user-avatar

আবদুলহামীদফাইযী

◯ আবদুলহামীদফাইযী

আবদুলহামীদফাইযী এর সম্পর্কে
যোগ্যতা ও হাইলাইট
পুরুষ
Unspecified
Unspecified
প্রশ্ন-উত্তর সমূহ 0 বার দেখা হয়েছে এই মাসে 407.59k বার
যে প্রাণী মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তা মেরে ফেলা বৈধ। তবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নয়। যেহেতু “আগুনের মালিক (আল্লাহ) ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়া আর কারও জন্য সঙ্গত নয়।” (আবু দাউদ)
প্রয়োজনের ভিত্তিতে দাগ করে চিহ্ন দেওয়া জায়েজ। মহানবী (সঃ) সদকার উটের দেহে এমন চিহ্ন দিয়েছেন। (বুখারি ১৫০২, মুসলিম ২১১৯ নং) তিনি ছাগলের কানেও দাগ দিয়ে চিহ্নিত করেছেন। (বুখারি ৫৫৪২, মুসলিম ২১১৯, আহমাদ ১২৩৩৯, ইবনে মাজাহ ৩৫৬৫ নং) তিনি হজ্জের উটের কুজে দাগ দিয়ে চিহ্নিত করেছেন। (বুখারি ১৬৯৪, ১৬৯৫ নং) তবে চেহারায় দাগা বা দাগ দেওয়া নিষেধ। (মুসলিম ২১১৭ নং)
যদি পাখিকে ঠিকমত পানাহার দেওয়া হয় এবং কোন প্রকার কষ্ট না দেওয়া হয়, তাহলে বৈধ। (ইবনে বাজ)

শখের বসে কুকুর পোষা বৈধ কি?

আবদুলহামীদফাইযী
Mar 5, 06:58 AM
পাশ্চাত্য সভ্যতায় প্রভাবান্বিত হয়ে শখের বসে বাড়িতে কুকুর পোষা বৈধ নয়। যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করেন না। সে ঘরে কুকুর থাকে এবং সে ঘরেও নয়, যে ঘরে ছবি বা মূর্তি থাকে।” (বুখারি ও মুসলিম) “যে ব্যক্তি এমন কুকুর পোষে, যা শিকারের জন্য নয়, পশু রক্ষার জন্য নয় এবং ক্ষেত পাহারার জন্যও নয়, সে ব্যক্তির নেকি থেকে প্রত্যেক দিন (এক অথবা) দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব কমে যায়।” বুখারি- মুসলিম) বলা বাহুল্য, শিকারের জন্য, পাহারার জন্য অথবা অপরাধী ধরার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে কুকুর পোষা বৈধ। (ইবনে উসাইমিন)
যদি ওই ব্যক্তির পরিজনবর্গ আদৌ নামায না পড়ে, তবে তারা কাফের, মুরতাদ্দ এবং ইসলাম এবং বহির্ভূত। আর ঐ ব্যক্তির সাথে একত্রে বাস করা বৈধ নয়। অবশ্য তার উপর ওয়াজেব যে, তাদেরকে দাওয়াত দেবে, বারবার উপদেশ দেবে এবং নামাযের জন্য পুনঃপুন তাকিদ করবে। সম্ভবতঃ আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করবেন। যেহেতু নামায ত্যাগকারী কাফের। আল্লাহ আমাদেরকে পানাহ দিন। কিতাব, সুন্নাহ, সাহাবা বর্গের বানী এবং সুচিন্তিত অভিমত থেকে এই বিধানের সপক্ষে দলীল বর্তমান। (ইবনে উসাইমিন)
মহানবী (সঃ) বলেন, “মানুষ এবং কুফুর ও শিরকের মাঝে (অন্তরাল) নামায ত্যাগ।” (মুসলিম ৮২ নং) তিনি আরো বলেন, “আমাদের মাঝে ও ওদের মাঝে চুক্তিই হল নামায। সুতরাং যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ কে, সে কাফের।” (তিরমিজি ২৬২১ নং, ইবনে মাজাহ ১০৭৯ নং, আলবানী হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।) আমিরুল মু’মিনীন উমার (রঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করে, তার জন্য ইসলামে কোন অংশ নেই।” (বাইহাকি ৬৭৩৪ নং, ইবনে আবি সাইবাহ ৩৭০৭৪ নং) ইবনে মাসউদ (রঃ) বলেন, ‘যার নামায নেই, তার দ্বীন নেই।’ (সঃ তারগিব ৫৭৪ নং) আবু দারদা (রঃ) বলেন, ‘যার নামায নেই, তার ইমান নেই।’ (সঃ ৫৭৫ নং) আব্দুল্লাহ বিন শাকিক বলেন, ‘নবী (সঃ) এর সাহাবা বৃন্দ নামায ছাড়া অন্য কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফরি মনে করতেন না।’ (তিরমিজি) কিন্তু আপনি তাকে ‘কাফের’ বলবেন না। অথবা সম্বোধনের সময় ‘এ কাফের!’ বলবেন না। যেহেতু যে নামায পড়ে না, সে কাফের। কিন্তু আপনি যে বেনামাজিকে ‘কাফের’ বলছেন, সে প্রকৃত পক্ষে কাফের কি না, তা আপনি জানেন না। কারন ‘কাফের’ বলার আগে অনেক কিছু দেখবার ও ভাববার আছে। সুতরাং আপনি তাকে সরাসরি ‘তুমি কাফের’ না বলে বলবেন, ‘যে নামায পড়ে না, সে কাফের।’ অতঃপর তাকে নসিহত করবেন। তার সামনে দলীল পেশ করবেন। তার সন্দেহ নিরসন করবেন। আর সে সব না পারলে আপনি ‘কাফের’ বলার কে? (ইবনে বাজ)
অমুসলিমরা একই শ্রেণিভুক্ত নয়। এ ব্যাপারে আল কুরআনের নির্দেশ নিম্নরূপ, “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে তোমাদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। তাঁরা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করলে, সে তাদেরই একজন গণ্য হবে। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎ পথে পরিচালিত করেন না। (মায়িদাহঃ ৫১) “হে বিশ্বাসীগণ! তোমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের কাছে বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তাঁরা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে, রাসুলকে ও তোমাদেরকে বহিষ্কৃত করছে এই কারণে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে বিশ্বাস কর। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমার পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে বহির্গত হয়ে থাক (তাহলে তাদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না)। তোমরা গোপনে তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তোমরা যা গোপন কর এবং তোমরা যা প্রকাশ কর, তা আমি সম্যক অবগত। তোমাদের যে কেউ এটা করে, সে ত সরল পথ হতে বিচ্যুত হয়।” (মুমতাহিনাহঃ ১) “ হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের পিতা ও ভ্রাতৃ গন যদি ইমানের মুকাবিলায়কুফুরকে পছন্দ করে, তাহলে তাদেরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করো না। তোমাদের মধ্যে যারা যাদেরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করবে তাঁরাই হবে অত্যাচারী।” (তাওবাহঃ২৩) “তুমি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায় পাবে না, জারা ভালবাসে আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধাচারিকে। হক না এই বিরুদ্ধা চারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা তাদের জাতি-গোত্র। তাদের অন্তরে আল্লাহ ইমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তার পক্ষ হতে রূহ (জ্যোতি ও বিজয়) দ্বারা। তিনি তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে। যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে, আল্লাহ তাদের অতি প্রসন্ন এবং তারাও তার প্রতি সন্তুষ্ট। তাঁরাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো যে, আল্লাহর দলই সফলকাম। (মুজাদালাহঃ ২২) “ দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায় বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।। আল্লাহ শুধু তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করেছে এবং তোমাদেরকে বহিষ্করণে সহযোগিতা করেছে। তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করে, তাঁরাইতো অত্যাচারী।” (মুমতাহিনাহঃ ৮-৯ )

