেখলাম তার বকরীপাল থেকে বাঘে একটি বকরী নিয়ে গিয়েছে। আমি তো অন্যান্য আদম সন্তানের মত একজন মানুষ। তাদের মত আমিও ক্ষোভ ও চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আসলাম (এবং সব কথা বললাম) কেননা বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল, আমি কি তাকে মুক্ত করে দিবো? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। সুতরাং আমি তাকে এনে রসূলুল্লাহর কাছে হাজির করলাম। তিনি তাকে (দাসীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে বললঃ আকাশে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও, সে একজন মুমিনাহ নারী। [সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদঃ মসজিদ ও সালাতের স্থান সমূহ, হাদিস নং ১০৮৬]

.

আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ যয়নব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অন্যান্য স্ত্রীগণের উপর গর্ব করে বলতেন যে, তাঁদের বিয়ে তাঁদের পরিবার দিয়েছে আর আমার বিয়ে আল্লাহ সপ্তম আসমানের উপর থেকে সম্পাদন করেছেন। [সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ তাওহীদ, হাদিস নং ৭৪২০]

.

আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যমীনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করা, আকাশে যিনি আছেন (আল্লাহ) তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। [তিরমিযী, হাদিস নং ১৮৪৭ ।। আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২০৯]

.

ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি বলবে আল্লাহ আসমানে আছেন নাকি যমীনে আছেন আমি তা জানি না, সে কুফরী করবে। অনুরূপভাবে যে বলবে আল্লাহ আরশে আছেন কিন্তু তাঁর আরশ আসমানে নাকি যমীনে আমি তা জানি না, সেও কুফরী করবে। [আল ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৪৬ ।। মাজমুউ ফাতওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ৫/৪৮ পৃষ্ঠা]

.

ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ আরো বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা উপর থেকে বান্দার আহ্বানে সাড়া দেন, নিচ থেকে নয়। কেননা নিচ রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাতের কোন গুণের মধ্যে পড়ে না। [আল ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৫১]

.

ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ আল্লাহ হচ্ছেন আসমানে আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় বিরাজমান। [মাসায়িলি ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা ২৬৩ ।। ইবনু আব্দিল বার বর্ণনা করেছেন আত তামহিদ, ৭/১৩৮]

.

ইমাম শাফেঈ বলেছেনঃ ঐ সুন্নাহ বা রীতির ব্যাপারে কথা হলো যে সুন্নাহ বা রীতির উপর আমি আছি এবং আমার সাথীদেরকে দেখেছি তার উপর। আর আহলে হাদিসদেরকে দেখেছি যাদের কাছ থেকে আমি ইলম গ্রহণ করেছি যেমন সুফইয়ান, মালিক এবং অন্যান্যরা তারা ঐ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর তা হল এ স্বীকৃতি দেয়াঃ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। এবং আল্লাহ তায়ালা আসমানে আরশের উপর রয়েছেন। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তার সৃষ্ট জীবের নিকটবর্তী হন এবং আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই দুনিয়ার আসমানে নামেন। [ইজতিমাউল জুউশিল ইসলামী, পৃষ্ঠা ১৬৫ ।। ইসবাতুল উলু, পৃষ্ঠা ১২৪]

.

ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা যেভাবে তিনি চান সেভাবেই তিনি আরশে রয়েছেন। আমরা এর প্রতি বিশ্বাস আনবো এর কোন সীমা বা সিফাত বর্ণনা করা ব্যতীত। কেননা আরশে সমাসীন হওয়া আল্লাহর একটি সিফাত। আর আল্লাহর সিফাত ঐ ভাবেই বর্ণনা করতে হবে যেভাবে তিনি নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন। যেখানে কোন চোখের পৌছা সম্ভব নয়। [আদ দূরউ তায়ারুযিল আকলি ওয়ান নাকলি, ২/৩১]



এলিয়েন কি সত্যিই আছে?