হিজরত করা ওয়াজেব কখন?

আবদুলহামীদফাইযী
Mar 5, 06:45 AM
মুসলিম যখন নিজের দ্বীন প্রকাশ করতে, দ্বীনের প্রতীক সমূহ প্রতিষ্ঠা করতে বাধাপ্রাপ্ত হবে, নামাজ কায়েম করতে, জুমাআহ ও জামায়াত কায়েম করতে, যাকাত, রোজা ও হজ্জ পালন করতে অক্ষম হবে, তখন হিজরত ওয়াজেব হবে। মহান আল্লাহ বলেন, “যারা নিজেদের উপর অবিচার করে, তাদের প্রাণ হরণের সময় ফিরিশতাগণ বলে, ‘তোমরা কি অবস্থায় ছিলে?’ তাঁরা বলে, ‘দুনিয়ায় আমরা অসহায় ছিলাম।’ তাঁরা বলে, ‘তোমরা নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে বসবাস করতে পারতে, আল্লাহর দুনিয়া কি এমন প্রশস্ত ছিল না?’ এদেরই আবাসস্থল জাহান্নাম। আর তা কত নিকৃষ্ট আবাস! (নিসাঃ ৯৭) সুতরাং যে পরিবেশে মুসলিম তার ইসলাম প্রকাশ করতে বাধা গ্রস্ত হয়, সে পরিবেশে বসবাস করা বৈধ নয়। সে পরিবেশ ছেড়ে এমন পরিবেশে হিজরত করে যাওয়া তার জন্য ওয়াজেব, যেখানে সে নিজের ইমান ইসলাম ও তার প্রতীকসমূহ প্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
না। কারণ সে অবস্থায় সে কুরআনকে অস্বীকার করবে। কুরআন বলেছে, “নিশ্চয় ইসলাম আল্লাহর নিকট (একমাত্র মনোনীত) ধর্ম।” (আলে ইমরানঃ ১৯) “যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম অন্বেষণ করবে, তার পক্ষ হতে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না। আর সে হবে পরলোকে ক্ষতিগ্রস্ত দের দলভুক্ত।” (আলে ইমরানঃ ৮৫)
হ্যাঁ। কারণ এতে তাদের শিরকের এক প্রকার সমর্থন হয়। তেমনি কোন মাজহাবের ধারে পাশে বসা মেলার দোকান থেকে কোন বৈধ জিনিস কেনাও অবৈধ।
পারে, যদি তার পায়ে কোন অপবিত্রতা লেগে না থাকে। অবশ্য মক্কা মদিনার হারাম মসজিদ প্রবেশ করার অনুমতি কোন অমুসলিমকে দেওয়া যাবে না। কারণ আল কুরআনে সূরা তাওবার ২৮ নং আয়াতে এর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। (লাজনাহে দায়েমাহ)
ইয়াহুদি খ্রিস্টানদের সতী মহিলা হলে তাকে মুসলিম না বানিয়ে হলেও যথা নিয়মে বিবাহ করা চলবে। অন্য কোন ধর্মের মহিলা হলে তাকে মুসলমান না বানিয়ে বিবাহ করা বৈধ নয়। পক্ষান্তরে মুসলমান না বানিয়ে কোন বিধর্মী পুরুষের সাথে মুসলিম মহিলার বিবাহ বৈধ নয়। বৈধ নয় বিধর্মী স্বামীর সাথে সংসার করা, যদিও সে নিজে মুসলিম হিসাবে জীবন যাপন করে বলে দাবি করে। কেউ করলে আজীবন ব্যভিচার করা হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে মুসলিম অমুসলিম বৈবাহিক সম্পর্ক কায়েম করা জরুরী নয়। জরুরী নয় একের অন্যের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করা। যে উদারতায় ইমান নষ্ট হয়ে যায়, সে উদারতা কিসের উপকারী? আর ভালবাসার কথা? মহান আল্লাহ বলেন, “তুমি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায় পাবে না, যারা ভালবাসে আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধাচারিকে। হোক না এই বিরুদ্ধাচারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা তাদের জাতি-গোত্র। তাদের অন্তরে আল্লাহ ইমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তার পক্ষ হতে রূহ (জ্যোতি ও বিজয়) দ্বারা। তিনি তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে। যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে, আল্লাহ তাদের অতি প্রসন্ন এবং তারাও তার প্রতি সন্তুষ্ট। তাঁরাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো যে, আল্লাহর দলই সফলকাম। (মুজাদালাহঃ ২২)
স্থান পবিত্র হলে এবং সামনে মূর্তি ইত্যাদি না থাকলে নামাজ শুদ্ধ। (লাজনাহে দায়েমাহ)
আসল আরবি কুরআন অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা বৈধ নয়। অনূদিত কুরআন বা কুরআনী আয়াত সম্বলিত কোন বই পুস্তক অপবিত্র অবস্থায় পড়া অবৈধ নয়। সুতরাং অমুসলিমকে তা দিতে বাধা নেই। (লাজনাহে দায়েমাহ)
হালাল খাদ্য দিয়ে ইফতারি করালে এবং সেখানে কোন আপত্তিকর জিনিস (গান-বাজনা, ছবি ইত্যাদি) না থাকলে তা খেয়ে ইফতারি করা বৈধ। তবে যেন তা কেবল বন্ধুত্বের খাতিরে না হয়। বরং তাতে যেন তাকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার নিয়ত থাকে, ইসলামী শিষ্টাচার প্রকাশের মাধ্যমে ইসলামকে উচ্চ করার উদ্দেশ্য থাকে, মহান আল্লাহ বলেছেন, “ দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায় বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।।” (মুমতাহিনাহঃ ৮)

অমুসলিমের ঘরে পানাহার বৈধ কি?

আবদুলহামীদফাইযী
Mar 5, 06:42 AM
যদি পানাহারের জিনিস ইসলামে ‘হারাম’ না হয় এবং তা বৈধ পাত্রে পেশ করা হয়, তাহলে বৈধ। ইসলামের দিকে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে অমুসলিমের খাওয়া এবং খাওয়ানো দোষের নয়। অবশ্য তাদের কোন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান উপলক্ষে ক্রয়ক্রীত বা প্রস্তুতকৃত কোন খাবার --- তা মুলতঃ ‘হালাল’ হলেও খাওয়া বৈধ নয়।
কাফেরদের বাহ্যিক বেশভূষা, পোশাক পরিচ্ছদ, চাল চলন ও পানাহারে যে কোন ধরনের সাদৃশ্য গ্রহণে দোষ আছে। যেহেতু শরীয়তের নির্দেশ এ ব্যাপক। নবী (সঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই দলভুক্ত।” ( আবু দাউদ, ত্বাবারানীর আউসাত্ব , সহিহুল জামে ৬১৪৯ নং) অবশ্য লক্ষণীয় যে, যে জিনিস বিজাতির প্রতীক, যে জিনিস দেখলে তাদেরকে বিজাতি বলে সহজে চিহ্নিত করা যায়, কেবল সেই জিনিসেই সাদৃশ্য অবলম্বন নিষেধ। তাছাড়া যে জিনিস মুসলিম অমুসলিম এর মাঝে কোন পার্থক্য নির্ধারণ করে না, বরং সকলের মাঝে ব্যাপক, তাতে সাদৃশ্য অবলম্বন প্রশ্নই থাকে না। যদিও সে জিনিস মুলতঃ কাফেরদের নিকট থেকে আগত সভ্যতা কিন্তু ইসলামে তা হারাম নয় এবং জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সর্ব সাধারণের মাঝে প্রচলিত হয়ে গেছে। (ইবনে উসাইমিন) বর্তমানে মেয়েদের সিঁদুর ও ছেলেদের টাই ব্যবহারে সাদৃশ্য গ্রহণের দোষ আছে। কিন্তু মেয়েদের শাড়ী ও ছেলেদের প্যান্ট ব্যবহারে সেই দোষ নেই। যদিও তা মুসলিমদের পোশাক নয়। আরও স্পষ্ট করে বলা যায় যে, বিজাতির অনুকরণ ও সাদৃশ্য অবলম্বন ৩ শ্রেণির কর্ম হতে পারে। প্রথমঃ ইবাদতে বা দ্বীনী বিষয়ে। দ্বিতীয়তঃ আচার আচরণে। তৃতীয়ঃ পার্থিব আবিষ্কার ও শিল্প বিষয়ে। ইবাদতে বিজাতির অনুকরণ করা কোন ক্রমেই বৈধ নয়। কার তাতে অনেক সময় মুসলিম ইসলাম থেকে খারিজ ও হয়ে যেতে পারে। আচার আচরণ ও লেবাস পোশাকেও বিজাতির অনুকরণ বৈধ নয়। কারণ তাতে তাদের প্রতি মুগ্ধতা ও আন্তরিক আকর্ষণ প্রকাশ পায়। আবিষ্কার ও শিল্প ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ করে পার্থিব উন্নয়ন সাধন করা দোষাবহ নয়। এ অনুকরণ নিষিদ্ধ অনুকরণের পর্যায়ভুক্ত নয়।
এ ক্ষেত্রে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে ‘আস সালামু আলাইকুম’ বলেই সালাম দিতে হবে। প্রশ্নে উক্ত বাক্য অমুসলিমদেরকে চিঠি লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। (ইবনে উসাইমিন) কেউ কেউ বলেছেন, অমুসলিমদের কে সালাম দিতে ‘আস সালামু আলা মানিত্তাবাআল হুদা’ বা ‘আসসালামু আলাইনা অয়ালা ইবাদিল্লাহিস শ্বালিহিন ও ব্যবহার করা যায়।

অমুসলিমদেরকে সালাম দেওয়া যায় কি?

আবদুলহামীদফাইযী
Mar 5, 06:41 AM
অমুসলিমদের প্রথমে সালাম দেওয়া হারাম, বৈধ নয়। যেহেতু ‘সালাম’ কেবল ইসলাম ওয়ালাদের অভিবাদন। মহানবী (সঃ) বলেছেন, “ইয়াহুদি ও নাসাদেরকে প্রথমে সালাম দিও না। ওদের সাথে পথে দেখা হলে সংকীর্ণতার প্রতি বাধ্য কর।” কিন্তু ওরা যদি তোমাদেরকে প্রথমে সালাম দেয়, তাহলে তাঁর উত্তর দেওয়া আমাদের জন্য ওয়াজেব হবে। যেহেতু সাধারণভাবেই আল্লাহ বলেন, “আর যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয়, তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করবে অথবা ওরই অনুরূপ উত্তর দেবে।” (সূরা নিশা) ইয়াহুদিরা মহানবী (সঃ) কে সালাম দিত, বলত, ‘আসসা-মু আলাইকা ইয়া মুহাম্মাদ!’ (তোমার উপর মৃত্যু বর্ষণ হোক, হে মুহাম্মদ!)” ‘আসসা-মু এর অর্থ মৃত্যু। তারা রাসুল (সঃ) কে মৃত্যুর বদদুয়া দিতেন। তাই নবী (সঃ) বললেন, “ইয়াহুদিরা বলে, ‘আসসা-মু আলাইকুম।’ সুতরাং ওরা যখন তোমাদেরকে সালাম দেবে, তখন তোমরা তাঁর উত্তরে বল, ‘আ আলাইকুম।” অতএব যখন কোন অমুসলিম কোন মুসলিমকে সালাম দিয়ে বলে, ‘আসসা-মু আলাইকুম,’ তখন আমরা তাঁর উত্তরে বলব, ‘আ আলাইকুম’। উপরোক্ত তাঁর উক্তি ‘আ আলাইকুম’ এই কথার দলিল যে, যদি ওরা ‘তোমাদের উপর সালাম’ বলে, তাহলে তাদের উপরেও সালাম। সুতরাং ওরা যেমন বলবে, আমরাও ওদেরকে তেমনই বলব। এই জন্য কতক উলামা বলেছেন যে, ইয়াহুদি, খ্রিস্টান বা অন্য কোন অমুসলিম যখন স্পষ্ট শব্দে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলবে, তখন তোমাদের জন্য ‘ও আলাইকুম সালাম’ বলে উত্তর দেওয়া বৈধ। অনুরূপ ভাবে অমুসলিমদেরকে প্রথমে স্বাগত জানানো, যেমন ‘আহলান অসাহালান (স্বাগতম, খোশ আমদেদ, ওয়েলকাম প্রভৃতি) বলা বৈধ নয়। যেহেতু এতে তাদের সন্মান ও তা’যীম অভিব্যক্ত হয়। কিন্তু ওরা যখন প্রথমে তোমাদেরকে ঐ বলে স্বাগত জানাবে, তখন আমরাও তাদের অনুরূপ বলে উত্তর দেব। যেহেতু ইসলাম ন্যায়পরায়ণতা এনেছে এবং প্রত্যেক অধিকারীকে তাঁর অধিকার দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আর এ কথা বিদিত যে, আল্লাহ আযযা অ জাল্লার নিকটে মুসলমানরাই সন্মান ও মর্যাদার দিক দিয়ে সবচাইতে বড়। তাই প্রথমে অমুসলিমদেরকে সালাম দিয়ে নিজেদেরকে অপদস্থ করা উচিত নয়। অতএব উত্তরের সারমর্মে বলি যে, অমুসলিমদেরকে প্রথমে সালাম দেওয়া বৈধ নয়। যেহেতু নবী (সঃ) এ থেকে নিষেধ করেছেন এবং যেহেতু এতে মুসলমানদের জন্য লাঞ্ছনা আছে। কারণ সে এতে অমুসলিমকে তা’জিম ও সন্মান প্রদর্শন করে। অথচ আল্লাহর নিকট মুসলিমই সন্মানের দিক থেকে অধিক উঁচু। তাই এতে নিজেকে অপমানিত করা উচিত নয়। পক্ষান্তরে যখন ওরা আমাদেরকে সালাম দেবে, তখন আমরা তাদের অনুরূপ সালামের উত্তর দেব। তদনুরূপ প্রথমে স্বগত জানানোও বৈধ নয়। যেমন, ‘আহলান অসাহলান, মারহাবা’ ইত্যাদি। কেননা এতে ওদেরকে তা’জিম প্রদর্শন করা হয়। যা ওদেরকে প্রথমে সালাম দেওয়ারই অনুরূপ। (ইবনে উসাইমিন)
ক্রিসমাস ডে অথবা অন্য কোন ওদের ধর্মীয় পর্ব ও খুশিতে কাফেরদের মুবারকবাদ দেওয়া সর্ববাদী সম্মতিক্রমে অবৈধ। যেমন ইবনুল কাইয়েম রাহিমাহুল্লাহ তার গ্রন্থ ‘আহকা-মু আহলিয জিম্মাহ’ তে নকল করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশিষ্ট কুফুরের প্রতীক ও নিদর্শনের ক্ষেত্রে মুবারকবাদ পেশ করা যথা সম্মতি ক্রমে হারাম। যেমন ওদের ঈদ অথবা ব্রত উপলক্ষে মুবারকবাদ দিয়ে বলা, ‘তোমার জন্য ঈদ মুবারক হোক’, অথবা ‘এই খুশিতে শুভাশিস গ্রহণ কর’ ইত্যাদি। এ কাজে যদি ও সম্ভাষণ দাতা কুফুর থেকে বেঁচে যায়, তবুও তা হারামের অন্তর্ভুক্ত। আর এটা ওদের ক্রুশ কে সিজদা করার উপলক্ষ্যে মুবারকবাদ দেওয়ার অনুরূপ। বরং এটা আল্লাহর নিকট গোনাহ গযবের দিক থেকে মদ্য পান, খুন, ব্যাভিচার ইত্যাদির উপর মুবারকবাদ দেওয়ার চেয়ে অধিক বড় ও বেশী। বহু মানুষই যাদের নিকট দ্বীনের কোন কদর নেই, তারা উক্ত পাপে পতিত হয়ে থাকে। কৃতকর্মের কুফলকে জানতে পারে না। উপরন্ত কোন মানুষকে পাপ, বিদআত অথবা কুফুরের উপর মুবারকবাদ জানিয়ে থাকে, যখন সে নিশ্চিত ভাবে আল্লাহর ক্রোধে ও অসন্তোষটির শিকার হয়ে যায়। (ইবনুল কাইয়েমের উক্তি সমাপ্ত) কাফেরদের ধর্মীয় ঈদ পর্বে তাদেরকে মুবারকবাদ দেওয়া এই লক্ষ্যেই হারাম, যা ইবনুল কাইয়েম উল্লেখ করেছেন। যেহেতু তাতে কুফরি প্রতীকের উপর কাফেরদের প্রতিষ্ঠিত থাকাকে স্বীকার ও সমর্থন করা হয় এবং তাদের জন্য তাতে সম্মতি প্রকাশ করা হয়। যদিও সে এই কুফরি নিজের জন্য পছন্দ করে না, কিন্তু তবুও মুসলিমের জন্য কুফরির প্রতীকে সম্মতি প্রকাশ অথবা তার উপর কাউকে মুবারকবাদ জানানো বৈধ নয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা ওতে সম্মত নন। যেমন তিনি বলেন, “তোমরা কাফের জলে জেনে রাখ, আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাঁর দাসদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না। যদি তোমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও, তাহলে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন।” (সুরা জুমার ৭ আয়াত) তিনি আর বলেন, “আজ আমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ অসম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন রূপে মনোনীত করলাম।” (সূরা মাইদাহ ৩ আয়াত) সুতরাং কুফুরির উপর ওদেরকে শুভাশিস ও সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপন হারাম --- চাহে তারা ঐ ব্যক্তির কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী বা সঙ্গী হোক, চাহে না হোক। যখন ওরা ওদের ঈদ উপলক্ষ্যে আমাদেরকে মুবারকবাদ জানায়, তখনও আমরা তাদেরকে প্রত্যুত্তরে অভিবাদন জানাতে পারি না। যেহেতু তা আমাদের ঈদ নয়। আল্লাহ তায়ালা এমন ঈদ পছন্দ করেন না। কারণ, তা ওদের ধর্মে অভিনব রচিত কর্ম। অথবা বিধিসম্মত কিন্তু তা দ্বীন ইসলাম দ্বারা রহিত হওয়ে গেছে, যা দ্বীন সহ মুহাম্মদ (সঃ) কে আল্লাহ তায়ালা সমগ্র সৃষ্টির প্রতি প্রেরণ করেছেন। যে দ্বীন সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, “যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম চাইলে তা কখনো তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরলোকে ক্ষতিগ্রস্ত দের দলভুক্ত হবে।” (আ-লে ইমরানঃ ৮৫) এই উপলক্ষে মুসলিমদের জন্য তাদের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করাও হারাম। যেহেতু দাওয়াত গ্রহণ মুবারকবাদ জ্ঞাপন অপেক্ষা নিকৃষ্টতর। কারণ এতে ওদের ঈদে অংশগ্রহণ করা হয়ে যায়। তদনুরূপ মুসলমানদের জন্য এই উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করে, পরস্পরকে উপঢৌকন প্রদান করে, মিষ্টান্ন বিতরণ করে, বিভিন্ন প্রকার খাদ্য বণ্ঠন করে অথবা কর্মক্ষেত্রে ছুটি ঘোষণা করে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা বৈধ নয়। কারণ নবী (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুরূপ অবলম্বন করে, সে তাদেরই দলভুক্ত।” (আবু দাউদ) সায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর গ্রন্থ ‘ইকতিযা-উস সিরাত্বিল মুস্তাকিম, মুখা- লাফাতু আসহা -বিল জাহিম’ এ বলেন, ‘তাদের কিছু ঈদ পর্বে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনে, তারা যে বাতিল অবিচলিত, তাতে তাদের অন্তর খুশিতে ভরে উঠার কারণ হবে এবং সম্ভভতঃ এই অনুরুপ্য তাদের সুযোগের সৎব্যবহার করতে ও দুর্বলদেরকে অধীনস্থ করতে সহায়তা করবে।’ যে ব্যক্তি উপর্যুক্ত কিছু করে ফেলেছে সে গোনাহগার হবে। চাহে সে তা শিষ্টাচারিতা, বন্ধুত্ব, চক্ষুলজ্জা বা অন্য কিছুর খাতিরে করুক না কেন। যেহেতু এমন করা আল্লাহর দ্বীনে তোষামোদ করা, কাফেরদের আত্মা মনকে সবল করে তোলা এবং তাদের ধর্ম নিয়ে গর্ব করার উপকরণের অন্তর্ভুক্ত। (ইবনে উসাইমিন)
জবেহর মাধ্যমে জীনকে সন্তষ্ট করে তাকে সরে যেতে বলা শিরক। যেহেতু আল্লাহ ছাড়া আর কারোর সন্তুষ্টি লাভের জন্য জবেহ বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেন, বল, “ নিশ্চয় আমার নামায, আমার উপাসনা (কুরবানি), আমার জীবন, আমার মরণ, বিশ্ব-জগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।” (আনআমঃ ১৬২) আর নবী (সঃ) বলেছেন, “আল্লাহ তাকে অভিশাপ করেন (বা করুন), যে গায়রুল্লাহর জন্য জবেহ করে।” (মুসলিম ১৯৭৮ নং)
তাবীয কবচ তিন প্রকারঃ (১) গায়রুল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে লেখা তাবীয, ফিরিশতা, জিন, নবী, অলি প্রভৃতির নাম লিখে তৈরি তাবীয, বিভিন্ন সংখ্যা বা হিজিবিজি লিখে তৈরি তাবীয। (২) কোন ধাতু, মাটি, গাছের ছাল বা শিকড়, পশুর লোম বা পাখির পালক, হাড়, কড়ি, কাপড় বা সুতো ইত্যাদি মাদুলিতে ভরে তৈরি তাবীয। এই দুই শ্রেণির তাবীয ব্যবহার শিরক। কারণ ইবনে মাসউদ (রঃ) এর পত্নী জয়নাব (রঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক বুড়ি আমাদের বাড়ি আসা যাওয়া করত এবং সে বাতবিসর্প - রোগে ঝাড়ফুঁক করতেন। আমাদের ছিল লম্বা খুরো বিশিষ্ট খাট। (স্বামী) আব্দুল্লাহ বিন মসউদ যখন বাড়িতে প্রবেশ করতেন, তখন গলা সাড়া বা কোন আওয়াজ দিতেন। একদিন তিনি বাড়িতে এলেন। (এবং অভ্যাস মত বাড়ি প্রবেশের সময় গলা সাড়া দিলেন।) বুড়ি তার আওয়াজ শোনামাত্র লুকিয়ে গেল। এরপর তিনি আমার পাশে এসে বসলেন । তিনি আমার দেহ স্পর্শ করলে (গলায় ঝুলানো মন্ত্র পড়া) সুতো তার হাতে পড়ল। তিনি বলে উঠলেন, ‘এটা কি?’ আমি বললাম, ‘সুতা পড়া, বাতবিসর্প রোগের জন্য ওতে মন্ত্র পড়া হয়েছে।’ একথা শুনে তিনি তা টেনে ছিঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন, ‘ইবনে মসউদের বংশধর তো শিরক থেকে মুক্ত।’ আমি রাসুল (সঃ) কে বলতে শুনেছি যে, “নিশ্চয় মন্ত্র তন্ত্র, তাবীয কবচ এবং যোগ যাদু ব্যবহার করা শিরক।” জয়নাব (রঃ) বলেন, আমি বললাম, ‘কিন্তু একদা আমি বাইরে বের হলাম। হটাৎ করেই আমাকে অমুক লোক দেখে নিল। অতঃপর আমার যে চোখটা ঐ লোকের দিকে ছিল সেই চোখটায় পানি ঝরতে লাগলো। এর পর যখনই আমি ঐ চোখে মন্ত্র পড়াই, তখনই পানি ঝরা বন্ধ হয়ে যায়। আর যখনই না পড়াই, তখনই পানি ঝরতে শুরু করে। (অতএব বুঝা গেল যে, মন্ত্রের প্রভাব আছে।)’ ইবনে মসউদ (রঃ) বললেন, “ওটা তো শয়তানের কারসাজি। যখন তুমি ( মন্ত্র পড়িয়ে ) ওর অনুগত্য কর, তখন সে ছেড়ে দেয়। (এবং তোমার চোখে পানি আসে না)। আর যখনই তুমি তার অনুগত্য কর না, তখনই সে নিজ আঙ্গুল দ্বারা তোমার চোখে খোঁচা মারে ( এবং তার ফলে তাতে পানি আসে, যাতে তুমি মন্ত্রকে বিশ্বাস কর এবং শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়)। তবে যদি তুমি সেই কাজ করতে, যা আল্লাহর রাসুল (সঃ) করেছেন, তাহলে তা তোমার জন্য উত্তম ও মঙ্গল হতো এবং অধিকরূপে আরোগ্য লাভ করতে। আর তা এক যে, চোখে পানি ছিটাতে এবং বলতে, “আযহিবিল বা’স, রাব্বানা-স, ইসফি আন্তাস শা- ফী, লা সিফা-আ ইল্লা সিফ-উক, সিফা-আল লা য়্যুগা-দিরু সাকামা।” (ইবনে মাজাহ ৩৫৩১ নং, সিলসিলাহ সহিহাহ ৩৩১ নং) “আল্লাহর রাসুল (সঃ) এর নিকট (বাইয়াত করার উদ্দেশ্য) ১০ জন লোক উপস্থিত হল। তিনি ন’জনের নিকট থেকে বাইয়াত নিলেন। আর মাত্র একজন লোকের নিকট হতে বাইআত নিলেন না। সকলে বলল, ‘হয়ে আল্লাহর রাসুল! আপনি ন’জনের বাইয়াত গ্রহণ করলেন, কিন্তু এর করলেন না কেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, “ওর দেহে কবচ রয়েছে তাই।” অতঃপর সে নিজ হাতে তা ছিঁড়ে ফেলল। সুতরাং তার নিকট থেকেও বাইয়াত নিলেন এবং বললেন, “যে ব্যক্তি কবচ লটকায়, সে ব্যক্তি শিরক করে।” ( আহমাদ, হাকেম, সিলসিলাহ সহিহাহ ৪৯২ নং) (৩) কুরআনের আয়াত বা হাদিসের দুয়া লিখে বানানো তাবীয। এই শ্রেণীর তাবীয শিরক না হলেও ব্যবহার বৈধ নয়। কারণ (ক) মহানবী (সঃ) ব্যাপকার্থ বোধক ভাষায় বলেছেন, ‘তাবীয শিরক।’ (খ) এর বৈধতা ও ব্যবহার প্রচলিত হলে শিরকী তাবীযের চোরা পথ খোলা যাবে। (গ) এই তাবীযের মাধ্যমে কুরআন ও আল্লাহর নামের অসম্মান হবে। যেহেতু ব্যবহারকারী তা দেহে রেখেই প্রস্রাব পায়খানা ও সঙ্গম করবে এবং মহিলারা মাসিক অবস্থায় তা বেঁধেই রাখবে। (লাজনাহ দায়েমাহ)
ঝাড়ফুঁক করা অ করানো বৈধ। তবে তা কুরআনের আয়াত অথবা সহিহ হাদিসের দুয়া দ্বারা হতে হবে। সেই সাথে এ বিশ্বাস দৃঢ় রাখতে হবে যে, আরোগ্যদাতা কেবল মহান আল্লাহ। নবী (সঃ) আপন পরিবারের কোন রোগী দর্শন করার সময় নিজের ডান হাত তার ব্যথার স্থানে ফিরাতেন এবং এ দুয়াটি পরতেন, “আযহিবিল বা’স, রাব্বানা-স, ইসফি আন্তাস শা- ফী, লা সিফা-আ ইল্লা সিফ-উক, সিফা-আল লা য়্যুগা-দিরু সাকামা।” অর্থাৎ, হয়ে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! তুমি কষ্ট দুর কর এবং আরোগ্য দান কর। (যেহেতু) তুমি রোগ আরোগ্যকারী। তোমারই আরোগ্য দান হচ্ছে প্রকৃত আরোগ্য দান। তুমি এমন ভাবে রোগ নিরাময় কর, যে তা রোগকে নির্মূল করে দেয়। (বুখারি ও মুসলিম) উসমান ইবনে আবুল আ’স (রঃ) রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট ঐ ব্যথার অভিযোগ করলেন, যা তিনি তার দেহে অনুভব করছিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সঃ) তাকে বললেন, “তুমি তোমার দেহের ব্যথিত স্থানে হাত রেখে তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ এবং সাতবার ‘আউযু বিইযযাতিল্লাহি অকদরাতিহি মিন সাররি মা আজিদু অউহাযিরু’ বল।” অর্থাৎ আল্লাহর ইজ্জত এবং কুদরতের আশ্রয় গ্রহণ করছি, সেই মন্দ থেকে যা আমি পাচ্ছি এবং যা থেকে আমি ভয় করছি। (মুসলিম) উক্ত হাদিস দ্বয় থেকে বুঝা যায় যে, ব্যথার স্থানে হাত রেখে ঝাড়ফুঁক করা বিধেয়। তবে সতর্কতার বিষয় যে, যে মহিলাকে স্পর্শ করা বৈধ নয়, সে মহিলার ব্যথার জায়গায় হাত রাখাও বৈধ নয়।
না কারণ মহানবী (সঃ) সাহাবা গণকে বলেছিলেন, “তোমরা তোমাদের ঝাড়ফুঁকের মন্ত্র গুলি আমার নিকট পেশ কর। ঝাড়ফুঁক করায় দোষ নেই, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে।” (মুসলিম) আর মুশরিক আর অমুসলিমরাতো শিরকী মন্ত্র পরেই ঝাড়ফুঁক করে।
পানি পড়া বৈধ। যেহেতু কুরআন পড়ার বরকত মিশ্রিত ফুঁক ও থুথু, সেহেতু তাতে আরোগ্য লাভের আশা করা যায় এবং তা আপত্তিকর নয়।