সাবাহআজমাননাহিয়ান
Aug 17, 10:42 AM

বহির্জাগতিক প্রাণ বা ভিনগ্রহের প্রাণী (এলিয়েন নামেও অতি পরিচিত) বলতে সেই জীবদের বোঝানো হয়, যাদের উদ্ভব এই পৃথিবীতে হয়নি বরং পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও হয়েছে। বিশ্বের বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব আছে বলে অনেক বিজ্ঞানী দাবি করেছেন আর এই দাবি নিয়ে অনেক বিতর্কও রয়েছে। বর্হিজাগতিক প্রাণের অস্তিত্বের কথা বর্তমানে কেবল কাল্পনিক, কারণ পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের বাইরে এই পর্যন্ত কোন জীবাণু অথবা অতি হ্মুদ্র জীবাণু আছে বলে, পরিষ্কার প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবুও বিজ্ঞানীদের একটি বিরাট অংশ বিশ্বাস করেন যে, এদের অস্তিত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু উল্কাপিণ্ডতে অতি প্রাথমিক ক্ষুদ্র জীবাণুর ছাপের মত কিছু একটা দেখা গিয়েছে, কিন্তু পরীক্ষার প্রমাণ এখনও চূড়ান্ত নয়। এটি কাল্পনিক হওয়া, একে অন্য একটি বিশ্ব থেকে আসা বুদ্ধিমান প্রাণী বলে ধরা হয়ে থাকে। এটি একটি চরিত্র যা বিভিন্ন কাল্পনিক বিজ্ঞান সমন্ধীয় নাটক ও চলচ্চিত্রগুলোতে দেখা গিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর বাইরে কিছু স্থান আছে যেখানে প্রাণ বিকশিত করতে পারে, অথবা আমাদের পৃথিবীর মত জীবন বর্তমান। শুক্র গ্রহ এবং মঙ্গল গ্রহ, বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহ এবং শনি গ্রহ (উদাহরণঃ ইউরোপা (উপগ্রহ), ইন্সেলাডুস (উপগ্রহ) এবং টিটান (উপগ্রহ), গ্লিজে ৫৮১ সি এবং গ্লিজে ৫৮১ ডি, সাম্প্রতিক কালে আবিষ্কৃত, Earth-mass এর কাছে বহিঃসৌর জাগতিক গ্রহের স্পষ্টভাবে তাদের সূর্যের কাছে বাসযোগ্য অঞ্চল পাওয়া গিয়েছে এবং সেখানে পানি থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশের জনগণের মধ্যে দেখা রহস্যময় বিভিন্ন অশনাক্ত উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও এর প্রতিবেদনগুলো বহির্জাগতিক প্রাণকে নির্দেশ করে এবং অনেকেই দাবী করে থাকে যে, বহির্জাগতিক প্রাণী দ্বারা অপহরণ হয়েছে যা বেশির ভাগ বিজ্ঞানীরা মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছে। এবার ইসলামী ব্যাখ্যায় আসা যাক। আল্লাহ মহান ইরশাদ করেন, তাঁর ইঙ্গিত সমুহের একটি – নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সৃষ্টি এবং এদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া জীব। তিনি যখন ইচ্ছা এদেরকে একত্র করতে সক্ষম। [আস শুরা : ২৯] তিনি আল্লাহ যিনি সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং সমসংখ্যক (৭টি) পৃথিবীও সৃষ্টি করেছেন। [তালাক্ব : ১২] সুবহানআল্লাহ !! এই আয়াত দুটি থেকে কি বোঝা যায়? পৃথিবীতে জীবন ধারনের জন্য যেমন পরিবেশ রয়েছে, এমন পরিবেশ বিশিষ্ট আরও অন্তত ৬টি গ্রহ এই মহাকাশে আছে। যেখানে তিনি প্রাণ ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি চাইলেই এদের সবাইকেই একত্র করতে সক্ষম। যাই হোক, পবিত্র কোরআনের আলোকে এটা স্পষ্ট হলো যে, এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী নিশ্চয়ই আছে। গবেষণা বা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যা একদিন আবিষ্কৃত হবেই। পবিত্র কোরআনে এ ব্যাপারে আরো আলোচনা এসেছে। আল্লাহ মহান ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহই জগতসমূহের প্রতিপালক। বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। [৪০: ৬৪-৬৫] জগতসমূহের প্রতিপালক- এই কথার মাঝে একাধিক জগতের অস্তিত্বের ইঙ্গিত রয়েছে। আল্লাহ মহান আরো ইরশাদ করেন, তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীসমূহ এবং উহাদিগের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। [২৬:২৩-২৪] তাঁর এক নিদর্শন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি এবং এতদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীব-জন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন। [৪২ : ২৯] আল্লাহ তিনি, যিনি সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য আকাশ আর অনুরূপ সংখ্যক পৃথিবী। উহাদের উপরও আল্লাহর নির্দেশ অবতীর্ণ হয়; (এ তথ্যটি) এই জন্য যে তোমরা যেন অবগত হও, আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞ। [৬৫ : ১২]