ঝাড়ফুঁক করে কি পয়সা নেওয়া বৈধ?

আবদুলহামীদফাইযী
Mar 5, 06:26 AM
বৈধ। আবু সাইদ খুদরী ল বলেন, নবী (সঃ) এর কিছু সাহাবা আরবের কোন এক বসতিতে এলেন। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দারা তাঁদেরকে মেহমান রূপে বরন করল না (এবং কোন খাদ্যও পেশ করল না)। অতঃপর তারা সেখানে থাকা অবস্থায় তাঁদের সর্দারকে (বিচ্ছুতে) দংশন করল। তারা বলল, ‘তোমাদের কাছে কি কোন ঔষধ অথবা ঝাড়ফুঁক কারী (ওঝা) আছে?’ তারা বললেন, ‘তোমরা আমাদেরকে মেহমান রূপে বরন করেলে না। সুতরাং আমরাও পারিশ্রমিক ছাড়া (ঝাড়ফুঁক) করব না।’ ফলে তারা এক পাল ছাগল পারিশ্রমিক নির্ধারিত করল। একজন সাহাবি উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) পড়তে লাগলেন থুথু জমা করে (দংশনর জায়গায়) দিতে লাগলেন। সর্দার সুস্থ হয়ে উঠল। তারা ছাগলের পাল হাজির করল। তারা বললেন, ‘আমরা নবী (সঃ) কে জিজ্ঞাসা না করে গ্রহণ করব না।’ সুতরাং তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি হেসে বললেন, “তোমাকে কিসে জানালো যে, ওটি ঝাড়ফুঁকের মন্ত্র?” ! ছাগলগুলি গ্রহণ কর এবং আমার জন্য একটি ভাগ রেখো। “ (বুখারিঃ ৫৭৩৬ নং)

তাবীয দিয়ে পয়সা খাওয়া কি হালাল?

আবদুলহামীদফাইযী
Mar 5, 06:25 AM
উত্তরঃ ইসলামে যা হারাম, তার ব্যবসা করা এবং তার বিনিময়ে পয়সা খাওয়া হারাম। ইসলামে মদ হারাম, তা বিক্রি করাও হারাম। আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেছেন, “মদ পানকারীকে, মদ পরিবেশনকারীকে, তার ক্রেতা ও বিক্রেতাকে, তার প্রস্তুতকারককে, যার জন্য প্রস্তুত করা হয় তাকে ,তার বাহককে ও যার জন্য বহন করা হয় তাকে আল্লাহ অভিশাপ করেছেন।” (আবু দাউদ ৩৬৭৪, ইবনে মাজাহ ৩৩৮০ নং) (আবু দাউদ ৩৬৭৪, ইবনে মাজাহ ৩৩৮০ নং) ইবনে মাজার বর্ণনায় আছে, “তা মূল্য ভক্ষণকারী ও (অভিশপ্ত)।”(সহিহুল জা’মে ৫০৯১ নং)
উলামাগন এই শ্রেণির অনুমতি দিয়েছেন। দ্রষ্টব্যঃ জাদুল মাআদ। (লাজনাহে দায়েমাহ) অনুরূপ কাগজে লিখে পানিতে চুবিয়ে তা পান করার অনুমতিও। (সাফা)
জবেহর মাধ্যমে জীনকে সন্তষ্ট করে তাকে সরে যেতে বলা শিরক। যেহেতু আল্লাহ ছাড়া আর কারোর সন্তুষ্টি লাভের জন্য জবেহ বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেন, বল, “ নিশ্চয় আমার নামায, আমার উপাসনা (কুরবানি), আমার জীবন, আমার মরণ, বিশ্ব-জগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।” (আনআমঃ ১৬২) আর নবী (সঃ) বলেছেন, “আল্লাহ তাকে অভিশাপ করেন (বা করুন), যে গায়রুল্লাহর জন্য জবেহ করে।” (মুসলিম ১৯৭৮ নং)
না। আলেম হওয়া জরুরী নয়। যিনি কুরআন ও দুয়া জানেন তিনিই ঝাড়ফুঁক করতে পারেন। পরহেজগার মানুষের ঝাড়ফুঁক তাসির আছে।